আগামীর সময়ে বাস্তব সাংবাদিকতার পাঠ নিলেন এআইইউবির শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২৬

আগামীর সময়ে বাস্তব সাংবাদিকতার পাঠ নিলেন এআইইউবির শিক্ষার্থীরা

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৭ জুলাই ২০২৬ : শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক পাঠের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ই একজন দক্ষ সাংবাদিক গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন (জেএমসি) বিভাগের বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত জাতীয় দৈনিক আগামীর সময়–এর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন।

সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে সম্পাদনা, পৃষ্ঠা পরিকল্পনা, অনলাইন প্রকাশ এবং মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরির পুরো প্রক্রিয়া সরেজমিনে দেখে তারা বাস্তব সাংবাদিকতার নানা দিক সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই শিক্ষা সফরে অংশ নেন বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা। তাদের নেতৃত্ব দেন জেএমসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফরোজা সোমা। বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের ‘প্রায়োগিক শিক্ষণ’ (Experiential Learning)-এর অংশ হিসেবে এই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়।

পরিদর্শনের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা আগামীর সময়–এর বার্তা কক্ষ (নিউজরুম), রিপোর্টিং বিভাগ, অনলাইন ডেস্ক, মাল্টিমিডিয়া ইউনিট এবং সম্পাদকীয় বিভাগ ঘুরে দেখেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা শিক্ষার্থীদের সামনে সংবাদ উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ তুলে ধরেন। কীভাবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সংবাদ প্রস্তুত করা হয়, ভাষা ও তথ্যগত শুদ্ধতা নিশ্চিত করে সম্পাদনা সম্পন্ন হয় এবং শেষ পর্যন্ত মুদ্রণ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের মাধ্যমে সংবাদ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়—এসব বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা নিউজরুমের ব্যস্ত কর্মপরিবেশ, নির্ধারিত সময়সীমার (ডেডলাইন) মধ্যে সংবাদ প্রস্তুতের চাপ, সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। সাংবাদিকতার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এটি ছিল পাঠ্যবইয়ের বাইরে বাস্তব কর্মজগতকে কাছ থেকে দেখার এক ব্যতিক্রমী সুযোগ।

পরিদর্শন শেষে আগামীর সময়–এর কনফারেন্স কক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন পত্রিকাটির সম্পাদক মোস্তফা মামুন। তিনি সাংবাদিকতা পেশার বর্তমান বাস্তবতা, পেশাগত নৈতিকতা, তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব, প্রযুক্তিনির্ভর সংবাদ পরিবেশনা এবং ডিজিটাল যুগে গণমাধ্যমের পরিবর্তিত চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

Manual8 Ad Code

মোস্তফা মামুন বলেন, “সাংবাদিকতা শুধু ক্লাসরুমের চার দেয়ালের তাত্ত্বিক পড়ালেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রকৃত শিক্ষা পাওয়া যায় মাঠে এবং একটি কর্মব্যস্ত নিউজরুমে। বাস্তব অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের গণমাধ্যমের নেতৃত্ব দেবে। তাই শুধু পাঠ্যবই নয়, দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনা, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং নতুন মিডিয়ার বিকাশ সম্পর্কে নিয়মিত জানার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একজন ভালো সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কৌতূহল, সততা, তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।”

মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা সমকালীন সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব, সংবাদপত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা, প্রিন্ট থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তর, সাংবাদিকতায় কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন। সম্পাদক মোস্তফা মামুন প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সহজ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের পেশাগত প্রস্তুতির বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আগামীর সময়–এর বার্তা সম্পাদক জুয়েল মোস্তাফিজ এবং প্রধান প্রতিবেদক জাকির হোসেন লিটন। তারা মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিংয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সংবাদ সংগ্রহের কৌশল, তথ্যসূত্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, তথ্য যাচাই, সংবাদ সম্পাদনার ধাপ এবং একটি মানসম্মত প্রতিবেদন তৈরির নেপথ্যের নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন।

Manual5 Ad Code

তারা বলেন, বর্তমান সময়ে একজন সাংবাদিককে শুধু লেখালেখিতেই দক্ষ হলে চলবে না; ছবি, ভিডিও, মোবাইল জার্নালিজম, ডেটা সংগ্রহ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট প্রকাশের দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এআইইউবির জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফরোজা সোমা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে আমরা তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিই। একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সরাসরি দেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে পেশাজীবনে আরও প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকতা একটি ব্যবহারিক পেশা। তাই শ্রেণিকক্ষের পাঠের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার সমন্বয় না হলে একজন শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ দক্ষতা তৈরি হয় না। এ ধরনের শিক্ষা সফর সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

পরিদর্শনে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সংবাদ তৈরির পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি দেখার সুযোগ তাদের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় ছিল। বিশেষ করে নিউজরুমের কর্মব্যস্ত পরিবেশ, বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত কাজ এবং ডেডলাইনের মধ্যে সংবাদ প্রকাশের প্রক্রিয়া দেখে তারা সাংবাদিকতা পেশার বাস্তবতা সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি অর্জন করেছেন। অনেকেই বলেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে সাংবাদিকতা পেশায় কাজ করার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Manual5 Ad Code

পরিদর্শন শেষে জেএমসি বিভাগের পক্ষ থেকে আগামীর সময় কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং তা দেশের গণমাধ্যমের জন্য দক্ষ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার নতুন প্রজন্মের সাংবাদিক গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Manual5 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ