গোপালগঞ্জে পাঁচদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু

প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২৬

গোপালগঞ্জে পাঁচদিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | গোপালগঞ্জ, ১৭ জুলাই ২০২৬ : দেশব্যাপী পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে গোপালগঞ্জে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ মেলা চলবে আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত।

শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) গোপালগঞ্জ নার্সিং কলেজের প্রশাসনিক ভবনের অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শোভন সরকার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ ধবলী জয়দর এবং গোপালগঞ্জ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সরকারি কলেজের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর (ইনচার্জ) গীতা রানী বিশ্বাস। এছাড়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলার স্টল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বই বিক্রির পাশাপাশি প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পাঠ-আলোচনা এবং সাহিত্যভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ইউনিটের ইনচার্জ এনাম হোসেন মোড়ল। তিনি বলেন, “দেশব্যাপী এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলার মূল লক্ষ্য হলো পাঠচর্চার প্রসার এবং মননশীল সমাজ গঠন। বইকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা চাই, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঠপ্রেমী মানুষও যেন সহজেই মানসম্মত বইয়ের নাগাল পান।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার প্রবণতা আগের তুলনায় কমে গেলেও একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে বইয়ের বিকল্প নেই। এ বাস্তবতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা তরুণদের বইমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বক্তারা এ ধরনের উদ্যোগ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

Manual1 Ad Code

মেলায় দেশসেরা বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার বই স্থান পেয়েছে। শিশু-কিশোর সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন, গল্প-উপন্যাস, কবিতা, সমকালীন সাহিত্য, আত্মউন্নয়ন ও গবেষণাধর্মী গ্রন্থসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিপুলসংখ্যক বই প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগেরও সুযোগ পাচ্ছেন।

Manual1 Ad Code

মেলাকে ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসে বই সংগ্রহের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের পরিবেশ নতুন প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় পর্যায়ে মেলার আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করছে জেলা প্রশাসন, গোপালগঞ্জ। আয়োজকদের প্রত্যাশা, শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদের পাঠক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত বই সহজলভ্য করার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।

Manual6 Ad Code

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ বইমেলা, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বই পড়া কর্মসূচি, মুক্তপাঠ, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির এসব উদ্যোগ পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির পাশাপাশি মুক্তচিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সৃজনশীল সমাজ নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল যুগে বইয়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং তরুণ প্রজন্মকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ বইমেলা একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ। গোপালগঞ্জের এ আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতায় পাঠচর্চা ও সাংস্কৃতিক জাগরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

Manual8 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠক, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা-এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান এক প্রতিক্রিয়ায় মেলার সফলতা কামনা করে বলেন, “আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের হাত ধরে ১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। গত ৪৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীন চিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ গড়ার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি প্রতিক্রিয়ায় আরও বলেন, “বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কোনো প্রচলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার এক প্রাণবন্ত অঙ্গন। অনুসন্ধিৎসু, পাঠপ্রিয় ও সৌন্দর্যবোধসম্পন্ন মানুষের মিলনস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বই পড়া, সাহিত্যচর্চা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”

গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত ভ্রাম্যমাণ বইমেলা সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্ম ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ‘আলোকিত মানুষ গড়ার’ আন্দোলন আরও বেগবান হবে।”

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ