শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২৬

শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৩ আগস্ট ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় অবৈধ শাড়ি ও বিপুল পরিমাণ প্রসাধনীসামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‍্যাব ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টাস্কফোর্স।

শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তপথে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের পর পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল এসব ভারতীয় পণ্য।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধভাবে আমদানি করা পণ্যের পাচার বন্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

২২ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি), হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি), র‍্যাব ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টাস্কফোর্সের একটি বিশেষ দল রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালায়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মাহবুবুল হক। জেলা প্রশাসনের পক্ষে অভিযানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভারতীয় অবৈধ পণ্যের একটি চালান শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকায় আসার তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ টাস্কফোর্সের সদস্যরা স্টেশন এলাকায় অবস্থান নেন এবং তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীসামগ্রী জব্দ করা হয়।

Manual5 Ad Code

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা পণ্যগুলোর সিজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। তবে জব্দকৃত পণ্যের সুনির্দিষ্ট তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে।

বিজিবি সূত্র আরও জানায়, জব্দ করা পণ্যগুলো বৈধ আমদানি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দেশে প্রবেশ করানো এবং পরবর্তী সময়ে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় পণ্যগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি আটক হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

জব্দকৃত ভারতীয় শাড়ি ও প্রসাধনীসামগ্রী বর্তমানে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী এসব পণ্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Manual8 Ad Code

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ এবং বিভিন্ন রুটে পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলপথও চোরাকারবারিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এ কারণে সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি রেলস্টেশন, পরিবহনকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগস্থাপনাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। চোরাচালানবিরোধী সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ শাড়ি ও প্রসাধনীসামগ্রী জব্দের ঘটনায় সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সমন্বিত তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিজিবি, র‍্যাব ও প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিচালিত এ ধরনের যৌথ অভিযান চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জব্দ করা পণ্যের বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Manual6 Ad Code