শ্রীমঙ্গলে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নতুন কমিটির পরিচিতি সভা

প্রকাশিত: ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নতুন কমিটির পরিচিতি সভা

Manual5 Ad Code
  • মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে আপসহীন থাকার প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৮ আগস্ট ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের উপজেলা শাখার নবগঠিত কার্যকরী কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ, নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে মানবাধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রত্যয় নিয়ে সংগঠনটির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও পরিচিতি উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ রোডস্থ রিজিক রেস্টুরেন্ট পার্টি সেন্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের নবগঠিত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি শাহ্ মসুদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির আহমদ।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সনাক (শ্রীমঙ্গল)-এর সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘আমার সিলেট’ (amarsylhet24.com)-এর সম্পাদক মো. আনিছুল ইসলাম আশরাফী, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি ইসমাইল মাহমুদ, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ ছায়েদ আহমদ, আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজার জেলা শাখার প্রস্তাবিত সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সবুজ এবং সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি ফারুক খান। অনুষ্ঠানে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে নবগঠিত কার্যকরী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়।

Manual7 Ad Code

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানবাধিকার রক্ষা কেবল একটি সংগঠন বা নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষের দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় যথাযথভাবে পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, একজন মানবাধিকারকর্মীকে প্রথমে নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে অন্যের অধিকারকে সম্মান করা, ধৈর্য ধারণ, আত্ম-উপলব্ধি, ক্ষমাশীলতা এবং নীতি-নৈতিকতায় অটল থাকার মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে অসহায়, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করাই একজন প্রকৃত মানবাধিকারকর্মীর মূল দায়িত্ব।

সভায় বক্তারা বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করতে হলে শুধু পরিচয় বহন করলেই হবে না, একজনকে প্রকৃত অর্থে মানবাধিকারকর্মী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানুষের অধিকার, দায়িত্ব ও সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অধিকারবঞ্চিত মানুষের কথা শোনা এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, সমাজে নানা কারণে মানুষ অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে অসহায়, দরিদ্র, নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকেই নিজেদের অধিকার সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে অবগত নন। এ কারণে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং প্রয়োজনে আইনগত ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানো।

তারা বলেন, মানবাধিকার রক্ষার নামে কোনো ধরনের অন্যায়, অনিয়ম বা পক্ষপাতকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সত্য, ন্যায়, নীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা অন্য কোনো প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

Manual1 Ad Code

সভায় বক্তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে সংগঠনের নতুন কমিটিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সমাজের অসহায় মানুষের সেবা, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় মানবাধিকার সুরক্ষা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বা কোনো ব্যক্তি নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মানুষের অধিকার রক্ষায় সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করবে বলেও তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাহ্ মসুদ আহমদ। সিনিয়র সহসভাপতি এম এ করিম, সহসভাপতি উত্তম রায় ও মো. এনামুল হক ছোটন। সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শিহাব আহমেদ নোমান এবং সহসাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মুফতী আবিদুর রহমান সিরাজী।

কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক মো. রাজিব মিয়া, আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. মাকছুদুর রহমান, অর্থ ও প্রবাসী বিষয়ক সম্পাদক পিযুষ আলোক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এনায়েত ভূঁইয়া মারুফ এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক শেখ সাব্বির রহমান মধু।

এ ছাড়া তথ্য, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান আকতার সাইফুল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ক্বারী মোশাহিদ আহমদ, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক পারভীন আক্তার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান মানিক, তদন্ত বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সামাদ মাসুদ, ক্রীড়া, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শ্রী রাধাকান্ত দেব এবং শ্রম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. ছাইফুর রহমান। নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন সনাতন দেবনাথ।

Manual7 Ad Code

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবগঠিত কমিটির সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু আইন ও নীতিমালা থাকাই যথেষ্ট নয়; মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ন্যায়বোধ গড়ে তুলতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষ যাতে নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারে এবং অন্যের অধিকারকেও সম্মান করে—সেই পরিবেশ তৈরিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সবশেষে নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং নিপীড়িত, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব শ্রীমঙ্গলে মানবাধিকার সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার মাধ্যমে একটি সচেতন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।

Manual8 Ad Code