ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান না করার অজুহাত!

প্রকাশিত: ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান না করার অজুহাত!

Manual8 Ad Code

মনিরুল ইনসাইডার |

বিমস্টেকের সভাপতি হিসেবে নিদিষ্ট কোনো ব্যক্তি কিংবা দেশের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করা হয় না। বরং বিমস্টেকের সদস্যভুক্ত ৭টি দেশের মধ্যে প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর একটি দেশ সভাপতিত্ব পায়। বর্তমানে বাংলাদেশ দুই বছরের জন্য সভাপতি। অর্থাৎ বাংলাদেশ যেহেতু সভাপতি তাহলে বিমস্টেকের সভাপতি আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Manual3 Ad Code

ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে বিমস্টেক সভাপতি হিসেবে দাওয়াত দিয়েছে ভারত। কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাওয়াত করেনি বলে ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান করেননি।

বিমস্টেক সভাপতি হিসেবে দাওয়াত দেওয়া মানেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দেওয়া, এখানে পার্থক্য কোথায়? তারপর আবার বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য দেশ নয়। আসলে কারণ অন্য জায়গায়, সরকার শুধু এই বক্তব্য দিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান না করার অজুহাত খুঁজেছে।

Manual2 Ad Code

চলুন আসল কারণ জানি-

ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ নামক চুক্তি সাক্ষর করে সেই চুক্তির ৪.২ আর্টিকেলে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল,‘যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের ওপর জাতীয় নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে সীমান্ত নিষেধাজ্ঞা বা কোনো বাণিজ্যিক কড়াকড়ি আরোপ করলে, ঢাকাকেও তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অনুরূপ বা পরিপূরক বিধিনিষেধ গ্রহণ করতে হবে।’

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে এমন দেশের সাথে বাংলাদেশ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখতে পারবে না। স্পষ্ট করে বলতে গেলে, রাশিয়া ও ইরানের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখতে পারবে না।

Manual8 Ad Code

প্রথমত ব্রিকসের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাশিয়া, এবার আবার ইরান অতিথি হিসেবে যোগদান করেছে। দ্বিতীয়তো এবারের দিল্লি ব্রিকস সম্মেলনে একটি ঘোষণা আসবে এটি মোটামুটি সবারই জানা ছিল। এটি হলো, ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে ডলারের বিকল্প মুদ্রা হিসেবে নিজস্ব মুদ্রা দিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ। হ্যাঁ, তাই হয়েছে। ব্রিকসের ১৮তম নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্রে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য পরিচালনার জোর দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চীনের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছে, “কোনো দেশের বাণিজ্য আটকে রাখা বা বাধা দেওয়া যাবে না।”

অর্থাৎ বাংলাদেশ যদি ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতো তাহলে ব্রিকস সম্মেলনে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সিদ্ধান্তের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলার দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হতো ও রাশিয়া ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হতো। কিন্তু ড. ইউনূস বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকার কাছে বর্গা দিয়ে রেখেছে, তাহলে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে কেমনে! অংশগ্রহণ করলেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে যাবে।

এটিই হলো ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের যোগদান না করার প্রকৃত কারণ। বিমস্টেকের সভাপতিকে দাওয়াত দিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দেয়নি; এই বলে যে নাটক আপনাদের সামনে তুলে ধরছে সরকার। এটি প্রকৃত কারণ নয়, এটি কেবল নাটক। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
#
মনিরুল ইনসাইডার
(১৩-৯-২০২৬)

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ