চিকিৎসার জন্য চেন্নাই গেলেন কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২৬

চিকিৎসার জন্য চেন্নাই গেলেন কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

Manual3 Ad Code
  • ফুসফুসের জটিলতা নির্ণয় ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৫ জুন ২০২৬ : বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি এবং বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতের চেন্নাইয়ে গেছেন।

ফুসফুসজনিত জটিলতায় দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

Manual5 Ad Code

সিপিবি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও রোগের প্রকৃতি ও অন্তর্নিহিত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। দেশে চিকিৎসা চলমান থাকলেও কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা দ্রুত পাওয়ার লক্ষ্যে তাঁকে চেন্নাইয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অসুস্থতার শুরু ও চিকিৎসার ধারাবাহিকতা

গত ৭ জুন সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালে কমরেড সেলিম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান-এর তত্ত্বাবধানে তাঁর প্রয়োজনীয় হৃদরোগ-সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়। পরবর্তী পর্যায়ে চিকিৎসকরা তাঁর শ্বাসযন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যার লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান।

চিকিৎসা চলাকালে তাঁর শরীরে নিউমোনিয়া শনাক্ত হয়। একইসঙ্গে ফুসফুসের চারপাশে তরল জমার সমস্যা (Pleural Effusion) ধরা পড়ে। এ অবস্থায় তাঁকে রাজধানীর আরেকটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে অধ্যাপক ডা. এম. দেলোয়ার হোসেন-এর তত্ত্বাবধানে জমে থাকা তরল অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নতুন জটিলতা: নিউমোথোরাক্স ও আংশিক ফুসফুস চুপসে যাওয়া

চিকিৎসার অংশ হিসেবে ফুসফুসে জমে থাকা তরল অপসারণের সময় একটি জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে ফুসফুস ও বক্ষপ্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে বাতাস প্রবেশ করে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় নিউমোথোরাক্স (Pneumothorax) নামে পরিচিত।

Manual7 Ad Code

এর ফলে তাঁর ফুসফুসের একটি অংশ আংশিকভাবে চুপসে যায় (Partial Lung Collapse)। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তীতে অধ্যাপক ডা. মিলন কিবরিয়া-এর তত্ত্বাবধানে গত ১৩ জুন রাত ৮টায় টিউব থোরাকোস্টমি (Tube Thoracostomy) নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়।

আরও উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কমরেড সেলিমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও রোগের মূল কারণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে কয়েকটি উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

Manual2 Ad Code

চিকিৎসক দলের মতে, বর্তমানে তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু বিশেষায়িত প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা চেন্নাইয়ের উন্নত হাসপাতালগুলোতে সহজলভ্য। সেই বিবেচনায় তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ সেখানে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও শুভকামনা

কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনীতির একজন সুপরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণতন্ত্র, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গন, সাংস্কৃতিক মহল, শ্রমিক-কৃষক সংগঠন এবং প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন সিপিবির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতারা এবং দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কমরেড সেলিমের আশু সুস্থতা কামনা করেছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে পুনরায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

Manual1 Ad Code

দেশবাসীর কাছে দোয়া ও শুভকামনা প্রার্থনা

সিপিবি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণসংগঠন ও শ্রেণিপেশার নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সহযোদ্ধারা এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সুস্থতা ও দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া ও শুভকামনা কামনা করা হয়েছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, চেন্নাইয়ে পৌঁছানোর পর তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিতভাবে দেশবাসীকে অবহিত করা হবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনের এক প্রবীণ ও সংগ্রামী ব্যক্তিত্বের সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন মহল থেকে যে আন্তরিকতা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, তা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতি জনগণের আস্থা ও শ্রদ্ধারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ