ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক এমপি মো. ইলিয়াসের সহধর্মিনী বেগম মনোয়ারা আর নেই

প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৬

ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক এমপি মো. ইলিয়াসের সহধর্মিনী বেগম মনোয়ারা আর নেই

Manual7 Ad Code

সৈয়দ আরমান জামী, বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ : জাতিগত নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনগণের সামগ্রিক মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত প্রাণ, ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে ‘৫২-এর রক্তস্নাত আন্দোলনের মহান সংগঠক ও ভাষা সৈনিক, প্রগতিশীল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (ইপসু)-এর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, ‘৭১-এর সশস্ত্র স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং সাবেক এমএলএ ও এমপি মো. ইলিয়াসের সহধর্মিনী বেগম মনোয়ারা ইলিয়াস আর নেই। (ইন্না লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

Manual6 Ad Code

তিনি রবিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) আনুমানিক রাত ৯.১৫ ঘটিকায় বার্ধক্যজনিত কারণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কলেজ রোডস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।

Manual3 Ad Code

মরহুমের জানাজার নামাজ সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) বাদ আছর শ্রীমঙ্গল থানা জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হইবে।

তার স্বামী আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক অঙ্গনের গুরু এবং প্রথিতযশা রাষ্ট্রচিন্তাবিদ মোঃ ইলিয়াস সাহেব বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন।

তাঁর একমাত্র ছেলে ও বড় মেয়ে আগেই মৃত্যু বরণ করেছেন। বাকি ৫ মেয়ে মাকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন।

Manual6 Ad Code

এক ভাই শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম নেতা, একাধিকবার নির্বাচিত পৌর কমিশনার মরহুম শহিদুল আলম, ছোট ভাই শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আশরাফুল আলম সার্বিক তদারকিতে রয়েছেন। অন্যরা প্রয়াত হয়েছেন।

Manual4 Ad Code

ওয়ার্কার্স পার্টির শোক

সামগ্রিক মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত প্রাণ, ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে ‘৫২-এর রক্তস্নাত আন্দোলনের মহান সংগঠক ও ভাষা সৈনিক, প্রগতিশীল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (ইপসু)-এর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, ‘৭১-এর সশস্ত্র স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং সাবেক এমএলএ ও এমপি মোঃ ইলিয়াসের সহধর্মিনী বেগম মনোয়ারা ইলিয়াসের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল।

সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শোক

সামগ্রিক মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত প্রাণ, ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবীতে ‘৫২-এর রক্তস্নাত অান্দোলনের মহান সংগঠক ও ভাষা সৈনিক, প্রগতিশীল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (ইপসু)-এর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, ‘৭১-এর সশস্ত্র স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং সাবেক এমএলএ ও এমপি মোঃ ইলিয়াসের সহধর্মিনী বেগম মনোয়ারা ইলিয়াসের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “বেগম মনোয়ারা ইলিয়াসের স্বামী মো. ইলিয়াস সাহেব বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনীতির ইতিহাসে অনন্য এই ব্যক্তিত্ব ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে সাম্রাজ্যবাদ, স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ছাত্র রাজনীতির সংগঠক হিসেবে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠা ও বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মরহুম মোহাম্মদ ইলিয়াস প্রগতিশীল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (ইপসু)-এর কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
মোহাম্মদ ইলিয়াস ১৯২৯ সালের ১ অক্টোবর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুশালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৪৮ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তিনি শোষণবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৬৯ সালে তিনি প্রথম এমএলএ নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পরও তিনি একাধিকবার মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শ্রীমঙ্গলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার পর মোহাম্মদ ইলিয়াসের নেতৃত্বে এলাকায় সংগঠিত হয় প্রবল রাজনৈতিক চর্চা ও ছাত্র আন্দোলন। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এ নেতা আওয়ামী লীগের মৌলভীবাজার জেলার সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করেন।”
কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “শোষণমূলক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার পরিবর্তনে তিনি যে রাজনীতি শুরু করেছিলেন, সেই ধারাকে অনুসরণ করাই আমাদের সামনে একমাত্র পথ।
ত্যাগ ও প্রগতির প্রতীক এই নেতা শ্রীমঙ্গলের শ্যামল মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। তার আদর্শ, মানবিকতা ও সংগ্রামী চেতনা আজও এলাকার মানুষের মুখে মুখে বেঁচে আছে।”

এছাড়াও তাঁর মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা শাখার সম্পাদক তাপস ঘোষ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি দেওয়ান মাসুকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দীন এবং শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি শেখ জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক রোহেল আহমদ, বাংলাদেশ যুবমৈত্রীর শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি জামাল মুশরাফিয়া ও বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অজিত বোনার্জি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ