শহীদ পবন কুমার তাঁতী স্মরণে শ্রীমঙ্গলে অালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০

শহীদ পবন কুমার তাঁতী স্মরণে শ্রীমঙ্গলে অালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Manual5 Ad Code

সৈয়দ অারমান জামী, বিশেষ প্রতিনিধি || শ্রীমঙ্গল, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ : চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম গ্রাজুয়েট, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ‘৭১-এর শহীদ পবন কুমার তাঁতী স্মরণে শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট চা বাগানে সকালে পুস্প স্তবক অর্পন ও শোভাযাত্রা এবং সন্ধ্যায় অালোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৫ ডিসেম্বর ২০২০ শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজঘাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অায়োজিত এ স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সুদর্শন শীল।

রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয় বুনার্জীর সভাপতিত্বে ও রিপন বুনার্জীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান; বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ধনঞ্জয় গোয়ালা, ধীমান চন্দ্র বসাক, শহীদ সন্তান স্বপন কুমার তাঁতী, ইউনিভার্সিটি টি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশান (উৎস)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষা বিষয়ক দিক নির্দেশক মোহন রবিদাশ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পংকজ এ কন্দ, রানার স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক শয়ন তাঁতী, খেজুরীছড়া চা বাগানের নবজাগরণ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ, ইউনিভার্সিটি টি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশান (উৎস)-এর সদস্য সুজন রবিদাস, সেলিম অাহমদ, হেমন্ত তাঁতী, শহীদের দৌহিত্র পল্লব তাঁতী, সুমন তাঁতী ও মন্টি বুনার্জী প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের মধ্যে প্রথম গ্রাজুয়েট, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ‘৭১-এর ৫ ডিসেম্বর পবন কুমার তাঁতী শহীদ হন। তাঁর এই অসামান্য অবদান ও অাত্মদান সরকারিভাবে স্বীকৃতি না পাওয়া দুঃখজনক। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

Manual5 Ad Code

শহীদ পবন কুমার তাঁতী বিকম পাস করেছিলেন। চা-শ্রমিকদের সকলের কাছে এটা গর্বের হলেও কর্তৃপক্ষ ব্যাপারটা পছন্দ করেনি।

Manual2 Ad Code

কেননা বাগানে শিক্ষার বিস্তার তাদের কাছে হুমকিস্বরূপ মনে হয়েছিল। তাছাড়া ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যেটা চা-বাগান কর্তৃপক্ষের নজর এড়ায়নি।

পবন কুমার তাঁতী কমিউনিস্ট নেতা মফিজ আলীর নেতৃত্বাধীন চা শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে চা-বাগান এলাকায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।

একাত্তরের মার্চে পবন তাঁতী ঢাকায় ছিলেন এমএড কোর্স করতে। ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু হলে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন এবং খুব কষ্ট করে বাগানে ফিরে যান।

Manual1 Ad Code

সেখানে যেয়ে তিনি পরিবারের সদস্য ও শ্রমিকদের সাথে যুদ্ধে যাওয়া ও নিরাপদ আশ্রয়ের কথা আলোচনা করেন। তার এই মিটিং-এর কথা পাকসেনাদের কানে যায় এবং একদিন সকালে সেনারা এসে পবন তাঁতীসহ পরিবারের সকলকে লাইনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাদের ঘরে অস্ত্র খুঁজতে থাকে।

Manual4 Ad Code

অস্ত্র না পেয়ে বন্দুকের নল দিয়ে তারা পবন তাঁতীকে আঘাত করে। তবে ঐ দফায় প্রাণে না মেরে তার সার্টিফিকেট ও পুরনো চিঠিপত্রের বাক্স নিয়ে পাকসেনারা চলে যায়।

পবন তাঁতী ইচ্ছা করলেই নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি দেশে থেকে শ্রমিকদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সংগঠিত করার জন্য কাজ করতে থাকেন।

এরই এক পর্যায়ে তিনি কালিঘাট বস্তিতে আসেন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ পবন তাঁতীর উপর নজর রাখতে এবং পাকিস্তানি সেনারা কালিঘাট বস্তিতে এসে তার পরিবারের সদস্যদের উপর অত্যাচার শুরু করলে পরিবারের অন্যদের বাঁচানোর স্বার্থে তার কাকা পবন তাঁতীকে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেন।

তাকে শ্রীমঙ্গল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুমাস ধরে তার উপর চলে অমানবিক নির্যাতন। কখনো চলেছে চাবুক, কখনো গরম ঘেঁকা, কখনো গরম পানি গায়ে ঢেলে দেওয়া, কখনোবা পা উপরে আর মাথা নিচে দিয়ে ঝুঁলিয়ে রাখা হতো।

এভাবে শরীরের সব শক্তি নিঃশেষ হলে ৫ ডিসেম্বর রাতে শ্রীমঙ্গলে ওয়াপদা অফিসের বধ্যভূমিতে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।”

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ