স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, গুণী নাট্যজন ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. ইনামুল হক আর নেই 

প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২১

স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, গুণী নাট্যজন ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. ইনামুল হক আর নেই 

ঢাকা, ১১ অক্টোবর ২০২১ : স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গুণী নাট্যজন ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. ইনামুল হক আর নেই।

রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ সোমবার (১১ অক্টোবর ২০২১) দুপুরে হঠাৎ করে বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ড. ইনামুল হক। পরে ইসলামিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
১৯৪৩ সালে ফেনী সদরের মটবী এলাকায় জন্ম নেন ড. ইনামুল হক। দাম্পত্য সঙ্গী নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক ও প্রৈতি হক।
নাট্যজগতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১২ সালে ড. ইনামুল হক একুশে পদক লাভ করেন। ২০১৭ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে সরকার।
ড. ইনামুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে তিনি অনার্স ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে মানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেন ড. ইনামুল হক। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সময় ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দুর্দান্ত অভিনয়ের পাশাপাশি চমৎকার গল্পের নাটক লিখে গেছেন ড. এনামুল হক। টেলিভিশনের জন্য ৬০টি নাটক লিখেছিলেন তিনি। তার লেখা আলোচিত টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে  ‘সেইসব দিনগুলি’ (মুক্তিযুদ্ধের নাটক), ‘নির্জন সৈকতে’ ও ‘কে বা আপন কে বা পর’।
নাট্যকার হিসেবে ড. ইনামুল হকের পথচলা শুরু ১৯৬৮ সালে। তার প্রথম লেখা নাটক ‘অনেকদিনের একদিন’ বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রচারিত হয়। নাটকটির  প্রযোজনায় ছিলেন আরেক বর্ষীয়ান কিংবদন্তি আবদুল্লাহ আল মামুন।
মঞ্চের জন্য প্রথম নাটক লেখা নাটকের নাম ‘বিবাহ উৎসব’। এটি লিখেছিলেন উদীচীর জন্যে। তার নিজ দল নাগরিক নাট্যাঙ্গনের জন্য প্রথম লেখা নাটকের নাম ‘গৃহবাসী’। মঞ্চ ও টেলিভিশনে অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন ড. ইনামুল হক।

রাষ্ট্রপতির শোক

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক ড. ইনামুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি আজ এক শোক বার্তায় বলেন, ড: ইনামুল হকের মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গণের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে তার অবদান মানুষ দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।’
রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ওয়ার্কার্স পার্টির শোক

স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গুণী নাট্যজন ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. ইনামুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।

সৈয়দ অামিরুজ্জামানের শোক

স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গুণী নাট্যজন ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. ইনামুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ অামিরুজ্জামান।