সাম্প্রদায়িক-সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে: মেনন

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২১

সাম্প্রদায়িক-সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে: মেনন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২১ : “সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলা-মন্দির ভাঙ্গচুরকে কেন্দ্র করে দোষারোপের রাজনীতি ঐসব ঘটনাবলীর সাথে জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের প্রকৃত পরিচয়কেই আড়াল করবে। সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আপোষ করে চলার নীতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অবাধ প্রচার, ধর্মের অপব্যাখ্যা এবং সর্বোপরি অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের অবক্ষয় দেশের মধ্যে যে সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বিস্তার ঘটিয়েছে তাতে কেউই দায়মুক্ত নয়। সাম্প্রদায়িকতা, সাম্প্রদায়িক ঘটনাবলীতেও তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন দলের নেতা কর্মীদের অংশগ্রহণ, ক্ষেত্রবিশেষে নেতৃত্ব প্রদান তার প্রমাণ। এ কারণেই সরকার এর প্রেক্ষিতে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করছেন তাতে একেবারে নির্মোহভাবে দলনির্বিশেষেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ওটা সবার জানা যে জামাত-হেফাজতীরা এই সাম্প্রতিক সময়েও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে যে কোন শৈথিল্যে তারা সুযোগ নেবে।”

আজ শনিবার (১৬ অক্টোবার ২০২১) করোনা প্রতিরোধে শহীদ রাসেল ব্রিগেডের কার্যক্রমের একশ’ দিন উপলক্ষে আয়োজিত ব্রিগেডের স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি একথা বলেন।
করোনা প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে শহীদ রাসেল ব্রিগেডের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, যেভাবে দাবি করা হচ্ছে যে, করোনাকালে একমাত্র ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই জনগণের পাশে ছিল, সেটা ঠিক নয়। ঢাকার রাসেল ব্রিগেডই নয়, রাজশাহীতে শহীদ জামিল ব্রিগেডসহ দেশের ৪০টি জেলায় ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক ব্রিগেডসমূহ বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ, রোগীদের এ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সহায়তা, টিকা গ্রহণের নিবন্ধনে সহায়তাসহ গণসচেতনামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। রাজশাহীতে স্বার্থন্বেষী মহল শহীদ জামিল ব্রিগেডের কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের সচেতনামূলক ব্যানার, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। করোনাার প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রচার, ত্রাণসহায়তা, কৃষকদের ধান কাটায় সহায়তা করেছে ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মীরা। একই সময় স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্নীতি, বেহাল অবস্থারও উম্মোচন করেছে তারা। নেমেছে পাটকল-চিনিকল বন্ধের বিরুদ্ধে, তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনে। মেনন বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি তার সীমিত সামর্থ্যরে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে মানুষের সাথে থেকেছে।

মেনন বলেন, করোনা মহামারির অবসান, বিশেষ করে টিকা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত শহীদ রাসেল ব্রিগেডসহ বিভিন্ন জেলায় ও অঞ্চলে কর্মরত সকল ব্রিগেড তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও প্রাইম এশিয়া বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ্ কামাল। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা কমরেড আবুল হোসাইন। সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর সাধারণ সম্পাদক কমরেড কিশোর রায় এবং বক্তব্য রাখেন মহানগর নেতা ও রাসেল ব্রিগেডের সমন্বয়ক কমরেড সাদাকাত হোসেন খান বাবুল, ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।