জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বেকারত্ব ছাড়া কিছু দিচ্ছে না: শিক্ষা সচিব

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২৫

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বেকারত্ব ছাড়া কিছু দিচ্ছে না: শিক্ষা সচিব

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঠাকুরগাঁও, ১৮ জুলাই ২০২৫ : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত বেকারত্ব ছাড়া কিছুই উপহার দিচ্ছে না—এমন মন্তব্য করেছেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম। প্রত্যেক জেলায় একটি করে সরকারি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

শুক্রবার (১৮ জুলাই ২০২৫) বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ের ইকো ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ইআইইটি) এবং ইকো ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচার (ইআইএ)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষা সচিব বলেন, ৩০ বছর ধরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের যেটা দিয়ে আসছে, তা হলো বেকারত্ব। প্রতি বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৮-১০ লাখ এবং অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে। অথচ চাকরির সুযোগ আছে মাত্র ২ লাখের মতো। এর মানে, প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ শিক্ষিত বেকার তৈরি হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

তিনি আরও বলেন, আমি যদি ক্ষমতায় থাকতাম, প্রথমেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিতাম। কারণ, বাংলা বা পলিটিক্যাল সায়েন্সে অনার্স করা লাখ লাখ তরুণের কোনো প্রয়োজন নেই। বরং যদি তাদের টাইলস লাগানো, ইলেকট্রিক কাজ বা প্লাম্বিং শেখানো হতো, তাহলে তারা দেশে বা বিদেশে চাকরি করতে পারত, উদ্যোক্তা হতেও পারত।

সচিব জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের কোর্সে একটি কারিগরি বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সরকার ভাবছে।

তিনি বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাই ভবিষ্যতের পথ। আমাদের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে দুইটি ভিত্তির ওপর—রেমিট্যান্স ও গার্মেন্টস। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই দুই ভিত্তির বীজ বপন করেছিলেন। তিনি যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় করতেন না, করতেন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি।

জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২৪ সালের এই সময় আমি ছিলাম সিনিয়র সহকারী সচিব, আর আমার বস ছিলেন আমার ১৩ ব্যাচ জুনিয়র। আল্লাহর কৃপায় আমি এখন সচিব। আমি জুলাই বিপ্লবের একজন প্রত্যক্ষ উপকারভোগী।

ইকো ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ড. শহীদ উজ জামানের প্রশংসা করে সচিব বলেন, সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছিল, চাইলে শিক্ষকতা বা রাজনীতি করতে পারত। কিন্তু সে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ বেছে নিয়েছে, যেটা দেশের জন্য বড় অবদান।

কারিগরি শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক জেলায় একটি করে সরকারি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে যেসব বেসরকারি পলিটেকনিক মান রক্ষা করতে পারবে না, তাদের বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

Manual6 Ad Code

তিনি জানান, ইকো ইনস্টিটিউটের অনুমোদন চূড়ান্ত হয়ে গেছে। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।

Manual1 Ad Code

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. শহীদ উজ জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল হক সুমন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মির্জা ফয়সল আমীন ও কারিকুলাম পরিচালক প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল কবীর।

 

Manual3 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ