অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য মামলা কেন হবে: সৈয়দ আমিরুজ্জামান

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২৬

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য মামলা কেন হবে: সৈয়দ আমিরুজ্জামান

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৩ এপ্রিল ২০২৬ : ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট–এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক, বিশিষ্ট কলামিস্ট এবং শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন, “গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। অপর তিনটি স্তম্ভ হচ্ছে আইনসভা, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ। বোঝাই যাচ্ছে গণমাধ্যমের গুরুত্ব ও অবস্থান কোথায়। জনস্বার্থ অভিমুখী মুক্ত গণমাধ্যম ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পূর্ণতা পায় না।”

তিনি বলেন, সরকার ও প্রশাসনের অসঙ্গতি তুলে ধরা এবং জনগণের সংগ্রামের সহযোদ্ধা হিসেবে গণমাধ্যমকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হয়। “গণমাধ্যম হচ্ছে জনগণের সংগ্রামের সহযোদ্ধা, নীতি-আদর্শের যৌথ প্রচারক এবং জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রের পাহারাদার। গণমাধ্যম সরকার, প্রশাসন ও জনগণের প্রতিপক্ষ নয়; বরং জনস্বার্থে তাদের ওপর নজরদারি করে,”—যোগ করেন তিনি।

সৈয়দ আমিরুজ্জামান আরও বলেন, শক্তিশালী গণমাধ্যম ছাড়া জনস্বার্থভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা সুদৃঢ় হতে পারে না। “রাষ্ট্রের অন্য তিনটি স্তম্ভ দুর্বল হলেও চতুর্থ স্তম্ভ শক্ত থাকলে রাষ্ট্রকে গণমুখী রাখা সম্ভব। কিন্তু চতুর্থ স্তম্ভ দুর্বল হলে রাষ্ট্রব্যবস্থা গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে,”—মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “সাংবাদিকতায় ঝুঁকি থাকবেই। আমরা জেনেশুনেই এই পেশায় কাজ করছি। সৎ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিকরা কখনো হারিয়ে যাবে না। সাংবাদিকতার অভিধান থেকে সততা ও পেশাদারিত্ব কখনো মুছে যাবে না।”

সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “কারণ কী? সে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছে। কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আইনি প্রতিকার ছিল—প্রতিবাদলিপি দেওয়া, প্রয়োজনে প্রেস কাউন্সিলে যাওয়া। কিন্তু সে পথে না গিয়ে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। অথচ সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়।”

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্য রাখছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

স্থানীয় সাংবাদিকরা এ মামলাকে “মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক” আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের কলেজ রোডস্থ শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

Manual3 Ad Code

ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ.ফ.ম আব্দুল হাই ডনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ এহসান বিন মুজাহির, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, সদস্য আবুজার বাবলা, মো. কাওছার ইকবাল, সিনিয়র সদস্য ইসমাইল মাহমুদ, এম এ রকিব, সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ, রুবেল আহমেদ, আমজাদ হোসেন বাচ্চু, মামুন আহমেদসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আলতাফুর রহমান নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরপরই এই মামলা দায়ের করা হয়। এটি সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন তারা।

তারা আরও বলেন, এ ধরনের মামলা সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের একটি কৌশল, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য মারাত্মক হুমকি। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের হয়রানি অব্যাহত থাকলে জনস্বার্থে সত্য প্রকাশের পথ বাধাগ্রস্ত হবে বলে তারা সতর্ক করেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, আলতাফুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণা, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় চারটি গ্রামের মানুষ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করলেও প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে অনুসন্ধানী সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহির দীর্ঘ তদন্ত চালিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। আর এর পরপরই তার বিরুদ্ধে “হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা” দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ তোলেন বক্তারা।

Manual6 Ad Code

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের অবস্থান সংবিধান ও রাষ্ট্র স্বীকৃত। মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের নিবৃত্ত করা যাবে না।

সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে এহসান বিন মুজাহিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্ত আলতাফুর রহমান নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

Manual3 Ad Code

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন মানবাধিকার ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গল শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম সবুজ, শ্রীমঙ্গল ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান নাঈম, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সভাপতি আমজাদ হোসেন রনি, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান চৌধুরীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং দ্রুত এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ