কবি সাদিয়া নাজিবকে নিয়ে

প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

কবি সাদিয়া নাজিবকে নিয়ে

Manual8 Ad Code

অপূর্ব জ্যোতি |

গত ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ তারিখে, আমার ফেসবুক পোস্টে আমি ৬ জনের নাম উল্লেখ করেছিলাম, যাঁদের লেখা, ফেসবুকে প্রথম পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছিল। এবং এরপর থেকে আমি ফেসবুকে তাঁদের লেখাগুলি নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি, যদিও সব সময় তা’ পেরে উঠি না। তাছাড়াও আপনাদের আমি কথা দিয়েছিলাম এই ৬ জন লেখক এবং তাঁদের লেখার সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেবো।

এই পর্যায়ে আজ যাঁর সাথে আপনদের পরিচয় করিয়ে দেবো, তিনি হচ্ছেন — বাংলাদেশের স্বনামধন্য কবি সাদিয়া নাজিব।

সাদিয়া নাজিব নিজে যেমন অসামান্য সুন্দরী, তেমনি তাঁর কবিতাও অসাধারণ সুন্দর।

Manual7 Ad Code

ফেসবুকে তাঁর কবিতা আমি প্রথম পড়ি বোধহয় ২০২৪ এর শেষের দিকে। এবং তাঁর কবিতা প্রথমবার পড়েই আমার চমক লেগেছিল।

প্রথম পাঠেই ভালো লাগায়, আমি তাঁর টাইমলাইনে ঢুকে বুঝতে পারি তিনি বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত এবং স্বনামধন্য কবি। তাঁর ওয়ালে প্রচুর প্রচুর কবিতা। প্রায়ই তিনি তাঁর কবিতা ফেসবুকে পোস্ট করেন।

আমার অবাক লাগে, এই কবির কবিতা, কেন আরো আগে আমার চোখে পড়েনি বা কেন আমি তাঁর নাম শুনিনি!!! বুঝা গেল পাঠক হিসাবে আমি অনেক পিছিয়ে আছি।

তাঁর কবিতার উপমা এবং অলঙ্কারগুলিতে নূতনত্ব থাকে।

তাঁর প্রেমের কবিতাগুলোও একটু অন্য রকম, শুধু গাছ, পাখি, ফুল আর চাঁদ ছাড়াও আরো বেশি কিছু থাকে। তাঁর কবিতায় চারপাশের সাধারণ মানুষের জীবনের রুঢ় বাস্তবতাকে তুলে ধরেন তিনি নিখুঁতভাবে। উঠে আসে সমাজের নানান অসঙ্গতি, ধ্বনিত হয় প্রতিবাদ, কিন্তু কবিতার স্বধর্ম হারিয়ে সেই প্রতিবাদ কখনো’ স্লোগান হয়ে উঠে না।

Manual3 Ad Code

‘মেডুসা’ শিরোনামের যে অসাধারণ কবিতাটি তাঁর ফেসবুকে Pinned post করা আছে, সেটি পড়তে পড়তে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের কথা আমার মনে পড়ে যায়। জনাব শামসুর রাহমান যেমন তাঁর অনেক কবিতায় গ্রীক পুরাণের বিভিন্ন কাহিনী বা চরিত্রকে নানান উপমা বা প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করেছেন, তেমনি সাদিয়া নাজিবের ‘মেডুসা’ নামের এই কবিতাতেও গ্রীক পুরাণকে চমৎকারভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ‘গ্রীক পুরাণ’ কিছুটা পড়া না থাকলে বা পৌরাণিক চরিত্রদের সম্পর্কে জানা না থাকলে, এসব কবিতার রসাস্বাদনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে।

Manual4 Ad Code

তাঁর হ্রস্ব -দীর্ঘ, বিভিন্ন ধরণের কবিতা পড়তে পড়তে, তাঁর সম্পর্কে আরো জানতে কৌতূহল হয় আমার। ঢুকে পড়ি তাঁর ফেসবুকের ব্যক্তিগত প্রোফাইলে।
সেখান থেকে জানা যায় তিনি বাংলাদেশের উপকূলবর্তী ভোলা জেলার মেয়ে এবং এই জেলার জল হাওয়াতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁর জীবনসঙ্গী গোপালগঞ্জের লোক।

Manual6 Ad Code

ইতোমধ্যেই তাঁর বেশ কিছু কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। ফেসবুক পোস্ট থেকেই জানতে পারলাম তাঁর একটি প্রকাশিত বইয়ের নাম — “জল প্রদীপের আলোয়”। আহা! নাম শুনলেই বুকের ভেতরটা কেমন পেলব ভালো লাগায় দ্রব হয়ে উঠে !

তাঁর ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে আরও জানা গেল — লেখালেখির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন, তেমনি সামলেছেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বও। ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক মানবজমিন’ পত্রিকার আন্তর্জাতিক বিভাগের সাব এডিটর তিনি।

অনেক আবৃত্তিকারই তাঁর কবিতা আবৃত্তি করেছেন এবং সেসব আবৃত্তি তাঁর টাইম লাইনে পাওয়া যায়।
তিনি নিজেও কিন্তু আবৃত্তিকার। এছাড়াও তিনি রবীন্দ্রনাথের গানও গেয়ে থাকেন।

ফেসবুকে আমার প্রথম পড়া তাঁর কবিতাটি নিচে শেয়ার করছি। ভালো লাগলে, তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুকে, আরো অনেক অনেক চমৎকার কবিতা পড়ে, নিজের ভালোলাগাকে বাড়িয়ে নিন।

সাদিয়া নাজিব, আপনাকে আমার অনেক অনেক শুভকামনা। আপনি সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন এবং প্রচুর প্রচুর চমৎকার সব কবিতা আমাদের উপহার দিয়ে চলুন।

অপার্থিব
সাদিয়া নাজিব

হরিতকী বনে চলো,
চলো ঝাঊবনে।
তোমাকে চুমু খাবো নিরালায়।

শহরে ভীষণ কোলাহল,
ঘরের দরোজা আটকালেই সবাই ভাবে
মেতে উঠছি বুঝি তুমুল শরীরী ঘ্রাণে।
আসলে এভাবে প্রেম হয় না–
জঙ্গলে চলো

কাদামাটি মাখা, তোমার আদিম কৃষক শরীরের
নুন চাখি, কবোষ্ণ ঠোঁটে!
কক্সবাজারের সৈকতের চেয়ে ও
দীর্ঘতর হবে সেই চুম্বন।

নোনাজলে ধুয়েমুছে যাক আর সব
পার্থিব যা কিছু।

একটি দীর্ঘ চুম্বন অপেক্ষা করছে
অনাদিকালের শিলাস্তরে প্রবল আঘাত হানবে বলে
জলে জঙ্গলে ঝাউ হরিতকী বনে।
#
অপার্থিব
সাদিয়া নাজিব