সিলেট ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | নয়াদিল্লি (ভারত), ৩০ আগস্ট ২০২৬ : পুণের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (IISER)-এর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে অবিলম্বে তাঁদের দাবি পূরণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানিয়েছে Students’ Federation of India (SFI)।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (CEC)-র পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে IISER Pune-তে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধায় প্রবেশাধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
SFI-র বক্তব্য, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উত্থাপিত দাবিগুলি কোনও অতিরিক্ত সুবিধা বা বিশেষ অধিকার সংক্রান্ত নয়; বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের স্বাভাবিক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে শিক্ষাগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সুবিধায় প্রবেশাধিকার, ছাত্রদের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব, মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ—এই বিষয়গুলিকেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
SFI-র অভিযোগ, জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং জবাবদিহির অভাব নতুন কোনও বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রসমাজকে ক্যাম্পাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যথাযথ প্রতিনিধিত্ব, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক পরিসর নিশ্চিত করার জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির চরিত্র ক্রমশ এমন একটি ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের উপর কর্পোরেট-ধাঁচের শৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের গণতান্ত্রিক পরিসর ও ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে। এই প্রবণতার বিরোধিতা করা প্রয়োজন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজ বাগওয়ের সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবি
IISER Pune-র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে SFI-র অন্যতম প্রধান দাবি হল প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত জেনারেল সেক্রেটারি রাজ বাগওয়ের সাসপেনশন অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। তাঁর শিক্ষাজীবন যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
SFI-র বক্তব্য, ছাত্রদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি শুধুমাত্র কোনও একজন পড়ুয়ার শিক্ষাজীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রশ্নও জড়িত। ফলে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছে সংগঠনটি।
মানসিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো জোরদারের দাবি
IISER Pune-র শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার বিষয়টিকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে SFI।
সংগঠনের দাবি, দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যা এবং গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পর্যাপ্ত এবং স্থায়ী মানসিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
এই প্রেক্ষিতে IISER Pune-তে ১০ জন স্থায়ী কাউন্সেলর এবং ৫ জন স্থায়ী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।
SFI-র অভিযোগ, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে দীর্ঘস্থায়ী অবহেলা পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধুমাত্র অস্থায়ী বা সীমিত পরিষেবার পরিবর্তে একটি শক্তিশালী, সহজলভ্য এবং স্থায়ী মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
সংগঠনটির মতে, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে পড়ুয়ারা প্রয়োজনের সময় কোনও ভয়, সামাজিক সংকোচ বা প্রশাসনিক বাধা ছাড়াই পেশাদার সহায়তা পেতে পারেন।
লিঙ্গ বৈষম্য নিয়েও প্রশ্ন
ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগও সামনে এনেছে SFI।
সংগঠনের দাবি, প্রতিষ্ঠানের কিছু নিয়ম ও ব্যবস্থাপনার ফলে ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধায় প্রবেশাধিকার এবং তাঁদের চলাফেরার স্বাধীনতা প্রভাবিত হচ্ছে।
SFI-র মতে, কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এমন কোনও ব্যবস্থা থাকা উচিত নয় যা লিঙ্গের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ ও স্বাধীনতাকে সীমিত করে। এই ধরনের বৈষম্য সংবিধানের সমতা ও মর্যাদার নীতির পরিপন্থী বলেও সংগঠনের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
‘থার্ড স্পেস’ ব্যবহারের অধিকার চায় শিক্ষার্থীরা
শুধু শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার বা আবাসিক পরিসরের মধ্যেই ছাত্রজীবন সীমাবদ্ধ না রেখে পড়ুয়াদের অবসর, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে IISER Pune-তে।
এই ধরনের জায়গাকে ‘থার্ড স্পেস’ হিসেবে উল্লেখ করে SFI জানিয়েছে, পড়ুয়াদের বিনোদনমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য কমন হল, সেমিনার রুম-সহ বিভিন্ন পরিসর ব্যবহার করার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অযৌক্তিক বাধা বা বারবার হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই জায়গাগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের কার্যকলাপ পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
SFI-র মতে, একটি সৃজনশীল ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস কেবলমাত্র পড়াশোনা ও গবেষণার জায়গা নয়। ছাত্রছাত্রীদের পারস্পরিক মতবিনিময়, সাংস্কৃতিক চর্চা, সংগঠন, বিতর্ক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্যও উন্মুক্ত পরিসর প্রয়োজন। এই ধরনের পরিসরই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি
আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে পড়ুয়াদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মত ও প্রতিবাদ নথিভুক্ত করার অধিকারকে সামনে এনেছে SFI। সংগঠনের অভিযোগ, নিজেদের দাবি বা ভিন্নমত প্রকাশ করতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রশাসনিক চাপ, টার্গেট করা কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়।
SFI-র বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং ভিন্নমত প্রকাশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মৌলিক অংশ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ছাত্রদের সমালোচনা বা অসন্তোষকে প্রশাসনিক শাস্তির মাধ্যমে দমন করার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। ছাত্রদের কণ্ঠস্বরকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রশাসন ও পড়ুয়াদের মধ্যে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক সংলাপ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
‘গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সৃজনশীল’ ক্যাম্পাসের দাবি
SFI-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, IISER Pune-র পড়ুয়াদের উত্থাপিত বিষয়গুলি একটি বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত—দেশের গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কেমন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রদের মতপ্রকাশ, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, মানসিক সুস্থতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
IISER Pune প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে পড়ুয়াদের দাবি নিয়ে আলোচনায় বসা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে SFI বলেছে, ক্যাম্পাসকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সৃজনশীল শিক্ষার পরিসর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ছাত্রদের অধিকার রক্ষায় কোনও ধরনের লঙ্ঘন বরদাস্ত করা হবে না বলেও সংগঠনটি জানিয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে SFI আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছাত্রদের দাবি পূরণ না হলে সংগঠিত ছাত্রসমাজ আরও বৃহত্তর প্রতিবাদ কর্মসূচির পথে যেতে পারে।
বিবৃতিটি প্রকাশ করেছেন SFI-র সভাপতি আদর্শ এম সাজি এবং সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি