ওসিকে হুমকি দেওয়া সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২৬

ওসিকে হুমকি দেওয়া সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা গ্রেপ্তার

Manual1 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | হবিগঞ্জ, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ : হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) ইয়াছমিন খাতুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালামের সঙ্গে প্রকাশ্যে বাগবিতণ্ডা ও অতীতের সহিংস ঘটনার উল্লেখ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

থানার ভেতরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

ভিডিওতে দেখা যায়, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে ওসি আবুল কালামের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা দাবি করে প্রশাসনকে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমরা আন্দোলন করে গভমেন্টকে রিফর্ম করেছি। প্রশাসন আমাদের লোক। আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে এনেছেন। আমাদের এই এলাকায় ১৭ জন শহীদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।”
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি হুমকি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অবমাননা এবং সহিংসতার স্বীকারোক্তির অভিযোগ তুলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

Manual5 Ad Code

কী নিয়ে শুরু হয় বিরোধ

পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ এনামুল হাসান নয়ন নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল।
পরে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্র থানায় গিয়ে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পুলিশ প্রথমে অস্বীকৃতি জানালেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে চাপের মুখে এনামুল হাসান নয়নকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

Manual7 Ad Code

সাংগঠনিক ব্যবস্থা: মাহদী হাসানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ)—

এ ঘটনা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিলে শনিবার (০৩ জানুয়ারি) দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) চিঠি দেন। একই সঙ্গে চিঠিটি সংগঠনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।

Manual2 Ad Code

চিঠিতে বলা হয়, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় দেওয়া মাহদী হাসানের বক্তব্য সংগঠনের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশের অবস্থান

পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন জানান, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “নয়ন নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে কিছু ছাত্রনেতা এসে দাবি করেন তিনি ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। এ সময় কথাবার্তার একটি অংশ ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়ে।”
নয়নের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে মনে হয়, তবে বর্তমানে তিনি ছাত্রলীগে নেই।”

আইনগত ঝুঁকি

Manual8 Ad Code

হবিগঞ্জ আদালতের একজন সিনিয়র আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভিডিওতে থাকা বক্তব্য প্রমাণিত হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। থানায় অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ইঙ্গিতমূলক বক্তব্য ফৌজদারি আইনে শাস্তিযোগ্য।”

মাহদী হাসানের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে মাহদী হাসান দাবি করেন, তিনি রাগের মাথায় কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, “রাগের কারণে ‘স্লিপ অব টাং’ হয়েছে। পরে বুঝেছি কথাগুলো ঠিক হয়নি। আমার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।”

উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া

সচেতন মহল মনে করছে, কোনো সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে থানার ভেতরে গিয়ে পুলিশকে চাপ দেওয়া এবং সহিংসতার কথা উল্লেখ করে হুমকি দেওয়া আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি প্রশাসনের ভূমিকা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ