সিলেট ৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ : বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা কিংবা জনপদের নাম শুধু একটি ভৌগোলিক পরিচয় নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শতাব্দীর ইতিহাস, ভাষার বিবর্তন, ধর্মীয় প্রভাব, লোকজ বিশ্বাস এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতা। স্থাননামের ভেতর দিয়ে একটি অঞ্চলের অতীত জীবনধারা, শাসনব্যবস্থা, জনবসতি ও অর্থনৈতিক অবস্থার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকে গভীরভাবে অনুসন্ধান করে রচিত হয়েছে ‘বাংলাদেশের জেলা-উপজেলার নামকরণ ও ঐতিহ্য (পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত দ্বিতীয় সংস্করণ)’ গ্রন্থটি।
গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে দেশের খ্যাতনামা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাওলা ব্রাদার্স। গবেষণাধর্মী এই বইটি মূলত বাংলাদেশের সবকটি জেলা, উপজেলা ও উল্লেখযোগ্য থানাসমূহের নামকরণের উৎস, অর্থ ও বিবর্তনকে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করেছে।
স্থাননাম কেন গুরুত্বপূর্ণ
একটি দেশের ইতিহাস পুনর্গঠন, ভাষাগত মানচিত্র অনুধাবন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে স্থাননামের উৎস অনুসন্ধানের গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক সময় একটি স্থানের নামের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে প্রাচীন জনপদ, নদীভিত্তিক সভ্যতা, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় প্রচার কিংবা ঔপনিবেশিক শাসনের চিহ্ন।
এই গ্রন্থে দেখানো হয়েছে—
কীভাবে সংস্কৃত, পালি, আরবি, ফারসি, তুর্কি ও ইংরেজি ভাষার প্রভাব বাংলাদেশের স্থাননামে ছাপ ফেলেছে
কীভাবে নদী, বন, পাহাড়, হাট-বাজার, ধর্মীয় স্থাপনা বা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের নাম থেকে অনেক জনপদের নামকরণ হয়েছে
কীভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থাননামের উচ্চারণ ও বানানে পরিবর্তন এসেছে
বইটির বিষয়বস্তুর পরিধি
বইটির সূচিপত্র অনুযায়ী মোট ১১টি অধ্যায়ে বিষয়বস্তু বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
বাংলাদেশের জেলা-উপজেলার নামকরণের বৈশিষ্ট্য
— যেখানে সামগ্রিক নামকরণ প্রক্রিয়া, ভাষাগত ও ঐতিহাসিক ধারা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ
— দেশের নামের উৎস, বিবর্তন ও তাৎপর্য।
3–10. আটটি বিভাগভিত্তিক অধ্যায়
— রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার নামের পেছনের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
পরিশিষ্ট ও নির্ঘণ্ট
— গবেষকদের জন্য সহায়ক তথ্যসূত্র ও সূচি সংযোজন করা হয়েছে।
এই বিন্যাস পাঠককে একদিকে যেমন অঞ্চলভিত্তিক ইতিহাস বুঝতে সহায়তা করে, তেমনি গবেষণার কাজে বইটিকে একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স গ্রন্থে পরিণত করেছে।
গবেষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পাঠকের জন্য সমানভাবে উপযোগী
বইটি ইতিহাস, বাংলা ভাষা, সমাজবিজ্ঞান ও ভূগোলের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। একই সঙ্গে সাধারণ পাঠকরাও বইটি পড়ে নিজ জেলার নামের পেছনের অজানা ইতিহাস জানতে পারবেন। জাতীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মূল্য ও সংগ্রহের তথ্য
মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থটির নির্ধারিত মূল্য ৬০০ টাকা। তবে বর্তমানে ২৫ শতাংশ ছাড়ে বইটি সংগ্রহ করা যাচ্ছে।
বই সংগ্রহের ঠিকানা ও যোগাযোগ:
ওয়েবসাইট: www.mowlabrothers.com
সংক্ষিপ্ত লিংক: t.ly/sWY-2
ফোন: 02226640179, 01810061533
উপসংহার
‘বাংলাদেশের জেলা-উপজেলার নামকরণ ও ঐতিহ্য’ কেবল একটি বই নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির এক প্রামাণ্য দলিল। স্থাননামের মধ্য দিয়ে দেশের অতীতকে জানার এই প্রয়াস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাসচর্চার একটি মূল্যবান ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। জাতীয় পরিচয় অনুধাবনের ক্ষেত্রে গ্রন্থটি নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় সংযোজন।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি