অধ্যক্ষ কমরেড মহিবুল্লাহ মোড়ল স্মরণে

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২৬

অধ্যক্ষ কমরেড মহিবুল্লাহ মোড়ল স্মরণে

Manual4 Ad Code

অদিতি আদৃতা সৃষ্টি, বিশেষ প্রতিনিধি | সাতক্ষীরা, ২২ এপ্রিল ২০২৬ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী ও যুবমৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং তালা উপজেলার ধানদিয়া বেগম খালেদা জিয়া কলেজের অধ্যক্ষ কমরেড মহিবুল্লাহ মোড়লের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল বিকাল ৪টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও রাজনৈতিক শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

Manual5 Ad Code

প্রয়াতের পরিবার ও দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর তার শরীরে দুরারোগ্য ক্যান্সার শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল সকালে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শ্রীমন্তকাটি গ্রামে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্রীয়ভাবে এবং সাতক্ষীরা জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভা, কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। দলের নেতাকর্মীরা তার কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ পৃথক বক্তব্যে প্রয়াত কমরেডের রাজনৈতিক অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, কমরেড মহিবুল্লাহ মোড়ল ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক, যিনি আজীবন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

এদিকে, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “কমরেড মহিবুল্লাহ মোড়ল ছিলেন আদর্শনিষ্ঠ ও সংগ্রামী নেতা। ছাত্র-যুব আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার মৃত্যু দেশের প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, তার আদর্শ ও সংগ্রামের চেতনা নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে এবং সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামানও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “কমরেড মহিবুল্লাহ মোড়ল ছিলেন নীতিবান, সাহসী ও আপসহীন নেতা। সংগঠনের প্রতি তার নিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”

স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনও পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে এই জননন্দিত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। বক্তারা বলেন, শিক্ষা ও প্রগতিশীল রাজনীতিতে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তার সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা মনে করেন, অধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ মোড়লের আদর্শ, সততা ও সংগ্রামী জীবনধারা আগামী প্রজন্মকে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অনুপ্রাণিত করবে।

কমরেড মহিবুল্লাহ মোড়ল
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

আজও বিকেলের আলো নেমে আসে নীরব বিষণ্নতায়,
সাতক্ষীরার মাটির বুকে স্মৃতিরা জেগে রয় গোপন ছায়ায়।
একটি নাম বাতাস ভরে ধ্বনিত হয় বারবার—
মহিবুল্লাহ মোড়ল, সংগ্রামের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ একাকার।

Manual5 Ad Code

ধানদিয়ার পথ ধরে যে হেঁটেছিলেন দৃপ্ত পায়ে,
শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই লিখেছিলেন মানুষেরই দায়ে,
তিনি আজ নেই—তবু তার কণ্ঠস্বর বাজে অনির্বাণ,
সময়ের বুক চিরে ওঠে প্রতিবাদের অগ্নিগান।

রাজনীতির মাটিতে ছিলেন নিবেদিত প্রাণ,
শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তার অবিরাম টান।
ওয়ার্কার্স পার্টির পতাকা হাতে তিনি ছিলেন দীপ্ত,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারণে ছিলেন সর্বদা দৃঢ়, অবিচল নিত্য।

ছাত্রমৈত্রী, যুবমৈত্রী—যেখানে তরুণের স্বপ্ন জাগে,
সেখানে তিনি ছড়িয়ে দিতেন সাহসের অগ্নি আগুনের ভাগে।
অধিকার মানে শুধু কথা নয়—এ শিক্ষা দিয়েছেন তিনি,
সংগ্রামই পথ, সংগ্রামেই জয়—এই ছিল তার বাণী।

কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষক হয়ে ছিলেন আলোর দিশারী,
জ্ঞান আর নৈতিকতায় গড়েছেন প্রজন্ম—দায়িত্ব ছিল তার ভারী।
শিক্ষা মানে শুধু বই নয়, মানুষ গড়ার শপথ,
এই বিশ্বাসে গড়ে তুলেছেন বহু তরুণের নতুন রথ।

হঠাৎ একদিন নেমে এলো নির্মম রোগের ছায়া,
দেহ ভেঙে দিলেও মন তার হার মানেনি কোনো মায়া।
হাসপাতালের নিঃশব্দ কক্ষে লড়েছেন শেষ অবধি,
মৃত্যুর মুখেও সংগ্রামী—এ যেন জীবনেরই পদাবলি।

Manual6 Ad Code

২২ এপ্রিল বিকেলের আলো থেমে গেল এক মুহূর্তে,
নিভে গেল এক প্রদীপ—অসংখ্য চোখ ভিজল অশ্রুস্রোতে।
তবু মৃত্যু কি পারে থামাতে ইতিহাসের পথ?
যারা লড়াইয়ে বাঁচে, তাদের মৃত্যু হয় না কখনো রত।

শ্রীমন্তকাটির মাটিতে যখন শেষ নিদ্রায় শয়ন,
আকাশও যেন নীরব হয়ে জানায় গভীর শ্রদ্ধার বয়ন।
জানাজার কাতারে দাঁড়িয়ে ছিল মানুষ অগণিত,
একটি জীবন—অসংখ্য হৃদয়ে হয়ে উঠেছে অনির্বচনীয় সঙ্গীত।

সহযোদ্ধারা আজও স্মরণ করে তার অমলিন মুখ,
তার কথায় জাগে শক্তি, তার স্মৃতিতে জাগে নতুন সুখ।
দলমত নির্বিশেষে যারা চিনেছে তার অবদান,
তারা জানে—তিনি ছিলেন সময়ের এক জাগ্রত প্রাণ।

Manual6 Ad Code

মানিক, বকুল, কিসলু—সহযোদ্ধারা উচ্চারণ করে আজ,
“সংগ্রামের পথেই ছিল তার জীবনের প্রতিটি সাজ।”
শোষণহীন সমাজের স্বপ্ন ছিল তার দীপ্ত শপথ,
মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে ছিলেন অগ্রণী এক রথ।

আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী—কিন্তু এ তো শেষ নয়,
স্মৃতির ভেতর বেঁচে থাকা এক অনন্ত সংগ্রামের জয়।
তার পথ দেখাবে আগামী দিনের প্রতিটি লড়াই,
তার আদর্শেই জ্বলবে নতুন প্রজন্মের আগুনের শিখাই।

হে কমরেড, তুমি আছো—এই মাটির প্রতিটি শ্বাসে,
প্রতিটি প্রতিবাদে, প্রতিটি স্বপ্নে, প্রতিটি আশ্বাসে।
তোমার জীবন এক কবিতা—সংগ্রামে লেখা অমর গান,
যা বাজবে যুগে যুগে, হবে মানুষের মুক্তির আহ্বান।