মেস ভাড়া মওকুফ, বিনামূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ ও প্রযুক্তি সহয়তার দাবিতে ছাত্র মৈত্রীর স্মারকলিপি

প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

মেস ভাড়া মওকুফ, বিনামূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ ও প্রযুক্তি সহয়তার দাবিতে ছাত্র মৈত্রীর স্মারকলিপি

ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২০: “শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফ, বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট প্যাকেজ প্রদান এবং স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার কেনার জন্য সহজ শর্তে সুদমুক্ত ব্যাংক লোন প্রদানে সরকারী প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।” আজ রবিবার বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর স্মারকলিপিতে এসব দাবী করা হয়।

আজ রবিবার বেলা ১২টায় শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফের দাবিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।
এরপর বেলা ১টায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফ, বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট প্যাকেজ প্রদান এবং স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার কেনার জন্য সহজ শর্তে সুদমুক্ত ব্যাংক লোন প্রদানে সরকারী প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরও স্মারকলিপি প্রদান করে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েল, সহ সভাপতি অতুলন দাস আলো, সহ সাধারণ সম্পাদক শাফিউর রহমান সজীব, দপ্তর সম্পাদক হাসিদুল ইসলাম ইমরান, ঢাকা মহানগর সভাপতি ইয়াতুন্নেসা রুমা ও ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক তানভীন আহমেদসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সারাবিশ্বের ন্যায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিও আজ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পর্যবসিত হয়েছে। করোনা ভাইরাস সমগ্র দেশকে স্থবির করে দিয়েছে।
করোনাকালীন সময়ে দেশের প্রায় সকল শ্রেণিপেশার মানুষের স্বাভাবিক আয় তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। ইতোমধ্যে অসংখ্য মানুষ হারিয়েছে তার পেশা। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই হিমশিম খাচ্ছে তাদের পরিবারের খরচ চালাতে। আর পরিবারের অর্থনৈতিক মন্দার পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের উপরে। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় লকডাউন শিথিল হওয়ার পর অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহনের স্বার্থে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে শিক্ষা তাগিদেই এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ছাত্রাবাস বা ছাত্রীনিবাস না থাকায়; আর থাকলেও আসন সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বাসায় মেস করে ভাড়া থাকতে হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, এসব শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই আসে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও দরিদ্র পরিবার থেকে। এসব দরিদ্র শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ তাদের পড়ালেখা ও থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করে টিউশনি করিয়ে। করোনাকালীন সময়ে তাদের সেই টিউশনিও বন্ধ। অতীতে অনেক পরিবারের পক্ষে তাদের সন্তানের পড়াশুনা ও থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করার সীমিত সক্ষমতা থাকলেও বর্তমান সময়ে করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অভাবে সেই পরিবারগুলোকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন সময়ে একদিকে শিক্ষা ব্যয়, অন্যদিকে আবাসন ব্যয় বহন করা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেটের বাড়তি খরচ। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট, দেশের সকল স্থানে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা না থাকা, অর্থাভাবের কারণে স্মার্টফোন/ল্যাপটপ/কম্পিউটার কিনতে না পারার কারণে এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে রয়ে গেছে ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী। ফলে চলমান শিক্ষা বৈষম্য আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরবর্তীতে সামাজিক বৈষম্যকেও ত্বরান্বিত করবে। এটা কখনোই কাম্য নয়।

আজকে যারা শিক্ষার্থী তারাই দেশের ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার সমৃদ্ধ করবে, নেতৃত্ব দেবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সচল রাখবে দেশের অর্থনীতির চাকা, জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাখবে অগ্রনী ভূমিকা। কিন্তু তার জন্য আমরা যারা শিক্ষার্থী তাদের দিকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে রাষ্ট্র ও সরকারকে। উপরোক্ত বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেয়া স্মারকলিপিতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে সফল ও সার্থক করতে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনে শতভাগ শিক্ষার্থীকে অনলাইন শিক্ষার আওতায় আনতে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার ক্রয়ে তাদের জন্য সহজ শর্তে সুদমুক্ত ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে সরকারী প্রজ্ঞাপনের দাবি জানানো হয়।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন সময়ের মেস ভাড়া মওকুফের বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহনের দাবি জানান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ