মুজিববর্ষে নির্মিত হওয়া প্রথম চলচ্চিত্র ”আমার বাবাব নাম”

প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

মুজিববর্ষে নির্মিত হওয়া প্রথম চলচ্চিত্র ”আমার বাবাব নাম”

নিজস্ব প্রতিবেদক || ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই মুজিববর্ষে নির্মিত হওয়া প্রথম চলচ্চিত্র ”আমার বাবাব নাম”। এই শনিবার প্রিমিয়ার শো দেখতে গিয়ে অনেকগুলো গর্ব মনের ভেতর লালন করতে শুরু করেছি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুজিববর্ষের থিম সঙ্গীত। বাংলার ধ্রুবতারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে Kamal Chowdhury স্যারের লেখা মন ভরিয়ে দেওয়া কথা আর নকীব খানের সুর পুরো পরিবেশটাই বদলে দিল। এরপর যখন ফিল্মটা দেখেছি, বীরাঙ্গনা অলকার মুখ দিয়ে উচ্চারিত হয়েছে, ‘আমার বাবার নাম শেখ মুজিবুর রহমান, আমার ঠিকানা ধানমন্ডি ৩২ নম্বর’, তখন আরেক বার বিশাল হৃদয়ের প্রিয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় নত হয়েছে সমগ্র মনন।
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) আর চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) মিলিত সহযোগিতায় ফিল্ম হয়েছে, সরকারের অতিরিক্ত পয়সা খরচ হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, মাননীয় তথ্য সচিব কামরুন নাহার স্যার এই উদ্যোগের প্রশংসা করলেন, বিটিভির মহাপরিচালক Haroon Rashid স্যার আর ডিএফপির মহাপরিচালক Golam Kibria স্যারের জন্য এই উদাহরণ এরকম নির্মাণে সাহস জোগাচ্ছে, তা তাদের অভিব্যক্তিতেই টের পাচ্ছিলাম।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সবাই ভালোবাসা জানাচ্ছে, কিন্তু বীর নারীর সর্বোচ্চ ত্যাগ আর সংগ্রামের বিনিময়ে সবাই লজ্জা উপহার দিচ্ছে। এই বৈপরীত্য সমাজ লালন করেছিল নির্লজ্জভাবে। জন্মদাতা পিতা ফেলে যায় অলকাকে। বেঁচে থাকার সংগ্রামে অলকার কাছে এই সমাজই জানতে চায় বাবার নাম, ঠিকানা। বঙ্গবন্ধু বীর নারীদের নাম দিয়েছিলেন বীরাঙ্গনা, তিনি তাদের বাবা হয়েছিলেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর-কে বানিয়েছিলেন তাদের ঠিকানা।

‘আমার বাবার নাম’ এর কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কাহিনীকার ও বিটিভির মহাপরিচালক Haroon Rashid। একদম প্রথম দৃশ্যেই গল্প শুরু হয়ে গেছে, একদম সরাসরি। বাংলা ফিল্মে টানটান গল্প বলার কায়দা পেয়ে ভালো লেগেছে খুব।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রামাণ্য) ও বিটিভির নির্বাহী প্রযোজক ফজলে আজিম জুয়েল। ডিএফপির কর্মকর্তা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা জুয়েল ডেপুটেশনে বিটিভিতে কাজ করছেন, নিজে সমৃদ্ধ হয়েছেন, বিটিভিকে সমৃদ্ধ করছেন। তার সাফল্য দুই প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করবে নিঃসন্দেহে।

“আমার বাবার নাম” চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন -আবুল হায়াত, দিলারা জামান, সমু চৌধুরী, নাইরুজ শিফাত, জয়রাজ, সাইফুল জার্নাল, বোরহান বাবু, লুবনা নাজনিন ও শ্যামল জাকারিয়া প্রমুখ। সবার ভেতর ভালো করার চেষ্টা ছিল। দিলারা জামান তেমনটিই বললেন, করোনাকালে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ভেবেছেন, এই ছবিতে অভিনয় করবেন বলেই মহান আল্লাহ্‌ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্য রোজা রাখা গ্রামের এক বৃদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সেই সময় দেশের সব মানুষ বঙ্গবন্ধুর জন্য কৃতজ্ঞতায় এভাবেই নিজের মতো করে রোজা রেখেছেন, পূজা দিয়েছেন। তিনি বলছিলেন, বঙ্গবন্ধুর অবদানকে কীভাবে ভুলি আমরা?
এই দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকে ভুলে যাওয়ার মানে যে মোনাফেকি, তা কি আর আলাদা করে বলতে হবে? জোর করে ভোলানোর চেষ্টা হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না, এই কামনা প্রতীজ্ঞায় পরিণত হোক।

শুভকামনা “আমার বাবার নাম” চলচ্চিত্রের জন্য। অভিনন্দন চলচ্চিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে।