অসন্তোষ নিরসনে চা সংসদের উদ্যোগে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে ভার্চ্যুয়াল অালোচনাসভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২০

অসন্তোষ নিরসনে চা সংসদের উদ্যোগে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে ভার্চ্যুয়াল অালোচনাসভা অনুষ্ঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি || শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১২ অক্টোবর ২০২০ : ন্যূনতম দৈনিক মজুরী ১৫০ টাকা নির্ধারণ, ২ মাসের মজুরীর সমপরিমাণ উৎসব বোনাস, বিদ্যমান সকল সুযোগ সুবিধা অানুপাতিকহারে বাড়ানো, বকেয়া মজুরী পরিশোধসহ দূর্গাপূজার অাগেই দ্বিবার্ষিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনের দাবীতে চলমান চা শ্রমিক অান্দোলন ও অসন্তোষ নিরসনে ৭ম দিনে মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ (বিটিএ)-এর উদ্যোগে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সাথে এক ভার্চুয়াল অালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অদ্য ১২ অক্টোবর সোমবার দুপুর সোয়া ১২টায় প্রায় ৪ ঘন্টার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকল চা বাগান মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ (বিটিএ)-এর ৭ সদস্যের টিমে নেতৃত্ব দেন ফিনলে টি কোম্পানির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিইও) তাহসিন আহমেদ চৌধুরী। অন্যদিকে শ্রমিক পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাখন লাল কর্মকার, সহসভাপতি পংকজ এ কন্দ, সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা, লস্করপুর ভ্যালী সভাপতি রবীন্দ্র গোড়, মনু ধলাই ভ্যালী সভাপতি ধনা বাউরী, জুড়ি ভ্যালী সভাপতি অমল, চট্টগ্রাম ভ্যালী সভাপতিসহ সিলেট ভ্যালী সভাপতি রাজু গোয়ালা প্রমূখ।

ভার্চুয়াল অালোচনা সভায় চা শ্রমিক নেতারা বলেন, “চা শিল্পে বিগত ৭০ বছর যাবত চা সংসদ ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপক্ষীয়ভাবে মজুরী বোনাস সহ অন্যান্য সুবিধাদি নিয়ে দ্বিবার্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়ে অাসছে। এছাড়াও সরকার এ পর্যন্ত তিনবার নিম্নতম মজুরী বোর্ড গঠন করেছেন। যখনই মজুরী বোর্ড গঠন হয়েছে তখনই চা শ্রমিকেরা ভাল কিছু পেয়েছে।
চা সংসদ ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। এরপর নতুন দাবিনামা নিয়ে অালোচনা শুরু হয়ে ইতিমধ্যে প্রায় ২২ মাস অতিক্রম হতে চলেছে। মালিকপক্ষের বিভিন্ন টালবাহানা ও অসহযোগিতার কারণে চুক্তি সম্পাদন হচ্ছে না। মালিকপক্ষ দূর্গাপূজার অাগেই চুক্তি সম্পাদনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। পূজার অাগে চুক্তি সম্পাদন না হলে নতুন মজুরী, বকেয়া সহ নতুন বোনাস কিছুই পাওয়া যাবে না।”

শ্রমিক নেতারা অারও বলেন, বর্তমানে দিনে ১০২ টাকা মজুরি দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সন্তানের লেখাপড়ার খরচ বহন করাও সম্ভব হচ্ছে না। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে কিন্তু মজুরি সেই অনুযায়ী বাড়েনি।

ভার্চুয়াল এ সভায় দীর্ঘ অালোচনা হলেও খুব একটা অগ্রগতি হয়নি বলে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পংকজ এ. কন্দ জানিয়েছেন। তবে অাগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ টি বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

অসন্তোষ নিরসনে মালিকপক্ষের সংগঠন চা সংসদ (বিটিএ)-এর উদ্যোগে চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন – –

ন্যূনতম দৈনিক মজুরী ১৫০ টাকা নির্ধারণ, ২ মাসের মজুরীর সমপরিমাণ উৎসব বোনাস, বিদ্যমান সকল সুযোগ সুবিধা অানুপাতিকহারে বাড়ানো, বকেয়া মজুরী পরিশোধসহ দূর্গাপূজার অাগেই দ্বিবার্ষিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনের দাবীতে চলমান চা শ্রমিক অান্দোলন ও অসন্তোষ নিরসনে ৭ম দিনে মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ (বিটিএ)-এর উদ্যোগে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের মৌলভীবাজার জেলা যুগ্ম অাহবায়ক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি দেওয়ান মাসুকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন এবং শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি শেখ জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক রোহেল অাহমদ।