ই-কমার্স অনেক দুর এগিয়ে যাবে

প্রকাশিত: ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০

ই-কমার্স অনেক দুর এগিয়ে যাবে

জাকিয়া সুলতানা রীমা || ঢাকা, ২৬ অক্টোবর ২০২০ : উইমেন এন্ড ই-কমার্স সামিট-এ যে স্পিচ দিয়েছেন রাজিব অাহমদ স্যার, নিম্নে উনার স্পিচ সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

★ উই মাত্র ১৪ মাসে ৩ হাজার সদস্য থেকে ১০ লাখ ৩০ হাজার সদস্যের প্ল্যাটফর্মে পরিনত হয়েছে।

স্যার নিশা আপু-কে বলবে যে প্রতিবছর দুই টা সামিট করার জন্য একটা হবে অক্টোবর মাসে, যেটা হবে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। আর একটা হবে মার্চ মাসে, সম্ভবত দেশি পণ্যের রপ্তানি নিয়ে।

★ উই মানে হলো দেশি পণ্যের নারী উদ্যোক্তা, তবে সেখানে পুরুষও আছেন। উই তে ৯০% নারী এক্টিভ মেম্বার রয়েছেন।

★ আগামী একবছরের মধ্যে চেষ্টা করা হবে যাতে প্রতিটি গ্রাম থেকে একজন/দুই জন দেশিপণ্যের নারী উদ্যোক্তা যেকোন ভাবে (সরকারী/বেসরকারী/ উই এর মাধ্যমে) রেজিষ্ট্রার থাকে। যাতে দেশের সব প্রান্ত থেকে দেশিপণ্য পাওয়া যায়।

★ স্যারের কিনোট স্পীচের মূল বক্তব্য হলো, উই এর মত বা উই কে অনুসরণ করে দেশিপণ্য নিয়ে ছোট ছোট বা বড় গ্রুপ হওয়া। এতে দেশী পন্য এগিয়ে যাবে।

★ ফেইসবুক মাসিক এক্টিভিটিতে এশিয়ার মধ্যে মেম্বার রয়েছেন ১হাজার মিলিয়ন বা ১বিলিয়ন আর উই এ রয়েছেন শুধু ১মিলিয়ন। বাংলাদেশের কথা বলা হলে, বাংলাদেশে ২কোটি এক্টিভ মেম্বার আছে আর তার ৫%রয়েছে উইতে। ই-কমার্স সাইটে এক্টিভ মেম্বার উই এর ধারে কাছেও কেউ নাই।

★স্যার বলেন, যখন তিনি ই-ক্যাব এর সভাপতি ছিলেন তখন থেকে বলে এসেছেন, যে আমরা এমন একটা বাংলাদেশ দেখতে চান যেখানে যেকোনো মানুষ যেকোন স্থান থেকে অনলাইনের মাধ্যমে তার পণ্য সহজে ক্রয় বিক্রয় করতে পারে। উই এই বিষয় বাস্তবায়নেই কাজ করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে উই অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন। এখন সরকারি সাপোর্ট পেলে অনেক দ্রুত এই কাজটি এগিয়ে যাবে।

★উই সারা দেশের নারী উদ্দ্যোক্তাদের এক প্ল্যাটফর্ম এ আনতে সক্ষম হয়েছে। দশ লাখের মধ্যে প্রায় ৭লাখ নারী উদ্দ্যোক্তা রয়েছে।

★ উই চাচ্ছে যারাই দেশিপণ্য নিয়ে কাজ করছে তাদের কে নিয়ে কাজ করতে, তাদের কেই উদ্যোক্তা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হবে।

★ আমরা একটা উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছি যে ই-কমার্স এর মাধ্যমে দেশিপণ্যকে প্রচার-প্রসার ও বিক্রয় করা। এতে শুধু উদ্যোক্তারা নয় যারা চাকরি করছেন,তাঁতি,যারা উৎপাদন করছেন তারাও উপকৃত হবেন।যারা ডেলিভারি নিয়ে কাজ করছে তাদের আয় বাড়বে।

★ উইতে অনেকেই দেশিপণ্য নিয়ে লাখপতি হয়েছেন। ১ বছর পূর্বে ও এমন ছিল না বা ই-কমার্সের দেশিপণ্য নিয়ে আলোচনা করা টাও সহজ ছিল না।

★এখানে প্রায় ১৯ লাখ পোস্ট আছে দেশিপণ্য নিয়ে। উইতে পোস্ট করতে কাউকে ১টাকাও দিতে হয় না।

★স্যার জান্নাত আপুর কথা বলতে গিয়ে আবেগ প্রবণ হয়ে পরেন। আপু মনিপুরী শাড়ি কে তুলে ধরার জন্য কাজ করেছিলেন। আজ সেই মনিপুরী শাড়ি অনেক দুর এগিয়ে গেছে।

★শুধু মনিপুরী শাড়ী নয়,জামদানী শাড়ী, টাংগাইল শাড়ী, খেশ শাড়ী এবং তার সাথে শীতল পাটি, কুমিল্লার খাদি নিয়েও কথা বলেন। যা বিলুপ্তির পথে ছিল তা উই এর মাধ্যমে উঠে এসেছে।

★এবছর তাতের শাড়ী নিয়ে কাজ করায়, এটা নিয়ে একদিনের একটা কনফারেন্স আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসে করার কথা চিন্তা করছেন।

★ গ্রাম এলাকায় কুরিয়ার বা হোম ডেলিভারীর সিস্টেম নাই। দেখা যায় ৩০/৪০কি.মি. দুরে গিয়ে কুরিয়ার করতে হয় সাপ্তাহে একদিন। যা উদ্যোক্তাদের জন্য সমস্যার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

★সচেতনতার অভাবে উদ্যোক্তারা পেইজ খুলে কিন্তু ডোমেইন নেয় না। ডোমেইন নিতে মাত্র ১/২ হাজার টাকা লাগে।

★ ট্রেড লাইসেন্স, টিন নিয়ে বলেছেন। গ্রুপে যখন এক লক্ষ ট্রেড লাইসেন্স হলে সরকারি/বেসরকারি অনেক সহায়তা পাওয়া যাবে যা উদ্যোক্তাদের জন্যই ভালো ।

★ উই সরকারি বেসরকারি ভাবে অনেক ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের কোর্সেরা কোর্স। হাইটেক পার্কের কোর্স।

★ সর্বশেষ বলেছেন যে উদ্যোক্তাদেরকে ৩০ হাজার টাকা করে একটা অনুদান দেওয়া যেতে পারে কিছু শর্ত রেখে। তাতে ছোট ছোট উদ্যোক্তারা অনেক এগিয়ে যাবেন। ৫০০ ডেলিভারি চার্জ ফ্রি দিতে পারবে তাহলে।

★ আগামী ৫ বছরের মধ্যে ই-কমার্স অনেক দুর এগিয়ে যাবে।

সবাইকে একজোট হয়ে দেশী পণ্য নিয়ে কাজ করতে বলেছেন, যা স্যারের আলোচনায় বিশদভাবে বলেছেন।