লকডাউন পালনে জেলা প্রশাসনের ১১ নির্দেশনা : অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে

প্রকাশিত: ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২১

লকডাউন পালনে জেলা প্রশাসনের ১১ নির্দেশনা : অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে

Manual2 Ad Code

সৈয়দ আরমান জামী, বিশেষ প্রতিনিধি ॥ মৌলভীবাজার, ০৫ এপ্রিল ২০২১ : দেশে ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে কেভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। মৌলভীবাজারেও রেকর্ড সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এমন ধরনের পরিস্থিতিতে সোমবার ভোর ৬টা থেকে লকডাউনে বাংলাদেশ। এই লকডাউন পালনে মৌলভীবাজারবাসীকে আহবান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। লকডাউন চলাকালে মন্ত্রীপরিষদ থেকে পাঠানো ১১টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

৪ এপ্রিল ২০২১ বিকেলে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই আহবান জানিয়েছেন মীর নাহিদ আহসান।

সেখানে তিনি বলেছেন, ৫ এপ্রিল সোমবার ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল ২০২১ ইংরেজী রাত ১২টা পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কতৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে পালন করতে বিনীতভাবে অনুরোধ করা হলো।

আরোপিত ১১টি নিষেধাজ্ঞা যা বলা হয়েছে, তা নিচে হুবহু দেওয়া হলো:-

Manual4 Ad Code

(১) সকল প্রকার গণপরিবহণ (সড়ক, নৌ, রেল ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে, পণ্য পরিবহণ, উৎপাদন ব্যবস্থা, জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া বিদেশগামী/বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

(২) আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন-ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।

(৩) সকল সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও আদালত এবং বেসরকারি অফিস কেবল জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্য সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় জনবলকে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহণ ব্যবস্থাপনায় অফিসে আনা-নেওয়া করতে পারবে। শিল্প-কারখানা ও নির্মাণ কার্যাদি চালু থাকবে। শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহণ ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া করতে হবে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ কর্তৃক শিল্প-কারখানা এলাকায় নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে তাদের শ্রমিকদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল/চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

(৪) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ঔষধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না।

(৫) খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ (টেকঅ্যাওয়ে/অনলাইন) করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ করা যাবে না।

(৬) শপিং মলসহ অন্যান্য দোকানসমূহ বন্ধ থাকবে। তবে দোকানসমূহ পাইকারি ও খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই সর্বাবস্থায় কর্মচারীদের মধ্যে আবশ্যিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং কোনো ক্রেতা স্বশরীরে যেতে পারবে না।

(৭) কাঁচাবাজার এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে;

(৮) ব্যাংকিং ব্যবস্থা সীমিত পরিসরে চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

Manual8 Ad Code

(৯) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ঢাকায় সুবিধাজনক স্থানে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

(১০) সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।

Manual6 Ad Code

(১১) এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Manual4 Ad Code

প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন নির্দেশনাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।