ইভ্যালির এমডি রাসেল ও স্ত্রী শামীমা নাসরীনের দেশত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২১

ইভ্যালির এমডি রাসেল ও স্ত্রী শামীমা নাসরীনের দেশত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞা

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৯ জুলাই ২০২১ : ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

Manual6 Ad Code

শুক্রবার (৯ জুলাই ২০২১) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানান, রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরীন যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন সেজন্য বৃহস্পতিবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ইভ্যালি ডটকমের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপনে দেশ ত্যাগের প্রচেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ দেশত্যাগ করলে সার্বিক অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যহত হতে পারে প্রতীয়মান হওয়ায় তাদের বিদেশ গমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।”
উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্ট থেকে অনুমোদন নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, “উচ্চ আদালতের একটি রায় আছে কারো বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নিয়ে দিতে হবে, আরেকটি রায় আছে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর আদালতের অনুমতি নিতে হবে।”
দুদকের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইভ্যালির এমডি মোহম্মাদ রাসেলের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে এটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাসেল তার ফেইসবুকে লিখেন, তাদের বিদেশ যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে তিনি ‘পজেটিভলি’ দেখছেন।
তিনি বলেন, “এখন আমরা অনেকটাই প্রফিট এ বিজনেস শুরু করেছি। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাহকদের টাকা আমাদের হাতে আসার সুযোগ নাই। এছাড়া তদন্ত করলেই সবাই দেখবেন, পুরাতন অর্ডার কি পরিমান ডেইলি যাচ্ছে।”
গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অগ্রিম এবং মার্চেন্টের পাওনা ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ ও পাচারের’ অভিযোগে বৃহস্পতিবার ইভ্যালির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে কমিশন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী ও উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালামকে এই অনুসন্ধানের কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে ইভ্যালি ডটকমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠির সঙ্গে ইকমার্স প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাত পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদনও যুক্ত করে দেওয়া হয়।
দুদকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ইভ্যালির বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করে একটি প্রতিবেদন দেয়।
এই প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, “গত ১৪ মার্চ দেখা যায়, ইভ্যালি ডটকমের মোট সম্পদ ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৬ টাকা (চলতি সম্পদ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা) এবং মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৪ টাকা।
“উক্ত তারিখে ইভ্যালি ডটকমের গ্রাহকের নিকট দায় ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের নিকট দায় ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকা। গ্রাহকের নিকট থেকে অগ্রিম হিসেবে গৃহিত ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের নিকট থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকার মালামাল গ্রহণের পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির নিকট কমপক্ষে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার ৯১৪ টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির নিকট সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা ।”
দুদকে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, “ইভ্যালি ডটকমের চলতি সম্পদ দিয়ে মাত্র ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে বা অর্থ ফেরত দিতে পারবে। বাকি গ্রাহক ও মার্চেন্টের পাওনা পরিশোধ করা উক্ত কোম্পানির পক্ষে সম্ভব নয়।
“তদুপরি গ্রাহক ও মার্চেন্টের নিকট হতে গৃহিত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকার কোনো হদিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে গ্রাহক ও মার্চেন্টের নিকট হতে গৃহিত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকা আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে কোনো আর্থিক অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে দুদককে অনুরোধ করা হয়।

Manual6 Ad Code