মুশতাক-তিশা বইমেলার প্রথম জুটি নয়: বের করে দিয়ে কাজটা খারাপই করেছে দর্শনার্থীরা

প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৪

মুশতাক-তিশা বইমেলার প্রথম জুটি নয়: বের করে দিয়ে কাজটা খারাপই করেছে দর্শনার্থীরা

Manual4 Ad Code

রাহাত মোস্তাফিজ |

বইমেলা থেকে মুশতাক-তিশা দম্পত্তিকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অসভ্য দর্শনার্থীরা এই কাজটা খারাপ করেছে। সেইসাথে মেলার নিরাপত্তায় নিয়োজিত লোকজন তাদেরকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়ে লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

Manual3 Ad Code

‘অসম বয়সী’ লেখক দম্পত্তি হিসেবে মুশতাক-তিশা বইমেলার প্রথম জুটি নয়। জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ- মেহের আফরোজ শাওন ওই রেকর্ড অনেক আগে করে রেখেছেন। তিশা-মুশতাকের বয়সের গ্যাপ সম্ভবত ৪০। হুমায়ুন-শাওনের ২৫/৩০ হয়ে থাকতে পারে। ‘অসম বয়স’ বিষয়টা গোলমেলে। বয়সের গ্যাপ ঠিক কত হলে তাকে অসম বয়স বলা যেতে পারে আমার জানা নেই। পার্থক্য যদি কিছু থেকে থাকে, পাবলিকের ভাষ্যমতে, তা হচ্ছে হুমায়ূন ছিলেন শাওনের বাবার বয়সী। জনাব মুশতাক গ্র্যান্ডপা স্থানীয়। কিন্তু কথা সেটা নয়। হুমায়ুন-শাওনকে কখনও তিশা-মুশতাকের মত হয়রানির শিকার হয়ে মেলা থেকে বেরিয়ে যেতে হয়নি। হুমায়ূন লেখক হিসেবে তুমুল জনপ্রিয় হওয়ায় এবং তখন ফেইসবুক-টিকটক না থাকায় হয়তো বেঁচে গেছেন। মুশতাক-তিশা বর্তমানে যথেষ্ঠ আলোচনায় আছেন। তারা ইতিমধ্যে হিরো আলম, জায়েদ খান, শিংগার মাহফুজুর রহমান লেবেলের খ্যাতি অর্জন করে ফেলেছেন। বইমেলা থেকে এরকম বের হতে হওয়ায় এখন জাতীয় পত্রিকার নিউজ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক নিউজ হবেন। আল জাজিরা, ব্রুট, গার্ডিয়ানে তাদেরকে পাওয়া যাবে।

Manual7 Ad Code

আইরনি হচ্ছে দেশের বই, বইমেলা ও লেখকদের নিয়ে সম্ভবত একমাত্র নিউজটি হবে ওদেরকে নিয়ে। অথচ আন্তর্জাতিক মিডিয়া জানবে না প্রতিবছরই কিছু না কিছু ভাল বই বাংলাদেশ বের করে। যেমন ইউরোপ-আমেরিকার লোকজন জানেই না বাংলাদেশ নামক একটা দেশকে ২৩ বছরের আন্দোলন শেষে ৯ মাসের একটা রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হয়। শেষে ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেতে হয়।

Manual6 Ad Code

তিশা-মুশতাকের অপরাধটা আসলে কোথায়? বাংলাদেশের আইনে ১৮ বছরের একটি মেয়ে বিয়ে করতে পারবে। আইনের কোথাও বলা হয়নি ৪০ বছরের গ্যাপ থাকলে কাউকে বিয়ে করা যাবে না।

তিশা ‘সুগার ড্যাডি’ বা ‘গোল্ড ডিগার’ বিয়ে করল কেনো, তাদের বয়সের গ্যাপ এত কেনো হবে এসব নিয়ে জাজমেন্টাল হওয়ার রাইট আমাদের থাকতে পারে, থাকা উচিৎ? নাকি আমাদের গাত্রদাহের কারণ ওরা কেনো এরকম অসম সম্পর্কের পর প্রকাশ্য হবে, ফেইসবুকে লাইভ করবে, হাত ধরে বইমেলায় যাবে, নিজেদের লেখা বইয়ের প্রচার করবে স্টলে দাঁড়িয়ে?

সমাজ নির্ধারিত নৈতিকতা, প্রথা, অনুশাসন না মানলে তাদেরকে আমরা একঘরে ও অস্পৃশ্য করে দেবো? মানে বিষয়টা কি এমন যে ‘এরকম অসম’ সম্পর্ক করেছো তাই তোমাদেরকে লুকিয়ে থাকতে হবে, প্রকাশ্য হওয়া যাবে না, তোমাদের ভাল থাকার, সুখে থাকার ছবি-ভিডিও প্রকাশ করা যাবে না। তোমরা বই লিখতে পারবে না, লিখলেও বইয়ের প্রচারণা করতে বইমেলায় আসতে পারবে না।

এত এত ‘না’ আরোপ করার তুমি কে হে ‘আদম-হাউয়ার’ পুত্র-কন্যারা?

ওদের বই পড়তে ইচ্ছে না হলে পড়ার দরকার নেই। ওদের স্টলের সামনে লাইন ধরে দাঁড়ানোর দরকার নেই। ওরা কী ছবি-ভিডিও আপলোড দিলো দেখার দরকার নেই। লাইভে এসে কী ঘোড়ার ডিম বললো জানার দরকার নেই।

দেশের নাগরিক হিসেবে ওদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা তথা বই লেখার সাংবিধানিক অধিকার আছে, সেই বইয়ের প্রচার – প্রচারণা করার অধিকারও আইন সম্মত। ঠিক তেমনি ওই বইয়ের সমালোচনা করা, কিংবা ওই বই কিনে মেলার মাঠে ছিড়ে ফেললেও সমস্যা নেই। কিন্তু যেটা আমরা করতে পারি না তা হচ্ছে ওদেকে হেনস্থা-অপদস্ত করে মেলা থেকে বের করে দেওয়া কিংবা বের করে দিতে সহযোগিতা করা।

এই কাজটা অপরাধমূলক। আইনের শাসন ঠিকঠাকভাবে চললে যারা এই কাজে সংঘবদ্ধ হয়েছিল তাদের প্রত্যকের শাস্তি হওয়ার কথা। আমি এইসব রাস্কেলদের শাস্তি চাই।

ছবি: তিশা-মুশতাকের ওয়াল থেকে নেওয়া হয়েছে।

Manual2 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ