মব ভায়োলেন্সের শিকার আল্লামা সৈয়দ রায়হান শাহ রহমানপুরী, পুলিশের অভিযানে শেষ রাতে উদ্ধার

প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২৫

মব ভায়োলেন্সের শিকার আল্লামা সৈয়দ রায়হান শাহ রহমানপুরী, পুলিশের অভিযানে শেষ রাতে উদ্ধার

Manual4 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | বাহুবল (হবিগঞ্জ), ০৪ আগস্ট ২০২৫: রহমানপুর দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর, বেশ কয়েকটি ধর্মীয় গ্রন্থের প্রণেতা, অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত অগ্রযাত্রা ও সত্যের আলো পত্রিকা দুটির সম্পাদক, সাপ্তাহিক জা’আল হকের প্রতিনিধি, লেখক, আহলে বাইতের প্রবক্তা ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আল্লামা শাহজাদা সৈয়দ রায়হান শাহ রহমানপুরী মব ভায়োলেন্সের শিকার হয়েছেন।

সরেজমিনে তদন্তে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১ আগস্ট ২০২৫) বিকেলে তিনি বাহুবল থানার অন্তর্গত আশাতলা গ্রামে শায়িত নিজ পিতা পীরে কামেল মুফতিয়ে আজম সাইয়্যেদুনা আবুতাহের রহমানপুরীর মাজারে জেয়ারত করতে যান। জেয়ারত শেষে রাতে তিনি স্থানীয় স্নানঘাট গ্রামের এক ভক্তের বাসায় রাত্রিযাপন করতে গেলে এলাকার একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী তাঁকে ঘিরে ধরে।

Manual5 Ad Code

সরেজমিনে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছয়মাস পূর্বে পরিকল্পিত এক ব্লেম গেইমের অংশ হিসেবে শাহজাদা সৈয়দ রায়হান শাহ ও তার নাতিন সম্পর্কের এক মেয়ের অশ্লীল ছবি নামে-বেনামে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট দিয়ে ভাইরাল করা হয়। এতে শাহজাদা সৈয়দ রায়হান শাহ রহমানপুরীর পারিবারিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। প্রতিপক্ষও এটাই চেয়েছিলো।
উল্লেখ্য যে, ওই এলাকায় নিজ পিতার সমাধি, পারিবারিক কৃষি জমি ও ফার্ম থাকায় বিভিন্ন ভক্ত মুরিদানের বাড়িতে বিগত ১৩ বছর যাবৎ রাত্রিযাপন করতে হয়েছে। এছাড়া শাহজাদা সৈয়দ রায়হান শাহর পিতা মুফতিয়ে আজম সাইয়্যেদুনা আবুতাহের রহমানপুরী (রহঃ) ওই এলাকায় পাকিস্তান আমল থেকেই যাতায়াত। প্রতি বছরই উৎসবমুখর পরিবেশে সমগ্র এলাকার সার্বিক সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় ৩/৪টা বাৎসরিক ওরশ সহ ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি আয়োজিত হয়ে থাকে। ঘটনার দিনও একইভাবে ওই এলাকায় রাত্রিযাপন করেছেন তিনি। এতে কী কারো আপত্তি থাকার কথা?
ছয়মাস পূর্বের বিষয়টিকে হাতিয়ার করে এ রকম মব ভায়োলেন্স গ্রহণযোগ্য না বলে অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া এ বিষয়টি নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলাও নেই।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছয়মাস পূর্বের ফেসবুকে পোস্ট করা অশ্লীল ছবির কথা মাইকিং করে জনতাকে সমবেত হওয়ার আহবান জানিয়ে বলা হয় যে, “শাহজাদা সৈয়দ রায়হান শাহ এলাকায় প্রবেশ করেছেন”, যার জেরে আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ৫ হাজার উত্তেজিত মানুষ জড়ো হয়ে যান এবং ঘটনাস্থলে ভয়াবহ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি মব ভায়োলেন্সের শিকার হন।

ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তাঁর বড় ভাই, খ্যাতিমান গবেষক, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানকে জানানো হলে, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯, বাহুবল থানা এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ফোন করেন। পরে রাতভর অভিযানের মাধ্যমে শেষ রাতে তাঁকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু পুলিশ প্রতিবেদনে উদ্ধারের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে উল্লেখ না করায় পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

বর্তমানে আল্লামা সৈয়দ রায়হান শাহ রহমানপুরীকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে এবং মারাত্মকভাবে জখম ও আঘাতপ্রাপ্ত হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। তবে দীর্ঘ যথাযথ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বিশ্রামের দরকার রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দেশের বিভিন্ন সুফি তরীকতের নেতৃবৃন্দ এবং আলেমসমাজ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

? বিশেষ মন্তব্য:

দেশে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনি একটি উদ্বেগজনক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এভাবে একজন সম্মানিত ধর্মীয় নেতাকে টার্গেট করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। প্রশাসনের উচিত এমন ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং মব ভায়োলেন্স সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

ওয়ার্কার্স পার্টির নিন্দা

মব ভায়োলেন্সের শিকার আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আল্লামা শাহজাদা সৈয়দ রায়হান শাহ রহমানপুরীর ওপর মানহানিকর হামলা ও শারীরিকভাবে জখম এবং মারাত্মকভাবে আঘাত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল এক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, এ ধরনের হামলা ও মব ভায়োলেন্স কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

Manual6 Ad Code

আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের নিন্দা

Manual7 Ad Code

মব ভায়োলেন্সের শিকার আমাদের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, আহলে বাইত ও সুন্নীয়তের অভিভাবক মুফতিয়ে আজম সাইয়্যেদুনা আবু তাহের রহমানপুরী ছাহেবের কনিষ্ঠ শাহজাদা, রহমানপুর দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর, আহলে বাইত ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আল্লামা শাহজাদা সৈয়দ রায়হান শাহ রহমানপুরীর ওপর মানহানিকর হামলা ও শারীরিকভাবে জখম এবং মারাত্মকভাবে আঘাত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সুরেশ্বর দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর সাইয়্যদ শাহসুফী শাহ নূরে বেলাল সুরেশ্বরী।
এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের হামলা নিন্দনীয়। ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি আহলে বাইত, তরীকত ও সুফীবাদের ওপর চরম আঘাত।

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের নিন্দা

Manual8 Ad Code

মব ভায়োলেন্সের শিকার রহমানপুর দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর, আহলে বাইত ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আল্লামা শাহজাদা সৈয়দ রায়হান শাহ রহমানপুরীর ওপর মানহানিকর হামলা ও শারীরিকভাবে জখম এবং মারাত্মকভাবে আঘাত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্টের বিশেষ প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “মব ভায়োলেন্স অন্যায় এবং কোনোভাবেই কোনো সমাজে তা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। কেউ কোনো কারণে সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিবাদ করতে পারে।
এটি মানুষের ক্ষতি করে, সম্পত্তি ধ্বংস করে এবং ভয় তৈরি করে। যে যতই ক্ষুব্ধ হোক না কেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বিপজ্জনক এবং অন্যায্য। তবে উদ্ভূত সমস্যাগুলি সামাজিকভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা উচিত, যেমন সংলাপ, আইন এবং ন্যায়বিচার – সহিংসতা নয়।
মব ভায়োলেন্স কেবল আরও সমস্যা নিয়ে আসে, সমাধান নয়। এটি বন্ধ করতে হবে শক্তিশালী আইন, শিক্ষা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে। মব ভায়োলেন্সকে না বলার ক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই ভূমিকা রয়েছে।”

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ