বিপ্লবী মুকুন্দলাল সরকারের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৫

বিপ্লবী মুকুন্দলাল সরকারের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৫ : ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সাহসী যোদ্ধা, সমাজসেবক এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বিপ্লবী মুকুন্দলাল সরকার-এর ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল (সোমবার) পালিত হবে।

Manual2 Ad Code

গোপালগঞ্জের ধর্মরায়ের ঐতিহ্যবাহী পরিবারে ১৯০৯ সালে জন্মগ্রহণকারী মুকুন্দলাল সরকার জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে দেশ, সমাজ ও মানবকল্যাণে নিজেকে নিবেদন করেছিলেন। তাঁর একাত্তর বছরের কর্মমুখর জীবনে তিনি জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ, কারাবরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গঠন, রাস্তা নির্মাণ, খাল খননসহ অসংখ্য জনহিতকর কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ফলে তিনি গোপালগঞ্জ, খুলনা ও আশপাশের অঞ্চলে আজও একজন প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

Manual3 Ad Code

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধাচরণে সরব ছিলেন মুকুন্দলাল সরকার। পাকিস্তান আমলেও তিনি ন্যায়ের পক্ষে অবিচল ছিলেন। ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাঁকে ‘ডিফেন্স অব পাকিস্তান রুল’ অনুযায়ী গ্রেফতার করে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি করে রাখে।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

দেশ ও সমাজের উন্নয়নে শিক্ষার প্রসারকে অন্যতম অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন তিনি। সমাজসেবার অংশ হিসেবে তিনি নিজ উদ্যোগে গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এসব প্রতিষ্ঠান আজও তাঁর আদর্শ ও মানবকল্যাণে নিবেদিত চেতনার সাক্ষ্য বহন করছে।

Manual2 Ad Code

মুকুন্দলাল সরকারের জীবন ও কর্ম নিয়ে বাংলা একাডেমির পরিচালক, গবেষক ও কবি ড. তপন বাগচী রচিত গ্রন্থ ‘গোপালগঞ্জের মুকুন্দলাল: জনপদের জননেতা’ স্থানীয় পাঠক ও গবেষকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।

Manual8 Ad Code

তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রয়াত মুকুন্দলাল সরকারের কনিষ্ঠপুত্র, সিনিয়র সাংবাদিক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক সিটি এডিটর অজিত কুমার সরকার-এর ধানমন্ডিস্থ বাসভবনে (বাড়ি নং ২৫, রোড নং ৩২, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা) স্মৃতি তর্পণ ও প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া গোপালগঞ্জের হাইশুর এলাকায় অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের জন্য খাবার পরিবেশন ও প্রার্থনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রয়াত নেতার দ্বিতীয় পুত্র কলামলেখক ও এডুকেশন টুডে পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মনীন্দ্র নাথ সরকার, তৃতীয় পুত্র এম আর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার সুভাষ সরকার এবং কনিষ্ঠপুত্র অজিত কুমার সরকার তাঁদের পিতার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় শুভানুধ্যায়ীদের অনুষ্ঠানে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ