গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে মৌলভীবাজারে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৫

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে মৌলভীবাজারে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার | ১২ অক্টোবর ২০২৫ : আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, “জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন” ও অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রবিবার (১২ অক্টোবর ২০২৫) বাদ জোহর মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনা দেওয়ানী মসজিদের সামনে থেকে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতা–কর্মী ও সমর্থকসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। পরে জেলা জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেনের কাছে পাঁচ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করে।

Manual7 Ad Code

জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করে জানান, দাবিগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নিকট পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

Manual1 Ad Code

মিছিল-সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান, জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, সহকারী সেক্রেটারি আলাউদ্দিন শাহ, পৌর আমির হাফেজ মাওলানা তাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমির মো. ফখরুল ইসলাম, রাজনগর উপজেলা আমির আবু রাইয়ান শাহীন, কমলগঞ্জ উপজেলা আমির মো. মাসুক মিয়া, শ্রীমঙ্গল উপজেলা সেক্রেটারি মো. আশরাফুল ইসলাম কামরুল, ছাত্রশিবির শহর সেক্রেটারি কাজী দাইয়ান আহমদসহ দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাইয়ে গৃহীত ‘জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন ও এর ওপর গণভোটের আয়োজন;
২. জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতি চালু করা;
৩. অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা;
৪. “ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার এবং দুঃশাসনের অবসান”;
৫. “স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা”।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। তারা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের কার্যক্রম সীমিত করা হচ্ছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

জেলা জামায়াত নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকার যদি জনগণের এই দাবি উপেক্ষা করে, তবে দেশ আবারও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়বে।”

Manual3 Ad Code

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমন কর্মসূচি ইঙ্গিত করছে যে, মাঠে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে এবং ‘নির্বাচনী পরিবেশ’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।

 

Manual7 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ