ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির জীবনাবসান

প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২০

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির জীবনাবসান

Manual3 Ad Code

নয়াদিল্লি, ৩১ আগস্ট ২০২০: স্বাধীনতা উত্তর সর্বভারতীয় রাজনীতির সফলতম বাঙালি এবং দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ২১ দিন মৃত্যুর সংগে লড়াই করে দিল্লির আর্মি হসপিটাল রিসার্চ অ্যান্ড রেফারালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। সোমবার বিকেল পৌনে ছয়টা নাগাদ তাঁর পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় টুইট করে এ খবর জানিয়েছেন। একদিকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং অস্ত্রোপচার, তার ওপর করোনা সংক্রমণের জোড়া ধাক্কা সামলাতে পারলেন না তিনি।

Manual2 Ad Code

গত ৯ অগস্ট রাতে নিজের দিল্লির বাড়িতে শৌচাগারে পড়ে গিয়েছিলেন প্রণব মুখার্জি। পর দিন সকাল থেকে তাঁর স্নায়ুঘটিত কিছু সমস্যা দেখা দেয়। বাম হাত নাড়াচাড়া করতে সমস্যা হচ্ছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।এমআরআই স্ক্যানে দেখা যায়, তাঁর মাথার ভেতর রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার উন্নতি হয়নি। ১৩ অগস্ট থেকে তিনি গভীর কোমায় চলে যান।
প্রণব মুখোপাধ্যায় দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবিটিসের রোগী। ১০ তারিখ হাসপাতালে ভর্তির পর ধরা পড়ে তিনি কোভিড-১৯ আক্রান্তও হয়েছেন। সেই অবস্থাতেই ওই দিন রাতে দীর্ঘ অস্ত্রোপচার হয়। এরপর থেকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাঁকে। অস্ত্রোপচারের আগে নিজের করোনা সংক্রমিত হওয়ার খবর টুইট করে জানিয়েছিলেন তিনিই। সেটাই ছিল প্রণব মুখোপাধ্যায়ের শেষ টুইট।
প্রণব মুখার্জি ১৯৩৫ সালের ১১ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ছোট্ট মিরাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রমী কামদাকিঙ্কর মুখার্জি এবং মা রাজলক্ষ্মী। প্রণব মুখোপাধ্যায় ২০১২ সালের ২৫ জুলাই ভারতের ১৩ তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি ১৯৬৯ সাল থেকে পাঁচবার ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৪ সাল থেকে দুবার সংসদের নিম্নকক্ষ (লোকসভা) সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২৩ বছর ধরে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
ভারতের রাজনীতিতে যে কয়েকজন মানুষ রাজনৈতিক সাধনায় সাফল্যলাভ করেছেন, প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন তাঁদের অন্যতম। বহু রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে সমকালীন ভারতের রাজনীতিতে তিনি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মহীরুহ। দল মত নির্বিশেষে অজাতশত্রু ভদ্রলোক রাজনীতিকদের কাতারে সম্ভবত তিনিই ছিলেন শেষ ব্যক্তিত্ব। দলমত নির্বিশেষে সবাই তাঁর কাছে যেতেন রাজনৈতিক সঙ্কটমোচনের পরামর্শ নিতে। তাঁর মৃত্যুতে একটা যুগের অবসান ঘটল।
প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়নের চালচিত্রে তাঁর অবদান কেউ মুছে দিতে পারবে না।
প্রণব মুখার্জি ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, পরামর্শদাতা। ২০১৫ সালে প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি এসেছিলেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৬৯ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সাহচর্যে দিল্লিতে। পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, যোজনা কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন যোগ্যতার সঙ্গে।
ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর রাজীব গান্ধীর মন্ত্রিসভায় স্থান না পেয়ে হতাশ হয়ে প্রণব মুখার্জি কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গঠন করেছিলেন। পরবর্তীতে ‘ভুল’ বুঝতে পেরে তিনি সেই দল তুলে দিয়ে কংগ্রেসে ফিরে আসেন। সেই থেকে আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে না পারায় তাঁর খেদ ছিল। কিন্তু সে জন্য দলকে সুপরামর্শ দিতে কখনো পিছু হটেননি। সাধারণ এক বঙ্গসন্তান হিসেবে জন্ম নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন হওয়া এবং সর্বমহলের সম্মান অর্জন করা প্রণব মুখার্জির জীবন ছিল যেন এক স্বপ্নপূরণের কাহিনি।

Manual1 Ad Code

ওয়ার্কার্স পার্টির শোক

Manual2 Ad Code

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।

Manual1 Ad Code

সৈয়দ অামিরুজ্জামানের শোক

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ