ছোট ও মাঝারি শিল্পের প্রণোদনা প্যাকেজের ১০০০০ কোটি টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২০

Manual4 Ad Code

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল ২০২০: করোনা ভাইরাসের মোকাবেলা জনিত পরিস্থিতিতে সঙ্কট থেকে উত্তরণে ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য সরকার যে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে,

Manual5 Ad Code

Bangladesh Bank

Manual7 Ad Code

তার অর্ধেক অর্থের জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Manual2 Ad Code

সেজন্য ১০ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করার পাশাপাশি এই তহবিল থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ হবে, তার নীতিমালা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ করেছে।
সেখানে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো এই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ছোট-মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতের শিল্পোদ্যোক্তাদের ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। এর মধ্যে অর্ধেক, অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পরিশোধ করবে ঋণ গ্রহিতা প্রতিষ্ঠান। বাকি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী ছাইদুর রহমান বলেন, “ব্যাংকগুলোকে সহায়তার জন্যই আসলে এই পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।
“যেসব ব্যাংকের টাকা আছে তারা নিজস্ব তহবিল থেকে শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে। আর যাদের ঘাটতি আছে, তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণ নিয়ে বেশি সুদে বিতরণ করবে।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ এপ্রিল পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে শিল্প খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার কথা ছিল।
শিল্প খাতের ওই ৩০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকার জোগান দিতে গত ২৩ এপ্রিল একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবার করা হল ছোট ও মাঝারি শিল্পের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল জোগানোর জন্য। দুই ক্ষেত্রেই সুদের হার একই রকম রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় বলা হয়েছে, “সরকারের আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের আওতায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং মাঝারি শিল্পে চলতি মূলধন ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা দিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারল্য প্রবাহ নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকার এই আবতর্নশীল পুনঃঅর্থায়ন স্কিম করেছে।”
এই তহবিল থেকে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণ করা ঋণের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ অর্থ পুনঃঅর্থায়ন করা হবে।
স্ক্রিমের নাম হবে ‘করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানে পুনঃঅর্থায়ন স্ক্রিম’।
ছাইদুর রহমান বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার পর অনেক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানায় যে ঋণ দেওয়ার মত পর্যাপ্ত অর্থ তাদের নেই।
“দেশের এই সঙ্কটের সময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে উদ্যোক্তাদের চাহিদা মাফিক ঋণ দিতে পারে, সে লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৫ হাজার কোটি টাকার পর ১০ হাজার কোটি টাকার আরেকটি তহবিল গঠন করেছে।”
সিএমএসএমই খাতে ঋণ সুবিধা দিতে এই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মেয়াদ হবে তিন বছর। এর আওতায় পুনঃঅর্থায়নে আগ্রহী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি করতে হবে।
এই তহবিল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ঋণ বিতরণের পর পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসে বিতরণ করা মোট অর্থের ৫০ শতাংশ পুনঃঅর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে।
আর পুনঃঅর্থায়নের বিপরীতে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সুদ বাংলাদেশ ব্যাংককে পরিশোধ করতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ