আগামীকাল শ্রীমঙ্গল মুক্ত দিবস

প্রকাশিত: ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২৪

আগামীকাল শ্রীমঙ্গল মুক্ত দিবস

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪ : আগামীকাল ৬ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গল মুক্ত দিবস।

Manual1 Ad Code

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গল পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয়। এ কারণে এদিনটিকে মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এই দিনে শ্রীমঙ্গলের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষ শ্রীমঙ্গলে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উড়ায়।
তবে এর আগে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে নিহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। অসংখ্য মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন।
মুক্তির স্বাদ নিতে গিয়ে ত্যাগ স্বীকারসহ অনেক রক্ত ঝরেছে চা বাগান ঘেরা এই জনপদের মানুষের।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর তৎকালীন সংসদ সদস্য আলতাফুর রহমান, কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরৗ ও ফরিদ আহম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বে শ্রীমঙ্গলে গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী।

Manual1 Ad Code

২৩ মার্চ শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সামনে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।

দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে ৬ ডিসেম্বর শহরের ভানুগাছ সড়ক দিয়ে আবারও পৌরসভা চত্বরে প্রবেশ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। সেখানে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে বিজয়ের উল্লাসে মেতে উঠেন তারা। শ্রীমঙ্গলের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমিটি রয়েছে সিন্ধুরখান ইউনিয়নে।
স্বাধীনতা যুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সেদিন মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল এ অঞ্চলের চা শ্রমিকরাও।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন একপর্যায়ে ৩০ এপ্রিল পাক-হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে গণহত্যা চালায় তাদের ওপর যুদ্ধের ব্যাংকার বানানোর কথা বলে শহর সংলগ্ন ভাড়াউড়া চা বাগানে প্রবেশ করে সেখানে এক সঙ্গে ৫৭ জন চা শ্রমিককে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তাদের ওপর গুলি চালায় পাক-বাহিনী।

Manual6 Ad Code

ভাড়াউড়া বধ্যভূমি সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, এখানে ১৯৭১ সালে ৫৭ জন চা শ্রমিককে একসঙ্গে নিয়ে এসে পাক-হানাদার বাহিনী হত্যা করে নির্মমতার এক নজির স্থাপন করেছিল।

তিনি জানান, এই বধ্যভূমির একটি স্মৃতিফলক আছে। শ্রীমঙ্গলে সকল বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বরাবরে আবেদন জমা দেয়া হয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কুমুদ রঞ্জন দেব বলেন, আমরা শ্রীমঙ্গল মুক্ত দিবস পালন করব। উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধারা সকালে শ্রীমঙ্গল বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বধ্যভূমিতে পুষ্প অর্পণ করবে।

Manual1 Ad Code

শ্রীমঙ্গল মুক্তদিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সহ বিভিন্ন সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন সহ বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ