সিলেট ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ৩০ এপ্রিল ২০২৫ : পহেলা মে (মে দিবস) উদযাপন উপলক্ষে শ্রমিকদের সবেতন ছুটি নিশ্চিত করার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (DIFE)-এর স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ উঠেছে শ্রীমঙ্গলে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আফজল হোসেইন অভিযোগ করেন, শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) মো. হাদিউজ্জামান ও সৈয়দ নাহিদ হাসানের কাছ থেকে তিনি অশোভন আচরণ পেয়েছেন, যা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
আফজল হোসেইন জানান, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস একটি সরকারি ছুটি এবং শ্রম আইন অনুযায়ী এই দিনে শ্রমিকদের জন্য সবেতন ছুটি বাধ্যতামূলক। কিন্তু শ্রীমঙ্গলের কিছু প্রতিষ্ঠানে এই ছুটি প্রদান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এই বিষয়টি নিরসন এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি সম্প্রতি DIFE-এর শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ে দায়িত্বরত পরিদর্শকদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় তার সাথে ছিলেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর প্রশিক্ষক, সাপ্তাহিক নতুন কথার বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রণধীর চৌধুরী রঞ্জু।
ভুক্তভোগী শ্রমিক নেতা আফজল হোসেইনের অভিযোগ, আলোচনার শুরুতে তিনি মে দিবসের ছুটির গুরুত্ব এবং শ্রম আইনের বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা (মো. হাদিউজ্জামান ও সৈয়দ নাহিদ হাসান) বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে শোনেননি। তার অভিযোগ, কর্মকর্তারা তার সাথে এমন আচরণ করেন যা অপেশাদার এবং একজন সরকারি কর্মকর্তার পদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি মনে করেন, কর্মকর্তাদের আচরণে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার চেয়ে এক ধরনের উদাসীনতা ও অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আফজল হোসেইন বলেন, “আমরা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সহযোগিতা চাইতে গিয়েছিলাম। সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব শ্রমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু পরিদর্শকদের আচরণ ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক ও অপেশাদার। তারা আমাদের বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে একপ্রকার তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “যদি দায়িত্বশীল পর্যায়ের কর্মকর্তার আচরণ এমন হয়, তাহলে সাধারণ শ্রমিকরা কোথায় গিয়ে তাদের সমস্যার কথা বলবে? এই ধরনের আচরণ শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়াতে পারে এবং শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে।”
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর প্রশিক্ষক, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য, সাপ্তাহিক নতুন কথার বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান জানান, “কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তাকে না পেয়ে, দায়িত্বরত দুই পরিদর্শকের সাথে দেখা করি। জানতে চেয়েছিলাম, মহান মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে তাদের তদারকি ও পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পর্কে।
কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের আচরণ অসৌজন্যমূলক ছিল। প্রায় আধা ঘন্টা যাবৎ বসার জন্যও বলেননি। পরিচয় জানার পরেও তাদের আচরণ অগ্রহণযোগ্য।
মে দিবস উদযাপনে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কোন দায়িত্ব নেই বলে জানান।”
এই ঘটনাটি শ্রীমঙ্গলের শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে জানাজানি হলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই মনে করছেন, শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণের দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তার এমন আচরণ অনভিপ্রেত। তারা আশা করছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো শ্রমিক প্রতিনিধি বা সাধারণ শ্রমিককে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করবেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের আরও বেশি সংবেদনশীল ও পেশাদার হওয়ার উপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি