অবলা নারী

প্রকাশিত: ১০:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৫

অবলা নারী

Manual2 Ad Code

সৈয়দা হাজেরা সুলতানা |

অবলা নারী নও তুমি, শক্তি লুকায় অন্তরে,
সহ্যশক্তির দীপ্তি আছে তোমার গভীর ভরপুর ঘরে।
চোখের জলে লিখে গেলে হাজার অশ্রু-গাথা,
তবু তোমার নীরবতায় গড়ে ওঠে অদম্য ব্যথা।

তুমি জননী, তুমি স্রষ্টা, তুমি আলোর শিখা,
তোমার ত্যাগে জীবন পায় নতুন পথের দিশা।
তোমায় বলা হয় “অবলা”, কত বড়ই না ভ্রান্তি-
তোমার হাতে পৃথিবী পায় জীবনের অমৃত কান্তি।

অবহেলার আঁধার গিলে তবু দাঁড়াও দৃপ্ত ভরে,
অন্যায়কে রুখতে তুমি শক্তি জাগাও ঘরে ঘরে।
নীরবতার প্রাচীরে গড়া তোমার সব কষ্ট,
সেই কষ্টই একদিন হবে জয়ের অমৃতপুষ্ট।

তোমার হাসি রোদ্দুর যেন, সবার মনে ঢালে আলো,
তোমার দুঃখ ছুঁয়ে যায় হৃদয়, তবু তুমি দাও ভালো।
চাপা দুঃখে হার মানো না, শোনাও নিজের গান,
তোমার কণ্ঠে জেগে উঠুক মুক্তির আহ্বান।

তুমি আশার প্রতীক নারী, তুমি সাহসের গান,
তোমার ডাকে কেঁপে ওঠে অশুভ শক্তি, অজান।
অবলা বলে তোমায় যারা করেছে তুচ্ছ ভেবে,
তারা জানে না, ঝড় তুলতে তুমি সক্ষম রবে।

তুমি ইতিহাসের পাতা ভরাও বীরত্বের ছাপ,
তোমার পদচারণায় জাগে নবযুগের আলাপ।
অবলা নারী নও তুমি, তুমি জাগো দীপ্তিতে,
তোমার শক্তি চিরকাল বাঁচে যুগে যুগে স্মৃতিতে।

তুমি প্রেরণা, তুমি আশা, তুমি জীবনধারা,
তুমি আছো শক্তির রূপে, অশেষ সাহস, ধরা।
#

Manual7 Ad Code

লেখক :
সৈয়দা হাজেরা সুলতানা (শানজিদা)
শিক্ষার্থী
পদার্থবিজ্ঞান (সম্মান) ১ম বর্ষ
মুরারিচাঁদ কলেজ
সিলেট।
#

কবিতার সারাংশ:

Manual3 Ad Code

সৈয়দা হাজেরা সুলতানা রচিত “অবলা নারী” কবিতাটি নারীর সামর্থ্য, ধৈর্য, সাহস, এবং আত্মশক্তিকে কেন্দ্র করে রচিত একটি প্রেরণাদায়ক কবিতা। কবিতার মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের “অবলা” বা দুর্বল হিসেবে অভিহিত করার ভুল ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং নারী সমাজকে তার অন্তর্নিহিত শক্তি ও ক্ষমতার স্বীকৃতি দেয়া।

কবিতায় শুরুতেই নারীকে “অবলা” বলে অভিহিত করার প্রচলিত ভ্রান্ত ধারনাকে প্রশ্ন করা হয়েছে। কবি বলেন, নারী নীরব থাকলেও তার অন্তরে অসীম শক্তি লুকিয়ে রয়েছে। তার চোখের জল শুধুমাত্র কষ্টের প্রকাশ নয়, বরং সহ্য করার শক্তি ও মানসিক দৃঢ়তার প্রতীক। নারীর এই ধৈর্য, সহ্যশক্তি এবং আত্মসংযম তাকে নিঃসন্দেহে শক্তিশালী করে তোলে।

কবিতার দ্বিতীয় ভাগে নারীকে জননী, স্রষ্টা, আলোর শিখা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নারীর ত্যাগ ও শ্রমের মাধ্যমে জীবনকে নতুন দিশা, নতুন আলো, এবং নতুন সম্ভাবনার দিকে পরিচালিত করা যায়। যদিও সমাজ নারীর অবদানকে অল্পতায় বা অপ্রমাণিত মনে করে, কবি সেই ভ্রান্তি উস্কে দিয়ে বলেন, নারীর হাতে পৃথিবী পাওয়া যায় নতুন জীবনের সম্ভাবনা।

Manual6 Ad Code

কবিতার মধ্যভাগে নারীকে অবহেলা ও অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়াতে সাহসী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নারীর নীরবতার মধ্যে লুকানো সমস্ত কষ্ট একদিন সমাজে পরিবর্তন ও জয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। নারীর ধৈর্য, সহনশীলতা ও নীরব সংগ্রাম একদিন সমাজে ন্যায় ও স্বাধীনতার আলো বয়ে আনে।

Manual8 Ad Code

পরবর্তী অংশে কবি নারীর সৌন্দর্য, উদারতা এবং সহানুভূতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। নারী দুঃখ, কষ্ট ও চাপা যন্ত্রণা ভোগ করলেও তার হাসি ও ভালোবাসা অন্যের মনকে আলোকিত করে। কবি নারীর কণ্ঠকে মুক্তি ও প্রতিরোধের আহ্বান হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা সমাজের অন্যায় ও অসংগতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক।

শেষাংশে নারীকে আশার প্রতীক, সাহসের গান, ইতিহাসের গর্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সমাজে নারীর ভূমিকা শুধু পরিবার বা ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মূল শক্তি। যিনি একসময় “অবলা” হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিলেন, তিনি আজ ঝড় তুলতে সক্ষম, নতুন যুগের দিশা প্রদর্শন করতে সক্ষম। কবিতা শেষে নারীকে চিরস্থায়ী শক্তির প্রতীক হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে, যা যুগে যুগে স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।

সংক্ষেপে:
কবিতায় নারীকে শক্তিশালী, সহনশীল, উদার, এবং সাহসী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সমাজে দীর্ঘদিন ধরে তাকে “অবলা” বলে ভুলভাবে অভিহিত করা হলেও, নারী তার অন্তর্নিহিত শক্তি, ধৈর্য, ত্যাগ এবং সাহসের মাধ্যমে সমগ্র সমাজকে আলোকিত করতে পারে। কবিতার মূল বার্তা হলো নারী কখনোই অবলা নয়; বরং তিনি পরিবর্তনের, সাহসের এবং নতুন সম্ভাবনার প্রতীক।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ