শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা রবিবার

প্রকাশিত: ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা রবিবার

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ : ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ ও গৌরবময় দিন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শেষ প্রান্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর আলবদর-রাজাকার বাহিনীর পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহিদ বুদ্ধিজীবীরা প্রাণ হারান। নিশ্চিত পরাজয় জেনে স্বাধীনতার ঊষালগ্নে একটি মেধাশূন্য রাষ্ট্র তৈরি করার ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, শিল্পী, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ সমাজের অগ্রগামী চিন্তকদের তালিকা করে হত্যা করা হয়।

ঢাকার রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের ক্ষত-বিক্ষত নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, এই পরিকল্পিত গণহত্যায় আনুমানিক ১২০০ জন বুদ্ধিজীবী শহিদ হন। এটি ছিল বাঙালি জাতির ওপর সংঘটিত ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যার অধ্যায়।

Manual6 Ad Code

শহিদ বুদ্ধিজীবীদের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল—তারা একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক স্বাধীন রাষ্ট্র ও সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই স্বপ্নে পুরো জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রীয় চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার—আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং সাম্যের বিপরীতে সমাজে গড়ে উঠেছে পাহাড়সম বৈষম্য। বিচারের বাণী আজও নীরবে কাঁদে, আর মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় ক্ষমতা ও অর্থের বিনিময়ে।

Manual8 Ad Code

বর্তমান সময়েও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তি এবং ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধী ও তাদের অনুসারীদের নৃশংস উল্লাস সমাজের সর্বত্র দৃশ্যমান বলে অভিযোগ করেন আয়োজকরা। তবে তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লক্ষ শহীদের আত্মদান, আড়াই লক্ষ মা-বোনের নির্যাতন এবং বার শতাধিক বুদ্ধিজীবীর প্রাণ বিসর্জন কখনোই বৃথা যেতে পারে না। শহিদদের গড়ে তোলা সংগ্রাম ও স্বপ্নই আজকের প্রজন্মের চলার পথের পাথেয়।

এই প্রেক্ষাপটে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আগামীকাল ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ (রবিবার) বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পায়রা চত্বরে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের ওপর স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে।

আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের জীবন, সংগ্রাম ও স্বপ্ন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের লড়াইকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানানো হবে। শহিদ বুদ্ধিজীবীসহ সকল শহিদের স্বপ্ন বুকে ধারণ করেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট দীর্ঘদিন ধরে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রাম পরিচালনা করে আসছে এবং আগামী দিনগুলোতেও সারাদেশব্যাপী সেই লড়াই গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

Manual5 Ad Code

উক্ত আয়োজনে সর্বস্তরের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল মানুষ, শিক্ষার্থী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নাগরিকদের সার্বিক সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেছেন আয়োজকরা।

Manual7 Ad Code

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ