বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual2 Ad Code
  • নানা কর্মসূচি ও শ্রদ্ধাঞ্জলিতে স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২৬ : বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও উদ্যোক্তা নুরুল ইসলাম বাবুলের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

এ উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া, মিলাদ ও কোরআনখানিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।

২০২০ সালের ১৩ জুলাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন নুরুল ইসলাম বাবুল। প্রায় এক মাস প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার পর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

১৯৪৬ সালের ৩ মে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নের কামালখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নুরুল ইসলাম বাবুল। তাঁর বাবা আমজাদ হোসেন এবং মা জোমিলা খাতুন। কর্মময় জীবনে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা, শিল্পোদ্যোক্তা এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তাঁর সহধর্মিণী সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য সালমা ইসলাম। তাঁদের একমাত্র ছেলে শামীম ইসলাম বর্তমানে যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিন কন্যা রোজালিন ইসলাম, মনিকা ইসলাম ও সনিয়া ইসলামও গ্রুপের পরিচালক হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনা গ্রুপ বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। বস্ত্র, গার্মেন্টস, ইলেকট্রনিক্স, রাসায়নিক, চামড়া, পানীয়, টয়লেট্রিজ, মোটরসাইকেল, আবাসনসহ বহুমুখী শিল্প ও সেবা খাতে গ্রুপটির ৪১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের বৃহত্তম শপিং কমপ্লেক্স যমুনা ফিউচার পার্ক, নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের মেরিয়ট হোটেলসহ একাধিক বৃহৎ প্রকল্প তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের সাক্ষ্য বহন করছে। তিনি দেশের জনপ্রিয় দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশন-এরও প্রতিষ্ঠাতা।

শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আধুনিক শিল্প ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নুরুল ইসলাম বাবুলের অবদান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাতির কাছে অনন্য মর্যাদা এনে দিয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রদ্ধা

নুরুল ইসলাম বাবুলের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

Manual6 Ad Code

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় নুরুল ইসলাম বাবুলের ভূমিকা দেশের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে তাঁর সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যমুনা ফিউচার পার্কের মতো আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

Manual7 Ad Code

তাঁরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শ্রদ্ধা

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, সাপ্তাহিক নতুন কথা-এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান নুরুল ইসলাম বাবুলের মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নুরুল ইসলাম বাবুল ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক উদ্যোক্তা, যিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী থেকে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং তথ্যপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁর কর্ম, দেশপ্রেম এবং সৃজনশীল নেতৃত্ব থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তরীকত ফেডারেশন ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের শ্রদ্ধা

Manual7 Ad Code

নুরুল ইসলাম বাবুলের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আর্ত মানবতাবাদী সংস্থার চেয়ারম্যান, রহমানপুর দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর ও শাহজাদা সৈয়দ গাউসুজ্জামান রুমান এবং বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম প্রচার সম্পাদক, আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রহমানপুর দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর শাহজাদা সৈয়দ রায়হান শাহ রহমানপুরী।

এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, নুরুল ইসলাম বাবুল শুধু একজন সফল শিল্পপতিই ছিলেন না; তিনি ছিলেন মানবকল্যাণে নিবেদিত একজন দায়িত্বশীল উদ্যোক্তা। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গণমাধ্যম বিকাশে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

Manual3 Ad Code

স্মরণে বহুমাত্রিক অবদান

নুরুল ইসলাম বাবুলের কর্মজীবন ছিল শিল্প, গণমাধ্যম, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনীতির বিকাশে নিবেদিত। একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ থেকে যমুনা গ্রুপকে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীতে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে তিনি দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

আজ তাঁর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছেন। দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, গণমাধ্যমের বিকাশ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে বিভিন্ন মহল অভিমত ব্যক্ত করেছে।