ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর নাটোরে তিন নেতার বাড়িতে ভাঙচুর, আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২৬

ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর নাটোরে তিন নেতার বাড়িতে ভাঙচুর, আতঙ্কে এলাকাবাসী

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | নাটোর, ১০ জুলাই ২০২৬ : নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নে ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তিন নেতার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাওপাড়া ও মাঝিপাড়া এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এসব হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি পরিবারের নারী ও শিশুরা আতঙ্কের মধ্যে পড়েন বলে স্থানীয়দের দাবি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাতে এলাকাজুড়ে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের গাওপাড়া ঢালান এলাকায় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী আকস্মিকভাবে একটি সংক্ষিপ্ত মিছিল করেন। মিছিলটি শেষ হওয়ার পরপরই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের দিকে একদল উত্তেজিত ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঝিপাড়া এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদ বিন আজিজের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন কক্ষ, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ।

এর কিছু সময় পর একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেনের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। সেখানেও ঘরের বিভিন্ন অংশ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। পরে যুবলীগের কর্মী ও স্থানীয় ইটভাটার মালিক নাজমুল হোসেনের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। তিনটি বাড়িতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

Manual3 Ad Code

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলার সময় বাড়ির পুরুষ সদস্যরা নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকা ছেড়ে চলে গেলে নারী ও শিশুরা ঘরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তারা ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হন। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ রাত পর্যন্ত জমা পড়েনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “যারা হামলা করেছে তারা সবাই স্থানীয় লোক। তারা বিএনপির সমর্থক। আমি কিংবা আমাদের পরিবারের কেউ সকালে হওয়া ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নিইনি। তারপরও পরিকল্পিতভাবে আমাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

Manual3 Ad Code

তবে হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেননি কাফুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, “ছাত্রলীগের লোকজন সকালে মিছিল করেছে। বিকেলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও এলাকায় মিছিল করেছে। মিছিলের সময় কিছু ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে যেভাবে ব্যাপক ভাঙচুরের কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তেমন কিছু হয়নি।”

এ বিষয়ে নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, “রাজশাহী ও নাটোর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় রাজশাহী থেকে আসা কয়েকজন যুবক সকালে একটি ঝটিকা মিছিল করে দ্রুত সরে যায়। পরে ভাঙচুরের বিষয়ে পুলিশ অন্য সূত্রে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।”

ওসি আরও জানান, “এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কেউ এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

Manual5 Ad Code

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চাপা অস্থিরতা বিরাজ করছিল। শুক্রবারের ঝটিকা মিছিলের পর সেই উত্তেজনা প্রকাশ্যে রূপ নেয়। হামলার ঘটনার পর অনেক পরিবার আতঙ্কে ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না।

Manual8 Ad Code

জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর রাত পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও নতুন কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ