সাবেক স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২৬

সাবেক স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual4 Ad Code
  • কূটনীতি, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অনন্য অবদানের স্মরণে নানা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা/সিলেট, ১০ জুলাই ২০২৬ : বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অন্যতম পথিকৃৎ হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০০১ সালের ১০ জুলাই তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য থাকাকালীন ইন্তেকাল করেন।

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা ও সিলেটে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পারিবারিক উদ্যোগ এবং হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী স্মৃতি পরিষদ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, কবর জিয়ারত, খতমে কোরআন, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ।

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে সকালে বিভিন্ন সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে তাঁর কর্মময় জীবন, মুক্তিযুদ্ধ, কূটনীতি ও জাতীয় রাজনীতিতে অবদান নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি

হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী ১৯২৮ সালের ১১ নভেম্বর সিলেট শহরের দরগাহ গেট এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘রশিদ মঞ্জিল’-এ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুর রশিদ চৌধুরী ছিলেন অবিভক্ত ভারতের কেন্দ্রীয় আইনসভার সদস্য এবং মাতা সিরাজুন নেছা চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য।

উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। কূটনৈতিক জীবনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন। সে সময় দিল্লিতে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক জনমত গঠন এবং নবজাত রাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ে অসামান্য ভূমিকা রাখেন। বিভিন্ন দেশের সরকার ও কূটনীতিকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি অর্জনের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতের সংসদ অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। কূটনৈতিক অঙ্গনে তাঁর এই অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বিরল অর্জন

হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। বাংলাদেশি হিসেবে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদ অলংকৃত করার গৌরব অর্জন করেন।

স্বাধীনতার পর তিনি জার্মানিতে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও ভ্যাটিকানে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (UNIDO)-এ বাংলাদেশের প্রথম স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের পাশে সাহসী অবস্থান

Manual5 Ad Code

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আশ্রয়হীন অবস্থায় থাকা তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জার্মানিতে নিজ বাসভবনে আশ্রয় দেন হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই মানবিক ও সাহসী ভূমিকার কারণে সে সময়ের ক্ষমতাসীনদের বিরাগভাজন হয়ে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।

রাষ্ট্রপরিচালনা ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন।

স্পিকার হিসেবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, সংসদের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নিরপেক্ষতা, শালীনতা ও সংসদ পরিচালনার দক্ষতা আজও সংসদীয় চর্চায় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সিলেটের উন্নয়নের রূপকার

জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নেও তাঁর অবদান ছিল স্মরণীয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, আধুনিক সিলেট রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।

স্থানীয় মানুষের মতে, আধুনিক সিলেট বিনির্মাণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। উন্নয়ন, শিক্ষা ও অবকাঠামো নির্মাণে তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনা সিলেটের অগ্রগতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।

দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি

কূটনীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ‘কলেজ অব উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি’ তাঁকে ১৯৮৪ সালে ‘মহাত্মা গান্ধী শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করে। পরবর্তীতে তাঁর অসামান্য রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে তাঁকে মরণোত্তর দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করে।

শ্রদ্ধায় স্মরণ

Manual4 Ad Code

২০০১ সালের ১০ জুলাই জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

২৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্র, রাজনীতি, কূটনীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের কূটনৈতিক ফ্রন্টে তাঁর নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সংসদীয় গণতন্ত্র বিকাশে তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী : এক অনির্বাণ আলোকস্তম্ভ
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান |

(২৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি)

আজও জুলাই আসে নীরব শ্রদ্ধা নিয়ে,
বাতাসে বাজে স্মৃতির গভীর বেদনায়;
পঁচিশটি বছর পেরিয়ে গেলেও তবু
বাংলার হৃদয় তোমায় ভোলে না হায়।

যারা চলে যান, সবাই কি হারিয়ে যান?
কেউ কেউ থাকেন সময়েরও ওপারে;
প্রজন্মের মুখে উচ্চারিত হয় নাম,
আলোকবর্তিকা হয়ে দেশের দ্বারে।

তুমি ছিলে তেমন এক দীপ্তিমান প্রাণ,
কূটনীতির আকাশজোড়া উজ্জ্বল নক্ষত্র;
রাষ্ট্রচিন্তার বিশাল প্রাঙ্গণে তুমি
ছিলে এক অনন্য সাহসী চরিত্র।

সিলেটের মাটি তোমায় দিয়েছিল জন্ম,
রশিদ মঞ্জিল জেগে আছে আজও তাই;
ইতিহাস যার প্রতিটি ইটে লেখা,
গৌরবের ধ্বনি মিশে আছে হৃদয়জুড়াই।

Manual2 Ad Code

একটি পরিবার শুধু নয়, এক আদর্শ,
দেশপ্রেম যার উত্তরাধিকার ছিল;
পিতার চেতনা, মাতার অঙ্গীকার
তোমার রক্তে দীপশিখা হয়ে মিলল।

শৈশব থেকেই স্বপ্ন ছিল সুদূরের,
দেশের জন্য কিছু রেখে যাওয়ার তাগিদ;
জ্ঞানকে করেছিলে কর্মের সাথী,
মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল অভ্যাস নিরবধি।

ফরেন সার্ভিসে যোগ দিলে একদিন,
দিগন্ত খুলল নতুন দায়িত্ব নিয়ে;
দেশে দেশে গেলে বাংলাদেশের স্বপ্ন
হৃদয়ের ভেতর আগুন হয়ে জ্বলে।

যখন এল একাত্তরের কালরাত্রি,
মানবতার বুক বিদীর্ণ হলো ক্ষণে;
তখনও তুমি মাথা নোয়াওনি কোথাও,
দাঁড়িয়েছিলে স্বাধীনতার পতাকাতলে।

ক্ষমতার মোহ নয়, বিবেকের ডাকে
ত্যাগ করলে অন্যায়ের সেই আসন;
বাংলাদেশ নামে যে নবজাত জাতি,
তার পক্ষে গড়লে বিশ্বজনের মন।

দেশে দেশে তুমি কড়া নেড়েছিলে,
মানুষকে বলেছিলে সত্যের ভাষা;
স্বাধীনতার ন্যায্য দাবির পক্ষে
জ্বালিয়েছিলে কূটনীতির প্রদীপ আশা।

অসংখ্য দেশের দ্বারে পৌঁছে গেলে,
অক্লান্ত দিনের পর নিদ্রাহীন রাত;
স্বীকৃতির পথে এক নতুন ইতিহাস
তোমার হাতেই পেল দৃঢ় প্রভাত।

দিল্লির মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা
উঁচু করে ধরেছিলে বিশ্বমাঝারে;
মুক্তির ডাককে ভাষায় রূপ দিয়েছিলে
অমলিন সাহসের দীপ্ত উচ্চারণে।

কূটনীতিরও থাকে রণাঙ্গন এক,
যেখানে বুলেট নয়—বাক্যই অস্ত্র;
সেই যুদ্ধে তুমি ছিলে অগ্রসেনানী,
বাংলার বিজয়ে যার গৌরব অপরিসীম।

Manual1 Ad Code

জাতিসংঘের বিশাল অধিবেশনে
সভাপতির আসনে বসেছিলে গর্বে;
বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হলো
বিশ্বমানচিত্রে নতুন মর্যাদার রবে।

এ গৌরব কেবল একজনের নয়,
সমস্ত জাতির অহংকারের দান;
তোমার কণ্ঠে বাংলার মর্যাদা
উঠেছিল বিশ্বসভায় মহিমান্বিত গান।

রাষ্ট্রদূত হয়ে ইউরোপের বুকে
বাংলার পতাকা বহুদূর উড়িয়েছ;
জার্মানি, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড,
মানবিক সেতুর নির্মাতা হয়েছ।

পরমাণু শক্তি, শিল্পোন্নয়ন,
আন্তর্জাতিক নানা দায়িত্বপথ;
যেখানে গিয়েছ, সেখানেই রেখেছ
দূরদর্শিতার সৃজনশীল রথ।

পঁচাত্তরের সেই শোকের অন্ধকারে
যখন থমকে গিয়েছিল সময়;
মানুষের মুখে নেমেছিল আতঙ্ক,
বাংলার আকাশ কেঁদেছিল নিরন্তর।

সেই দুর্যোগে মানবতার আহ্বানে
নিজের ঘর খুলে দিয়েছিলে নির্ভয়ে;
আশ্রয় দিয়েছিলে বিপন্ন দুজনকে—
মানবিকতার মহত্তম পরিচয়ে।

ঝুঁকি ছিল, ভয় ছিল, ষড়যন্ত্রও ছিল,
তবু তুমি ফিরনি ন্যায়ের পথ থেকে;
ইতিহাস জানে—মানুষ বড় হয়
মানুষের জন্য জীবন বাজি রেখে।

রাষ্ট্রের নানা গুরুদায়িত্ব পেরিয়ে
হলে পররাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রী, নেতা;
অভিজ্ঞতার দীপ্ত মহিমায় শেষে
স্পিকারের আসন পেল নতুন ব্যাখ্যা।

সংসদের ভাষা হোক যুক্তির ভাষা,
গণতন্ত্র হোক সৌজন্যের পথ—
তোমার আচরণ শিখিয়েছিল সবাইকে
সংযমই রাজনীতির শ্রেষ্ঠ রথ।

সিলেটের মানুষ তোমায় ডাকে আজও
নিজেদের প্রাণের আপনজন বলে;
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নের প্রাঙ্গণ,
রেলস্টেশনের নান্দনিক অবয়বে।

রাস্তাঘাট, সেতু, শিক্ষা আর উন্নয়ন,
শহরের বুকে ভবিষ্যতের রেখা;
তোমার কর্মে আধুনিক সিলেট
নতুন সম্ভাবনার দুয়ার মেলে দেখা।

উন্নয়ন শুধু ইট-পাথরের নয়,
মানুষের স্বপ্ন গড়ারও আরেক নাম;
তুমি সে স্বপ্নের কারিগর ছিলে,
ইতিহাস রাখবে চিরকাল অবিরাম।

সম্মান এসেছে জীবনের পথ ধরে,
শান্তির পুরস্কার, স্বাধীনতার মান;
কিন্তু সবচেয়ে বড় পুরস্কার তোমার—
মানুষের হৃদয়ে অম্লান সম্মান।

আজ তোমার কবরের নীরব প্রাঙ্গণে
ফুলের সুবাসে জেগে ওঠে প্রার্থনা;
ফাতেহার সুরে ভেসে আসে স্মৃতি,
দোয়ার মিনারে জ্বলে অনন্ত কামনা।

যে মানুষ দেশের জন্য জীবন রাখে,
মৃত্যু তার কাছে চূড়ান্ত নয় কখনো;
আদর্শের দীপ প্রজন্মে প্রজন্মে
জ্বলে থাকে অনির্বাণ আলোকবিন্দু হয়ে।

হে কূটনীতির মহিমান্বিত স্থপতি,
হে সংসদের শালীনতার প্রতীক;
হে স্বাধীনতার বিশ্বজনীন দূত,
তোমার জীবন এক অনন্ত সংগীত।

বাংলার ইতিহাস খুললেই দেখা যায়
একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম;
হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী—তুমি
দেশপ্রেমের এক অবিনশ্বর ধ্রুবধাম।

আজ পঁচিশ বছরের এই স্মরণক্ষণে
নতশিরে জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি;
তোমার কর্ম হোক ভবিষ্যতের পাথেয়,
তোমার আদর্শ হোক আলোর কাব্যভূমি।

যতদিন পদ্মা বইবে আপন স্রোতে,
যতদিন সুরমা গাইবে জলের গান,
ততদিন উচ্চারিত হবে তোমার নাম—
বাংলাদেশের গৌরবের মহাকাব্যসম মান।

হে অনন্য প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক,
হে বিশ্বমঞ্চের গর্বিত বাঙালি,
তোমার জীবন আমাদের প্রেরণা,
তোমার স্মৃতি আমাদের অক্ষয় জ্যোতিশিখা।

আল্লাহ তোমায় জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।
বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ।
সিলেট কৃতজ্ঞ।
জাতি কৃতজ্ঞ।
আর ইতিহাস—
চিরদিন তোমার নাম শ্রদ্ধাভরে উচ্চারণ করবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ