চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলনে চ্যাম্পিয়ন শ্রীমঙ্গলের নটর ডেমের তিন শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২৬

চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলনে চ্যাম্পিয়ন শ্রীমঙ্গলের নটর ডেমের তিন শিক্ষার্থী

Manual7 Ad Code
  • জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে ৭ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপসহ মোট ২৭ গবেষক দলকে পদক প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ : ‘পথচলা, আলোর সাথে’—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী গবেষণা সংগঠন ‘চিন্তার চাষ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ১১তম চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলন ২০২৬।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ৩১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এতে ১২৮টি গবেষণাপত্র, ধারণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপন করা হয়।

সম্মেলনের পুরস্কার বিতরণী পর্বে ‘খ’ গ্রুপ (শিক্ষা) বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীমঙ্গলের নটর ডেম স্কুল এন্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণদ্বীপ পাল, শুভাদিত্য বিশ্বাস, বিবেক রায় রুদ্র। গবেষণায় কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তারা পদকও অর্জন করে।

Manual2 Ad Code

জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে সাতটি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হিসেবে মোট ২৭টি গবেষক দলকে পদক দেওয়া হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকায় দিনব্যাপী এ সম্মেলনের বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)সহ মোট আটটি স্থানে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্ষুদে গবেষকেরা নিজেদের গবেষণাপত্র, ধারণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের চিন্তা, অনুসন্ধিৎসা ও গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে।

গবেষণা শুরু হতে পারে চারপাশের সমস্যা থেকেই

শনিবার সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নিজের চারপাশের সমস্যা চিহ্নিত করে হাতের কাছে থাকা উপকরণ দিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা থেকেই গবেষণার শুরু হতে পারে। গবেষণা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকেই শুরু হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণার আগ্রহ তৈরি এবং তাদের অনুসন্ধিৎসু মনকে বিকশিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই প্রশ্ন করতে, সমস্যা শনাক্ত করতে এবং তার সমাধান খুঁজতে উৎসাহিত করতে হবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ তৈরি করে দেয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির এবং দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের পরিকল্পনা সম্পাদক আসজাদুল কিবরিয়া।

Manual5 Ad Code

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘চিন্তার চাষ’-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। সম্মেলনের আহ্বায়ক ও সংগঠনটির পরিচালক জাহিদুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্যে ‘চিন্তার চাষ’ আয়োজিত ক্ষুদে গবেষক সম্মেলনের ধারাবাহিকতা, উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

৩১৮ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ৩১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা ১২৮টি গবেষণাপত্র, ধারণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপন করে। দিনব্যাপী বিভিন্ন পর্বে শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণার বিষয়, পদ্ধতি, ফলাফল ও সম্ভাব্য প্রয়োগ সম্পর্কে বিচারকদের সামনে উপস্থাপনা করে।

শিক্ষার্থীদের গবেষণার বিষয়বৈচিত্র্য ছিল সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ। বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষাগত ও সমসাময়িক সমস্যা নিয়ে ক্ষুদে গবেষকদের চিন্তা ও অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করে এই আয়োজন। গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিনির্ভর চিন্তা, সমস্যা বিশ্লেষণ, তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনের দক্ষতা বিকাশেও সম্মেলনটি ভূমিকা রাখে।

২৭ গবেষক দলকে পদক ও পুরস্কার প্রদান

দিনব্যাপী শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র ও ধারণাপত্র উপস্থাপন শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে সাতটি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হিসেবে মোট ২৭টি গবেষক দলকে পদক দেওয়া হয়।

Manual8 Ad Code

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘চিন্তার চাষ’-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ইউজিসি অধ্যাপক ড. জেবা আই সেরাজ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোবারক আহমেদ খান এবং প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।

এ সময় অতিথিরা ক্ষুদে গবেষকদের হাতে পদক ও পুরস্কার তুলে দেন। গবেষণার মতো সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার জন্য আয়োজকদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তারা।

শ্রীমঙ্গলের নটরডেমের তিন শিক্ষার্থীর সাফল্য

এবারের সম্মেলনে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের নটরডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভাদিত্য বিশ্বাস, স্বর্ণদ্বীপ ও রুদ্র ‘খ’ গ্রুপ বা শিক্ষা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

জাতীয় পর্যায়ের এ অর্জনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে জাতীয় পর্যায়ের একটি গবেষণা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়াকে শ্রীমঙ্গলের শিক্ষাঙ্গনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য প্রমাণ করে, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে পারে।

সহযোগী অধ্যাপক সুদর্শন শীলের প্রতিক্রিয়া

১১তম চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলনের পুরস্কার বিতরণী পর্বে ‘খ’ গ্রুপ (শিক্ষা) বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনকারী শ্রীমঙ্গলের নটর ডেম স্কুল এন্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভাদিত্য বিশ্বাসের পিতা, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও গণিত বিভাগের প্রধান সুদর্শন শীল তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলন শিশু শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে অনন্য ভুমিকা রাখছে বলে মনে করি। জ্ঞান সৃষ্টিতে গবেষণার বিকল্প নেই। অংশগ্রহণ কারী সকল শিক্ষার্থীদের ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকমণ্ডলীকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাই।”

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের অভিনন্দন

১১তম চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলনে ‘খ’ গ্রুপে (শিক্ষা) চ্যাম্পিয়ন হয়ে পদক অর্জন করায় শ্রীমঙ্গলের নটরডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী শুভাদিত্য বিশ্বাস, স্বর্ণদ্বীপ ও রুদ্রকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে গবেষণায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে শ্রীমঙ্গলের তিন শিক্ষার্থী শুধু নিজেদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেনি, তারা শ্রীমঙ্গল তথা মৌলভীবাজারের জন্যও সম্মান বয়ে এনেছে। তাদের এ অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করবে।

তিনি জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে সাতটি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হিসেবে পদকপ্রাপ্ত মোট ২৭টি গবেষক দলকেও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সম্মেলনে অংশ নেওয়া সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ৩১৮ জন শিক্ষার্থীকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণামুখী চিন্তা ও অনুসন্ধিৎসা তৈরি করা একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “গবেষণার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। বরং ছোট বয়সে প্রশ্ন করার অভ্যাস, নতুন কিছু জানার আগ্রহ এবং সমাজ ও মানুষের সমস্যা নিয়ে ভাবার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের গবেষক ও উদ্ভাবকের ভিত তৈরি হয়।” তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে গড়ে তুলতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৩১৮ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এবং ১২৮টি গবেষণাপত্র, ধারণাপত্র ও পোস্টারের উপস্থাপন প্রমাণ করে যে নতুন প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এই আগ্রহকে প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

গবেষণামুখী প্রজন্ম গঠনে উদ্যোগ

‘চিন্তার চাষ’-এর আয়োজনে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত ক্ষুদে গবেষক সম্মেলন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞানচর্চা ও বাস্তব সমস্যার অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের চারপাশের বিভিন্ন সমস্যা পর্যবেক্ষণ করে সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য সমাধান উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছে।

আয়োজকদের মতে, একটি শিশুর মধ্যে গবেষণার বীজ রোপণ করা গেলে ভবিষ্যতে সে আরও যুক্তিবাদী, অনুসন্ধিৎসু ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এ লক্ষ্যেই ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের গবেষণার সঙ্গে পরিচিত করা এবং তাদের কাজকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য এ সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।

এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র, ধারণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে সেরা গবেষক দল নির্বাচন করা হয়। জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে ২৭টি দলকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হিসেবে পদক দেওয়া হয়।

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এমন গবেষণামুখী উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনুসন্ধান, যুক্তি, উদ্ভাবন ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

নটর ডেম স্কুল এন্ড কলেজের তিন শিক্ষার্থীর মডেল প্রস্তাবনা

মডেল প্রস্তাবনা : SYL_17, নবম দশম শ্রেণীর পাঠ্য বইকে শিক্ষার্থীদের জন্য যথোপযুক্ত? ১১তম চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলনে প্রশ্ন রেখে শ্রীমঙ্গলের নটর ডেম স্কুল এন্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণদ্বীপ পাল, শুভাদিত্য বিশ্বাস, বিবেক রায় রুদ্র গবেষণাপত্রে যৌথভাবে লিখেছেন, “একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি গঠন এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে টিকে থাকার পেছনে শিক্ষার ভূমিকা সবচেয়ে বড়। আর এই শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হলো পাঠ্যবই এখান থেকেই শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা পায়। আমরা এই গবেষণায় চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইকে ভারত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থার সাথে মিলিয়ে দেখতে, যাতে বোঝা যায় আমাদের পাঠ্যবইয়ের ভালো দিক কোথায়, দুর্বলতা কোথায় এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এটাকে আরও উন্নত করা যায়। গবেষণায় আমরা পরিমাণগত ও গুণগত দুই ধরনের পদ্ধতিই একসঙ্গে ব্যবহার করেছি, যাতে শুধু সংখ্যার হিসাব না হয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতাও উঠে আসে। নটরডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সেন্ট মার্থাস হাই স্কুল মিলিয়ে মোট ২৫০ জন শিক্ষার্থীর ওপর একটি কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নমালা জরিপ চালানো হয়। এর পাশাপাশি অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, যাতে ক্লাসরুমের বাস্তব চিত্রটাও ধরা পড়ে। এছাড়া NCTB, NCERT, UNESCO, OECD এবং World Bank-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবই মৌলিক জ্ঞান দেওয়ার দিক থেকে মোটামুটি ভালো হলেও ব্যবহারিক শিক্ষা, গবেষণাভিত্তিক কাজ, সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের দিক থেকে এখনও অনেক জায়গায় উন্নতির সুযোগ আছে। তুলনামূলক অংশে দেখা যায়-ভারতের জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) দক্ষতা ও যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়; ইরান গণিত-বিজ্ঞানে কাঠামোগতভাবে শক্তিশালী হওয়ায় আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে ধারাবাহিক ভালো ফল করে চলেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা প্রকল্পভিত্তিক কাজ, দলগত শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তি-নির্ভর শিখনকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়। এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই আমরা বাংলাদেশের ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইকে আরও আধুনিক, গবেষণামুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার জন্য কিছু বাস্তবসম্মত সুপারিশ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
আশা করি এই গবেষণা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও নীতিনির্ধারকদের কিছুটা হলেও কাজে আসবে।”

Manual7 Ad Code

আয়োজনের বাংলা ও ইংরেজি গণমাধ্যম সহযোগী ছিল যথাক্রমে বণিক বার্তা ও দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ