কমরেড ফজলে হোসেন বাদশার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১:১৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

কমরেড ফজলে হোসেন বাদশার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

Manual2 Ad Code
  • বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবিচল বাম রাজনীতির এই নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ : বাংলাদেশের বাম রাজনীতির পরিচিত মুখ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য কমরেড ফজলে হোসেন বাদশার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী আজ, ১৫ অক্টোবর।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সমাজতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এই রাজনীতিক শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।

Manual2 Ad Code

রাজশাহীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উঠে আসা ফজলে হোসেন বাদশা বামপন্থী আন্দোলন, ছাত্ররাজনীতি ও সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম প্রধান দিক হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করা।

বাম রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলা

Manual2 Ad Code

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বামপন্থী রাজনীতির বিকাশ ও সংগঠন গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন ফজলে হোসেন বাদশা। রাজশাহীতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর মতো সংগঠনের কার্যক্রমের মধ্য দিয়েও তরুণদের মধ্যে প্রগতিশীল রাজনৈতিক চেতনা বিকাশের ধারায় ভূমিকা রাখেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে যুক্ত হয়ে দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করা, বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য এবং জনগণের মৌলিক দাবি-দাওয়াকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

সংসদে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার

রাজশাহী-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফজলে হোসেন বাদশা বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভূমিকা রাখেন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক বৈষম্য নিরসনের প্রশ্ন তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব পেয়েছে।

তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অর্থনৈতিক সমতা, সামাজিক মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য শর্ত। এ কারণে সংসদীয় রাজনীতির পাশাপাশি রাজপথের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সাংগঠনিক তৎপরতাকেও তিনি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

Manual7 Ad Code

বৈষম্যহীন সমাজের প্রত্যাশা

ফজলে হোসেন বাদশার রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে রয়েছে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রচিন্তা এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। তাঁর দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পূর্ণ বাস্তবায়ন বলতে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করাও বোঝায়।

বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সম্পদ ও সুযোগের বৈষম্য কমানো, সাধারণ মানুষের স্বার্থকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখা এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রগতিশীল শক্তির ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে তাঁর রাজনৈতিক ধারা। একই সঙ্গে রাজশাহীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততাও উল্লেখযোগ্য।

সহযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান এক বিবৃতিতে ফজলে হোসেন বাদশার রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ও জনগণের গণতান্ত্রিক একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠাসহ বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে কমরেড বাদশার সংগ্রাম আজও আমাদের প্রেরণা।”

তিনি কমরেড ফজলে হোসেন বাদশার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

আদর্শিক রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে বামপন্থী রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এমন বাস্তবতায় কমরেড ফজলে হোসেন বাদশার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা তাঁর দলীয় সহযোদ্ধা ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

Manual6 Ad Code

তাঁর ৭৪তম জন্মবার্ষিকীতে সহকর্মী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ কর্মময় জীবন কামনা করছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ