সিলেট ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
খাদ্যশিল্পের হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে দ্রুত প্রবিধান চূড়ান্ত করার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ : দেশে অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবারের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসজনিত অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনে সহজবোধ্য, স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক সতর্কতামূলক লেবেল বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তাঁদের মতে, খাদ্যশিল্পের প্রভাবমুক্ত থেকে ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করা প্রয়োজন।
বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এ দাবি জানান।
গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় ‘অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য-প্যাকেটের সামনে সতর্কতামূলক লেবেল: অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়’ শীর্ষক এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে।
ওয়েবিনারে জানানো হয়, দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খান। এসব খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বি থাকায় বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে, খাদ্যপণ্যের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টিতথ্য সহজে বুঝতে না পারায় ভোক্তাদের পক্ষে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেছে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে প্যাকেটের সামনের অংশে সতর্কতামূলক লেবেল থাকলে খাবারের পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাওয়া সম্ভব।
বক্তারা জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এফওপিএল-সংক্রান্ত একটি প্রবিধানমালার খসড়া তৈরি করেছে। তবে খসড়াটি এখনো খাদ্য মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে বাধ্যতামূলক লেবেলিংয়ের পরিবর্তে স্বেচ্ছামূলক ব্যবস্থা চালু, বাস্তবায়নের সময়সীমা বাড়ানো, ছোট প্যাকেটকে ছাড় দেওয়া এবং সতর্কবার্তার পরিবর্তে কম দৃশ্যমান বা বিভ্রান্তিকর লেবেল ব্যবহারের মতো বিভিন্ন দাবি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, খসড়া প্রবিধানমালাটি বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর সঙ্গেও কাজ চলছে। প্রবিধানমালাটি দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে। এসব রোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা জরুরি। বাধ্যতামূলক এফওপিএল খাদ্যাভ্যাসজনিত অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই খাদ্য কোম্পানির হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে খসড়া প্রবিধানমালাটি দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে।
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, প্যাকেটজাত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রকৃত পুষ্টিমান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের স্পষ্ট ধারণা দিতে সতর্কতামূলক এফওপিএল সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, এফওপিএল বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) ৩.৪ লক্ষ্য অর্জনের পথও সুগম হবে।
দৈনিক ইত্তেফাকের চিফ রিপোর্টার এম শামসুদ্দীন আহমেদ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এফওপিএল একটি কার্যকর পদক্ষেপ। খসড়া প্রবিধানমালাটি দ্রুত চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রোগ্রাম অফিসার (ডায়েট রিলেটেড রিস্ক ফ্যাক্টর) সামিনা ইসরাত এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কনসালট্যান্ট আমিনুল ইসলাম সুজন।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠানটির কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা।
এতে নাগরিক সমাজ, এনজিও, যুবসমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি