কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ : কারাবন্দি সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, হামলা, গ্রেফতার ও পেশাগত অধিকার খর্বের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শেখ জামালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের ওপর দমন পীড়ন, মামলা ও চাকরিচ্যুতির ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় শুরু হওয়া নিপীড়নের ধারা বর্তমান সরকারের আমলেও অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

Manual5 Ad Code

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সাংবাদিক শাকিল আহমেদ, ফারজানা রূপা, শ্যামল দত্ত ও মোজাম্মেল বাবু কারাগারে রয়েছেন। দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি থাকায় তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। একইসঙ্গে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।

Manual6 Ad Code

তারা অভিযোগ করেন, একাধিক হত্যা মামলায় এসব সাংবাদিককে আসামি করা হলেও তদন্ত ও বিচারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। বারবার জামিনের আবেদনও নাকচ হচ্ছে। এর মধ্যে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে তাদের পেশাগত কর্মকাণ্ডকে সামনে আনার ঘটনায় সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বক্তারা।

সংগঠনের সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে শাহরিয়ার কবীর, মোজাম্মেল বাবু, শ্যামল দত্ত, শাকিল আহমেদ, ফারজানা রূপাসহ সারা দেশে ৫২ জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন এখনও কারাগারে রয়েছেন।

তিনি বলেন, এ সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১১৮ জন সাংবাদিক হামলা ও শারীরিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ১৫ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সারা দেশে ৪৪৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শেখ জামাল আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে বিপুলসংখ্যক সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড। জাতীয় প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন প্রেসক্লাবের প্রায় ৭০০ সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। অর্ধশতাধিক সাংবাদিকের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং ৪৭ জনের ব্যাংক হিসাব বন্ধ রাখা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক গাজী তুষার আহমেদ ও শেখ ইমন আহমেদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসঙ্গে নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

Manual6 Ad Code

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ইমন, সদস্য সাজেদা হক, একেএম ওবায়দুর রহমান, রাগেবুল রেজা, ওয়ারেছুন্নবী খন্দকার, নাঈমুর রহমান স্বপন, হাসনাত শাহিন, রহিমা খানম, শফিউর রহমান, মাজেদুল ইসলাম পাপেল, সুজিত সজীব ও রমজান আলী প্রমুখ।