পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে পানি ঢুকছে, উদ্বিঘ্ন কৃষকরা

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২২

পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে পানি ঢুকছে, উদ্বিঘ্ন কৃষকরা

Manual2 Ad Code

সুনামগঞ্জ, ০২ এপ্রিল ২০২২ : উজানে ভারতের আসাম ও মেঘালয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদী সহ অন্যান্য নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিভিন্ন হাওরে পানি ঢুকে পড়েছে।
শনিবার দুপুরে পাটলাই নদীর পানির অতিরিক্ত চাপে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের নজরখালি বাঁধ ভেঙে জেলার সবচেয়ে বড় হাওর টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকছে। এতে দক্ষিন শ্রীপুর ও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত টাঙ্গুয়ার হাওরের এক চতুর্থাংশ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে বলে স্হানীয় সুত্রে জানা যায়।এই ঘটনায় স্থানীয় বোরো চাষীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে জানান টাঙ্গুয়ার তীরবর্তী স্থানীয় উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন চেয়াম্যান মোঃ আলী হায়দার।
তিনি বলেন,এবারে হাওরে খুব ভালো বোরো ফসল হয়েছিল। কৃষকটা ফসল নিয়ে খুব আশাবাদী ছিলেন যে, কয়দিনের মধ্যে তারা ফসল কেটে ঘরে তুলবেন। কিন্তু আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে কৃষকের সে স্বপ্ন ভেঙ্গে যাচ্ছে। তিনি এ অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের জন্য সরকারের বিশেষ সহায়তা কামনা করেন। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়,সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গেল ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ১৮৮ সেন্টিমিটার ও ও যাদুকাটা নদীর পানি ১৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে। সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে পুরো জেলার বিভিন্ন নদ নদীর পানি ক্রমশ বাড়ছে। এরফলে পানির মাত্রাতিরিক্ত চাপ থাকায় বিভিন্ন হাওরে নির্মিত ফসল রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। আবার কোথাও কোথাও বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুদ্দোহা জানান, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশের স্থানগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জ জেলায় প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে নদ-নদীগুলোর পানি সমতল এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এবারে বোরো ফসল রক্ষায় সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৭২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ১২০ কোটি টাকা ব্যয় করে ৫৩০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করেছে সরকার। সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় ৫২টি হাওরে এবছর ২ লাখ ২২ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে জমির ধান পাকা শুরু হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ