বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের প্রথম আন্তর্জাতিক আহ্বান

প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২৫

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের প্রথম আন্তর্জাতিক আহ্বান

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৪ আগস্ট ২০২৫ : বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা ১৯৭৯ সালে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার খুনিদের বিচারের দাবি উত্থাপন করেন, এটি ছিল বিশ্বদরবারে এ নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের প্রথম আহ্বান জানান।

Manual8 Ad Code

১৯৭৯ সালের ১০ মে তিনি স্টকহোমে ইউরোপীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিও’র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে সর্ব-ইউরোপীয় বাকশালের এক সম্মেলনে বক্তৃতার মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সেই আবেগঘন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের ওপর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টির সেই অনন্য নজির ইতিহাসের পাতায় ভাস্বর হয়ে আছে।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা মহান এই নেতার খুনিদের বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে আওয়াজ তুলতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর দিল্লিতে বসবাসরত শেখ হাসিনা তখন ইউরোপে অবস্থানরত তার ছোট বোন রেহানাকে সে সময় তৎকালীন সেনা সমর্থিত বাংলাদেশ সরকারের ওপর বৈশ্বিক চাপের জন্য আওয়াজ তুলতে পাঠান।
এই ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ মাহমুদ ২০২২ সালে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে বলেন, শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণা ছাড়া সম্মেলনটি আয়োজন করা সম্ভব হতো না। একই সঙ্গে শেখ রেহানা যদি আমাদের সঙ্গে উদ্যোগী না হতেন, তাহলে আমরা আজকের এই উজ্জ্বল দিন দেখতে পেতাম না।

ইতিহাস বলে শেখ রেহানা প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়ামস, কিউসি’র সাথে দেখা করার পরিকল্পনা করেন। স্যার টমাস ইউলিয়ামস আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী ছিলেন। তিনি ড. শফিকের সাথে হাউস অফ কমন্সে স্যার টমাসের সাথে দেখা করেন, তাকে সর্ব-ইউরোপ বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতির পদ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি এই অনুরোধ ফেলতে পারেননি।

Manual6 Ad Code

১৯৮০ সালের ১৬ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার পঞ্চম বছর স্মরণে একটি বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল- যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ছিল। এতে শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং স্যার টমাস উইলিয়ামস, কিউসি প্রধান বক্তা ছিলেন।

আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির ডক্টর কনরাড উড এবং ব্রিটিশ লেবার পার্টির দুইজন আইনপ্রণেতা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সেখানে স্যার টমাস উইলিয়ামস ঘাতকদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

১৯৮০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর লন্ডনের হাউস অফ কমন্সের কাছে একটি রেস্তোরাঁয় এই প্রবীণ আইনজ্ঞ আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। এই কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি নিজে এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও আইরিশ আইনজীবী শন ম্যাকব্রাইড ছিলেন এই কমিটির অন্যতম সদস্য। জেফরি টমাস এমপি ও সলিসিটর অ্যাব্রে রোজ ১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভিসার আবেদন করেন, তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি ফেব্রুয়ারিতে হাউস অফ লর্ডস পর্যন্ত গড়ায়।
তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড ক্যারিংটনসহ অনেকে এ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি ১৯৮২ সালের ২০ মার্চ বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার এবং জাতীয় চার নেতা হত্যার প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করে।

Manual2 Ad Code

আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) ২০২২ সালে এক ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করে। অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম সভা পরিচালনা করেন।
তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিতে যুক্তরাজ্য, সুইডেন ও ইউরোপের অন্যান্য অংশে গৃহীত উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা যদি সে সময় বিদেশে না থাকতেন, তাহলে কতদিন যে আমরা নিপীড়নের শিকার হতাম? আর কতদিন যে আমরা ঘাতকদের ষড়যন্ত্রের শিকার হতাম তা আমরা জানি না।’
তিনি আরো বলেন, তাঁরা লন্ডনে বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে দলকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের জন্য সোচ্চার হয়েছেন। তাঁরা শন ম্যাকব্রাইডের অধীনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং দেশে ফিরে ঘটনা তদন্তে সহায়তা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু, তৎকালীন জিয়াউর রহমান সরকার তাদের ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অর্জন ধ্বংস হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সেই সব অর্জন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আমরা আমাদের সংবিধানের মূল চারটি স্তম্ভে ফিরে এসেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়েছে। জাতি পাকিস্তানের প্রেতাত্মা ও তাদের দালালদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।’

 

Manual8 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ