চট্টগ্রামে ধর্মীয় মহাসমারোহে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) ও হযরত শাহ্ ধনমিয়া (রহঃ)-এর ওরস উদযাপিত

প্রকাশিত: ১১:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৫

চট্টগ্রামে ধর্মীয় মহাসমারোহে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) ও হযরত শাহ্ ধনমিয়া (রহঃ)-এর ওরস উদযাপিত

Manual5 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | হাটহাজারী (চট্টগ্রাম), ১৩ অক্টোবর ২০২৫ : গভীর ধর্মীয় শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক ভালোবাসার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পালিত হলো পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) ও হযরত শাহ্ ধনমিয়া (রহঃ)-এর ৬৯তম বার্ষিক ওরস শরীফ।

সোমবার (১৩ অক্টোবর ২০২৫) দিনব্যাপী এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় শফিনগর, ধলাই ইউনিয়নের গাউসিয়া খয়রিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘আঞ্জুমানে মুহিব্বানে হযরত শাহ ধনমিয়া (রহঃ)’ ও ‘হযরত খায়রুজ্জামান শাহ মাইজভাণ্ডারী উরস উদযাপন কমিটি’। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ ধর্মীয় আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, মুরিদ ও শুভাকাঙ্ক্ষী অংশ নেন।

Manual5 Ad Code

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পীর-ই-তরীকত হযরত আল্লামা কাজী মুহাম্মদ সাদেকুর রহমান হাশেমী, সভাপতি, আঞ্জুমানে আশিকানে মুস্তফা (দঃ) বাংলাদেশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ চিশতী আশরাফী, চেয়ারম্যান, চিশতিয়া তরিকত মিশন বাংলাদেশ।
বিশেষ বক্তা হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন খ্যাতনামা ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ জালালী।

Manual8 Ad Code

মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, সভাপতি, শফিনগর গাউসিয়া খয়রিয়া দরবার শরীফ। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম চৌধুরী।

“ভালোবাসাই ইসলামের প্রকৃত শক্তি”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর-ই-তরীকত হযরত আল্লামা কাজী মুহাম্মদ সাদেকুর রহমান হাশেমী বলেন,
“বাংলাদেশ ওলি-আউলিয়াদের দেশ। তাঁরা ভালোবাসা, সহনশীলতা ও চারিত্রিক উৎকর্ষের মাধ্যমে এই দেশে ইসলাম প্রচার করেছেন। আজ কিছু উগ্রপন্থী ইসলামকে বিকৃত করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে—যার সঙ্গে হক ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। নবী করিম (সা.) কখনও সহিংসতার আশ্রয় নেননি; বরং তাঁর মহান চরিত্র ও আদর্শই ইসলামের প্রকৃত শক্তি।”

Manual1 Ad Code

অন্যান্য বক্তারা বলেন, ওলি-আউলিয়াগণ ছিলেন শুধু ধর্মপ্রচারক নন, তাঁরা মানবতার আলোকবর্তিকাও ছিলেন। তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

মিলাদ, আখেরি মোনাজাত ও তাবারুক

আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র মিলাদ ও আখেরি মোনাজাত। এতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, মানবকল্যাণ, এবং দেশের উন্নতি-সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।
মোনাজাতের সময় হাজারো মুসল্লির কণ্ঠে উচ্চারিত “আমিন, আমিন” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গাউসিয়া খয়রিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা।
আখেরি মোনাজাত শেষে উপস্থিতদের মধ্যে তাবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জানান, প্রতিবছর এ দরবার শরীফে আয়োজিত ওরস শরীফ হাটহাজারীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম আধ্যাত্মিক সমাবেশে পরিণত হয়েছে।

Manual6 Ad Code

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ