সিরাজদিখানে শুরু চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব

প্রকাশিত: ১১:২৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২৬

সিরাজদিখানে শুরু চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব

Manual8 Ad Code
  • পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ), ১২ জুলাই ২০২৬ : পাঠাভ্যাস বিস্তার, জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলার প্রত্যয়ে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশব্যাপী চলমান ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের অংশ হিসেবে রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

Manual3 Ad Code

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিরাজদিখান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিনথিয়া হোসেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জামসেদ ফরিদী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, লেখক-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিপুলসংখ্যক বইপ্রেমী দর্শনার্থী।

আয়োজকরা জানান, আগামী ১৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলার স্টল সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বই বিক্রির পাশাপাশি প্রতিদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, পাঠচক্র, সাহিত্যভিত্তিক আলোচনা এবং পাঠপ্রেমী মানুষের অংশগ্রহণে নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ইউনিট ইনচার্জ অমিত চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “দেশব্যাপী এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলার লক্ষ্য হলো পাঠচর্চার প্রসার ও মননশীল সমাজ গঠন। বইকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য। এ মেলার মাধ্যমে আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঠপ্রেমী মানুষদের কাছে বই পৌঁছে দিতে চাই।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের এই সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ আগের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে। এমন বাস্তবতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করে তুলতে এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা এ ধরনের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত ও নিয়মিত করার আহ্বান জানান।

Manual4 Ad Code

মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করছে উপজেলা প্রশাসন, সিরাজদিখান, মুন্সিগঞ্জ।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদের পাঠক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত বই সহজলভ্য করার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হবে।

Manual4 Ad Code

মেলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসে বই সংগ্রহের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করছেন। বিভিন্ন প্রকাশনার বইয়ের পাশাপাশি শিশু-কিশোর সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন, গল্প-উপন্যাস, কবিতা ও সমকালীন নানা বিষয়ের বই প্রদর্শিত হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

“জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল যাত্রা”— কমরেড আমিরুজ্জামান

এদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠক, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা-এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজ-এর সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান মেলার সফলতা কামনা করে বলেন, “আলোকিত মানুষ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের হাত ধরে ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করেছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ৪৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীন, চিন্তাশীল ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরির নিরলস সাধনায় নিবেদিত।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কোনো গৎবাঁধা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার এক সজীব অঙ্গন। অনুসন্ধিৎসু ও সৌন্দর্যপ্রবণ মানুষদের মিলনস্থলই এই কেন্দ্র। বই পড়ার অভ্যাস, জ্ঞানচর্চা এবং রুচিশীল সংস্কৃতি বিকাশই এর মূল লক্ষ্য।”
সিরাজদিখানে অনুষ্ঠিত এ ভ্রাম্যমাণ বইমেলা প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “জ্ঞান, মনন ও সৃজনশীলতার এই উজ্জ্বল যাত্রায় সিরাজদিখানের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে। জ্ঞানপিপাসু মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘আলোকিত মানুষ গড়ার’ আন্দোলন আরও বেগবান হবে।”

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ বইমেলা, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার এবং পাঠাভ্যাস উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বই পড়া কর্মসূচি, মুক্তপাঠ, সাহিত্যচর্চা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি মুক্তচিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীল সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল যুগে বইয়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ। আয়োজকদের বিশ্বাস, সিরাজদিখানের এ আয়োজন স্থানীয় জনগণের মধ্যে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।