শিল্প-সাহিত্যের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করছে ‘ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন’

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২৬

শিল্প-সাহিত্যের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করছে ‘ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন’

Manual2 Ad Code
  • ১৫ আগস্টের মধ্যে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, চলচ্চিত্র-সমালোচনাসহ বিভিন্ন ধরনের লেখা আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২৬ : বাংলাদেশের ইতিহাসে যুদ্ধ, গণআন্দোলন, রাষ্ট্রীয় সংঘাত ও সামাজিক প্রতিরোধের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাকে শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের আলোকে মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘অনুপ্রাণন’।

Manual6 Ad Code

পত্রিকাটির পঞ্চদশ বর্ষের তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হবে বিশেষ সংখ্যা হিসেবে। এর উপজীব্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে—‘বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে যুদ্ধ ও সংঘাত (দ্বিতীয় পর্ব)’।

Manual7 Ad Code

সম্পাদকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণআন্দোলন, সামাজিক প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সংঘাত এবং সেসব ঘটনার শিল্প-সাহিত্যিক প্রতিফলন নিয়ে মৌলিক ও গবেষণাধর্মী রচনা আহ্বান করা হয়েছে।

আগামী ১৫ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে লেখকদের ওয়ার্ড ফাইলে লেখা ই-মেইলে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আধুনিক বাংলা শিল্প-সাহিত্যে পলাশীর যুদ্ধ, সিপাহী বিদ্রোহ, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, গণমানুষের সংগ্রাম এবং দেশভাগ-পরবর্তী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সৃজনশীল উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্যের স্বতন্ত্র বিকাশের সূত্রপাত ঘটে ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, যা পরবর্তীকালে স্বাধীনতার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য-সংস্কৃতির ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ সংখ্যার আহ্বানপত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলার ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, মনু মিয়ার আত্মদান, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আসাদসহ গণআন্দোলনের বিভিন্ন অধ্যায় এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সাহিত্য, শিল্প ও চলচ্চিত্রে গভীর ছাপ রেখে গেছে।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন, শরণার্থী সংকট, বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো ঘটনাগুলো শুধু ইতিহাসের দলিল নয়; বরং বাংলাদেশের সৃজনশীল চর্চার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসও এই বিশেষ সংখ্যার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞপ্তিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, একই বছরের নভেম্বরে সিপাহী বিদ্রোহ, সামরিক শাসনের দীর্ঘ সময়, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন, ডা. মিলনসহ শহীদদের আত্মদান, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার উত্থান, ২০০৭ সালের ১/১১-এর রাজনৈতিক পরিবর্তন, ২০০৮ সালে গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন, ২০১৩ সালের শাহবাগ গণজাগরণ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস কেবল রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নয়; বরং এটি সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ, প্রতিরোধ এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক ধারাবাহিক ইতিহাস। তবে এই দীর্ঘ সংগ্রামের পরও সমাজে বৈষম্য, দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনার বাস্তবতা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে যুদ্ধ ও সংঘাতের শিল্প-সাহিত্যিক উপস্থাপন শুধু অতীতের ইতিহাসচর্চা নয়, সমসাময়িক সমাজ-বাস্তবতার প্রতিও নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রতিফলন কেবল রক্তক্ষয়ী ঘটনার বর্ণনা নয়; বরং একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষা, মানবিক চেতনার বিকাশ, ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদেরও প্রতীক। শিল্প-সাহিত্য মানুষের বেদনা, ক্ষয়ক্ষতি ও ট্র্যাজেডিকে নন্দনতাত্ত্বিক ভাষায় রূপ দিয়ে সমাজের বিবেককে জাগ্রত করে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি সঞ্চার করে।

Manual8 Ad Code

এই বিশেষ সংখ্যার জন্য গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, মুক্তগদ্য, গবেষণামূলক নিবন্ধ, বই-আলোচনা, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র-সমালোচনা, মঞ্চনাটক, যাত্রাপালা, চিত্রকর্ম, ব্যঙ্গচিত্র, স্মৃতিকথা এবং নন-ফিকশনসহ বিভিন্ন ধারার মৌলিক লেখা আহ্বান করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সম্প্রতি শিল্প, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের জীবন, কর্ম ও অবদান নিয়ে স্মারকধর্মী বিশেষ প্রবন্ধও প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতিজগতের অন্যান্য প্রয়াত গুণীজনদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য লেখকদের অংশগ্রহণ কামনা করা হয়েছে।

আগ্রহী লেখকদের আগামী ১৫ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ওয়ার্ড ফাইল আকারে তাঁদের লেখা troimasik@anupranon.com ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ‘ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন’ কর্তৃপক্ষ।

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশের ইতিহাস, শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে যুদ্ধ, সংগ্রাম এবং সামাজিক রূপান্তরের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাকে নথিবদ্ধ করার এই উদ্যোগ গবেষক, সাহিত্যিক, শিল্পী, চলচ্চিত্র-সমালোচক এবং সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ