সিলেট ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
অসুস্থ মানুষের সেবায় স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছেন তিনি, অবদান রাখতে চান এ পেশায়
নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন তানজিদা আহমেদ তাকিয়া। স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার। নানা প্রতিকূলতায় সে পথে এগোনো সম্ভব না হলেও মানুষের সেবা করার সেই আকাঙ্ক্ষা থেমে থাকেনি। শেষ পর্যন্ত নার্সিং পেশাকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছেন তানজিদা—বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) অধীনে অনুষ্ঠিত বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের লাইসেন্সিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।
তানজিদা আহমেদ তাকিয়া সাউথ সিলেট কোম্পানী লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সদস্য এবং দৈনিক জনতার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি শাহাব উদ্দিন আহমদের কন্যা। তিনি মৌলভীবাজারের হোয়াইট পার্ল নার্সিং কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের লাইসেন্সিং পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একই দিন বিএনএমসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির অনুমোদনক্রমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বিএনএমসির রেজিস্ট্রার হালিমা আক্তার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার ফলাফলের এ তথ্য জানানো হয়।
পাসের হার ৭৬.৯৫ শতাংশ
বিএনএমসির প্রকাশিত ফলাফলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, এবারের বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের লাইসেন্সিং পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৪২ জন। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৮৩১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১০ জন এবং একজন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ৪২২ জন। অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পাসের হার ৭৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
একই দিনে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি, ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি এবং ডিপ্লোমা ইন পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি কোর্সের শিক্ষার্থীদের লাইসেন্সিং পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়।
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেকে নার্সিংয়ে
তানজিদার পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা করার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার আকাঙ্ক্ষা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তবে করোনাভাইরাস মহামারির সময় দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা না হওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে তাঁর পড়াশোনায়ও প্রভাব পড়ে।
পরবর্তীতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় চিকিৎসক হওয়ার পথটি আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি। তবে মানুষের সেবা করার মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাননি তিনি। সেই লক্ষ্য পূরণে নার্সিং পেশাকে বেছে নেন তানজিদা।
তাঁর মতে, একজন নার্স রোগীর চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিকিৎসকের পরামর্শ বাস্তবায়ন, রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রতি নজর রাখা এবং প্রয়োজনের সময় রোগী ও স্বজনদের পাশে থাকার মাধ্যমে একজন নার্স সরাসরি মানবসেবায় যুক্ত থাকেন। তাই নার্সিং পেশার মধ্য দিয়েও মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ রয়েছে—এই উপলব্ধি থেকেই তিনি এ পেশায় আসার সিদ্ধান্ত নেন।
ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা
লাইসেন্সিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভবিষ্যতে নার্সিং বিষয়ে আরও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে তানজিদা আহমেদ তাকিয়ার। তিনি নার্সিং বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করতে চান। পেশাগত জীবনে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি রোগীদের আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা করাই তাঁর লক্ষ্য।
নিজের এ সাফল্যের পেছনে বাবা-মা, পরিবারের সদস্য, স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়ির সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন তানজিদা। তাঁদের উৎসাহ ও সহযোগিতা ছাড়া এ পর্যায়ে আসা সম্ভব হতো না বলেও তিনি মনে করেন।
তাঁর বাবা শাহাব উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। বাবার প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণ করতে চান তানজিদা। জীবনের পরবর্তী পথচলায় পরিবারের দোয়া ও সবার শুভকামনা প্রত্যাশা করেছেন তিনি।
শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান
তানজিদা আহমেদ তাকিয়ার বিএসসি ইন নার্সিংয়ের লাইসেন্সিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবরে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথার বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি তানজিদার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে নার্সিং পেশার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নার্সিং শুধু জীবিকা নির্বাহের একটি মাধ্যম নয়; এটি মানবসেবা, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা।
তিনি বলেন, অসুস্থ মানুষের শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিকভাবে পাশে থাকার ক্ষেত্রেও নার্সদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রোগীর কষ্ট, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সময়ে একজন নার্সের আন্তরিক আচরণ রোগীর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। ধৈর্য, সহনশীলতা, মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নার্সরা প্রতিদিন রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন।
সৈয়দ আমিরুজ্জামান আরও বলেন, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের ঐতিহাসিক সেবার আদর্শ নার্সিং পেশার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। যুদ্ধক্ষেত্র ও মহামারির সময়ে মানুষের সেবায় তাঁর ভূমিকা নার্সিং পেশার মানবিক দিককে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরেছে। আধুনিক নার্সিং ব্যবস্থায়ও মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজিদা আহমেদ তাকিয়া ভবিষ্যতে পেশাগত দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নার্সিং পেশায় অবদান রাখবেন এবং অসুস্থ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন।
স্বপ্ন এখন মানুষের সেবায়
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও মানুষের সেবা করার আকাঙ্ক্ষাকে ভিন্ন পথে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তানজিদা আহমেদ তাকিয়া। বিএসসি ইন নার্সিংয়ের লাইসেন্সিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তাঁর সেই দীর্ঘ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
এখন তাঁর লক্ষ্য পেশাগত জীবনে নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা এবং অসুস্থ মানুষের পাশে থেকে নার্সিং পেশায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা। শৈশবের মানুষের সেবা করার স্বপ্নকে পেশাগত জীবনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে চান তিনি।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি