শ্রীমঙ্গলে টমটম ‘রূপান্তর’ কারখানায় অভিযান, আটক ২

প্রকাশিত: ১১:৫৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে টমটম ‘রূপান্তর’ কারখানায় অভিযান, আটক ২

Manual5 Ad Code
  • তিনটি টমটম ও বিপুল যন্ত্রাংশ উদ্ধার; গাড়ির মালিকানা ও উৎস নিয়ে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : এক টমটমের যন্ত্রাংশ খুলে অন্য টমটমে সংযোজন করে ‘নতুন’ গাড়ি তৈরির অভিযোগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় তিনটি টমটম ও বিভিন্ন গাড়ির বিপুল পরিমাণ খোলা যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজারের মদিনা অটো অ্যান্ড পার্টস নামের প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন শ্রীমঙ্গলের মুসলিমবাগ এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া (১৮) এবং মৌলভীবাজারের কালিয়ারগাঁও এলাকার সৈয়দ আবু তালেব আলীর ছেলে সৈয়দ মহিন আলী (৩৭)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এএসআই আবু তালেব ও এএসআই সুমনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি থেকে তিনটি টমটম উদ্ধার করা হয়। এসব গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় এগুলো চোরাই কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ। একই সঙ্গে বিভিন্ন টমটমের খোলা যন্ত্রাংশও জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি টমটম চুরির ঘটনায় আটক রিপন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভৈরবগঞ্জ বাজারের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রহিম মিয়া নামে আরও একজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আটক সৈয়দ মহিন আলীর বিরুদ্ধে পুরোনো ও সন্দেহজনক টমটম এবং অন্যান্য গাড়ি কেনার পর সেগুলোর যন্ত্রাংশ খুলে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। পরে এক গাড়ির যন্ত্রাংশ অন্য গাড়িতে সংযোজন করে টমটম তৈরি করে বিক্রি করা হতো—এমন অভিযোগও রয়েছে।

তবে উদ্ধার হওয়া গাড়ি ও যন্ত্রাংশের প্রকৃত উৎস, মালিকানা এবং এগুলোর সঙ্গে কোনো চুরি বা অবৈধ লেনদেনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, টমটমের ব্যাটারি আলাদাভাবে বিক্রি করা হতো। ওই ব্যবসার মাধ্যমে ২০টির বেশি টমটম কিস্তিতে চালকদের কাছে দেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন। এসব গাড়ির উৎস, মালিকানা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ ছাড়া ভৈরব বাজার, ইমামবাজার ও আশপাশের এলাকায় ওই ব্যবসায়ীর আরও কয়েকটি কারখানা বা গুদাম থাকতে পারে বলেও স্থানীয়দের দাবি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অভিযানে উদ্ধার হওয়া টমটম ও যন্ত্রাংশের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, টমটম ও যন্ত্রাংশ কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পরিবর্তে শুধু পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে লেনদেন করা হয়েছে—প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ তথ্যের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান ও তদন্ত এখনো চলমান থাকায় এ মুহূর্তে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

Manual7 Ad Code

আটক দুজন বর্তমানে শ্রীমঙ্গল থানায় রয়েছেন। উদ্ধার করা তিনটি টমটম ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশও থানায় রাখা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

Manual5 Ad Code

পুলিশের তদন্তে এখন মূলত উদ্ধার হওয়া তিনটি টমটমের মালিকানা ও কাগজপত্র, জব্দ করা যন্ত্রাংশের উৎস, কিস্তিতে দেওয়া টমটমগুলোর সংগ্রহস্থল এবং কথিত অন্য কারখানা ও গুদামের সঙ্গে এ ব্যবসার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।