নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৫

প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৫

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | মৌলভীবাজার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : মৌলভীবাজারে কলেজছাত্র রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর পাঁচ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

Manual5 Ad Code

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকার মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মো. নুরুল ইসলাম, আব্দুল আজিজের ছেলে মো. সাইমন ইসলাম, নুরুল ইসলামের ছেলে নাহিদুল ইসলাম রনি এবং আব্দুল কাদিরের ছেলে আনোয়ার হোসেন। তাঁদের মধ্যে নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন—
বর্ষিজোড়া এলাকার ইদন মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া, নাজিরাবাদ ইউনিয়নের সাহিদ মিয়ার ছেলে আল আমিন, বর্ষিজোড়া এলাকার মো. রমিজ মিয়ার ছেলে সাকির আহমদ ওরফে শাকিল এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল ইসলামের স্ত্রী পারভীন বেগম ও মেয়ে রুকশানা আক্তার।

যেভাবে হত্যা

Manual5 Ad Code

মামলার এজাহার ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদা নেওয়াকে কেন্দ্র করে নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন বর্ষিজোড়া গ্রামে নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে চেরাগ মিয়া ও তাঁর স্ত্রী শামসুন নাহারকে গালাগাল ও মারধর করা হয়।

এ সময় নাঈম বিষয়টি থামাতে এগিয়ে গেলে আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় নাঈমকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ঘটনার দুই দিন পর, ৯ নভেম্বর নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। পরে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৬৮(১) ধারার বিধান অনুযায়ী তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। রায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Manual3 Ad Code

রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট, আপিলের কথা আসামিপক্ষের

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, এ রায়ে প্রকৃত অপরাধীদের সাজা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিচারব্যবস্থা ও আইনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

Manual5 Ad Code

নিহত নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও তাঁর স্বজনেরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফনিলাল ধর জানিয়েছেন, তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।