ন্যূনতম নাগরিক অধিকার সুরক্ষার দাবি ওয়ার্কার্স পার্টির

প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬

ন্যূনতম নাগরিক অধিকার সুরক্ষার দাবি ওয়ার্কার্স পার্টির

Manual6 Ad Code
  • আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ : দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মব নৈরাজ্য, হত্যা, ধর্ষণ, সম্পত্তি দখল, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর ৩১/এফ তোপখানা রোডের শহীদ রাসেল মঞ্চে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেছেন, জনগণের ন্যূনতম নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নুর আহমদ বকুল বলেন, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারে চলমান সরকার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না। তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি, সন্ত্রাস, মব নৈরাজ্য, হত্যা, ধর্ষণ, বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি দখল এবং রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলা করে সভা-মিটিং ভণ্ডুল করার মতো ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতির কারণে জনগণের ন্যূনতম নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকারও যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে না। নিয়মিত কর প্রদান করেও নাগরিকেরা প্রত্যাশিত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেতা বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিরও সমালোচনা করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট শুধু জনজীবনেই নয়, কৃষি থেকে শিল্প—সব ধরনের উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হলে এর প্রভাব অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নুর আহমদ বকুল। তিনি বলেন, এসব মৌলিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা প্রদর্শন জরুরি। এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সরকারের প্রতি জনআস্থা আরও কমে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

Manual1 Ad Code

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন নুর আহমদ বকুল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন শক্তি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

Manual4 Ad Code

তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে দক্ষিণপন্থী মৌলবাদী শক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রসঙ্গ উঠে আসে। এসব শক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

নুর আহমদ বকুল বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জনগণের অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। সরকারের উচিত রাজনৈতিক বিরোধ ও সংকট মোকাবিলায় দমন-পীড়নের পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া।

‘অপারেশন দমন’ ও সাইবার আইন নিয়ে সমালোচনা

দমন-পীড়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলার উদ্যোগের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, স্বৈরাচারী দমন-পীড়নের সহজ পথে গিয়ে ‘অপারেশন দমন’ কিংবা সাইবার আইনের নামে নিপীড়নমূলক আইনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সরকারের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, সুশাসনের পরিবর্তে দমনমূলক ব্যবস্থা জোরদার হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই সরকারের উচিত নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

রাশেদ খান মেননসহ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবি

দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেননসহ সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তির দাবি জানান নুর আহমদ বকুল।

একই সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা কমরেড ফজলে হোসেন বাদশাসহ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক বিরোধ ও মামলা-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধানে রাজনৈতিক পরিবেশকে স্বাভাবিক করার উদ্যোগ প্রয়োজন।

যৌথ কর্মী সভায় সাংগঠনিক কর্মসূচি

Manual8 Ad Code

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর ওয়ার্কার্স পার্টির আহ্বায়ক সাদাকাত হোসেন খান বাবুল। সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা তাপস দাস।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য শরীফ শমসির এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক কিশোর রায়।

সভায় বক্তারা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। আগামী ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেস সফল করার লক্ষ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

কংগ্রেস সামনে রেখে দলের প্রতিটি সাংগঠনিক স্তরে সদস্যপদ নবায়নের যে কার্যক্রম চলছে, তা অব্যাহত রাখার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে দলকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার বিষয়ে কর্মীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নাগরিক অধিকার, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক সংকট এবং দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ