বাড়ছে আবাসনের চাপ, পরিকল্পিত নগরায়ণই বড় চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত: ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২৬

বাড়ছে আবাসনের চাপ, পরিকল্পিত নগরায়ণই বড় চ্যালেঞ্জ

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ : ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়।

নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা, পরিকল্পিত নগরায়ণ, নাগরিক সুবিধার সমবণ্টন এবং টেকসই নগর গড়ে তোলার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিই দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৮৫ সালে অক্টোবরের প্রথম সোমবারকে বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর ১৯৮৬ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন ও বসতি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন, “দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আবাসন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারলে আগামী দিনে বাংলাদেশের নগরগুলোতে বসবাসের সংকট আরও তীব্র হবে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ, জমির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অপরিকল্পিত আবাসন, যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ এবং নাগরিক সেবার অসম বণ্টন নগরজীবনকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে।”

ঢাকার ওপর বাড়ছে জনসংখ্যার চাপ

বাংলাদেশে নগরায়ণের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে রাজধানী ঢাকায়। দেশের প্রশাসন, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের বড় একটি অংশ রাজধানীকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছেন। এর ফলে আবাসন, পরিবহন, পানি, পয়োনিষ্কাশন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য নাগরিক সেবার ওপর বাড়ছে চাপ।

ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করছে। ২০০০ সালে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে ঢাকা বিশ্বের নবম জনবহুল নগর ছিল। মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে জনসংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল নগরে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নগরায়ণের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখে পৌঁছাতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগরীতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপুল এই জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন, পরিবহন, পানি, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

সবার জন্য আবাসন এখনো অধরা

নগরায়ণের সঙ্গে আবাসনের চাহিদা দ্রুত বাড়লেও সবার জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এখনো বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে জমির মূল্য ও বাড়িভাড়া ক্রমাগত বাড়ায় নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য মানসম্মত আবাসন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

অনেক পরিবারকে আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত বাড়িভাড়া বহন করতে হচ্ছে। আবার অনেক নিম্নআয়ের মানুষ শহরের প্রান্তিক ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাস করছেন। এসব এলাকায় নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের মতে, আবাসনকে শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসার বিষয় হিসেবে দেখলে সমস্যার সমাধান হবে না। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বাসস্থান মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। তাই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

Manual5 Ad Code

অপরিকল্পিত নগরায়ণে বাড়ছে সংকট

দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যথাযথ পরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা না থাকায় দেশের বিভিন্ন শহরে অপরিকল্পিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠছে। বিশেষ করে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় জলাশয়, খাল, কৃষিজমি ও জলাভূমি ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠায় পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হচ্ছে।

Manual3 Ad Code

নগরবিদরা বলছেন, একটি শহরের পরিকল্পনা শুধু ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। আবাসিক এলাকার পাশাপাশি পর্যাপ্ত খোলা জায়গা, পার্ক, খেলার মাঠ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, গণপরিবহন, বাজার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা আগে গড়ে উঠছে, পরে নাগরিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর ফলে শহরের ওপর চাপ বাড়ছে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষায় গুরুত্ব

নগর সম্প্রসারণের কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিজমি, জলাশয় ও জলাভূমি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। নগরায়ণের প্রয়োজন থাকলেও অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস করে শহর সম্প্রসারণ করা হলে এর নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পুরো নগর ব্যবস্থার ওপর পড়ে।

জলাশয় ও জলাভূমি নগরের পানি ধারণ ও নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হারিয়ে গেলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে কৃষিজমি কমে গেলে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের ওপরও চাপ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞরা তাই নতুন নগর ও আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমির ব্যবহার, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার চাপ বিবেচনায় নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

ঢাকার বাইরে কর্মসংস্থান বাড়ানোর তাগিদ

নগরবিদদের মতে, শুধু ঢাকায় নতুন আবাসন নির্মাণ করে রাজধানীর আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়। কারণ ঢাকায় মানুষের আসার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসার সুযোগ।

তাই দেশের অন্যান্য অঞ্চল ও শহরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন এবং উন্নত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে পরিকল্পিতভাবে উন্নত করা গেলে রাজধানীমুখী মানুষের প্রবাহ কমানো সম্ভব হবে।

বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহসহ অন্যান্য বড় শহরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, ব্যবসা ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে ঢাকার ওপর অতিরিক্ত চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাশ্রয়ী আবাসনের দিকে নজর

বিশ্ব বসতি দিবসের মূল বার্তাগুলোর একটি হলো—শহর হবে সবার জন্য। কিন্তু বাস্তবে নগরের জমি ও আবাসনের বাজারে নিম্নআয়ের মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত। ফলে আবাসন নীতিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাড়ানো যেতে পারে। একই সঙ্গে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং পরিকল্পিত ভাড়াভিত্তিক আবাসনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

Manual1 Ad Code

শুধু শহরের কেন্দ্রভাগে আবাসন নির্মাণ না করে গণপরিবহননির্ভর পরিকল্পিত উপশহর ও নতুন নগরকেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। এতে আবাসনের চাপ কমার পাশাপাশি কর্মস্থল ও আবাসনের দূরত্বও কমানো সম্ভব হবে।

যানজট ও নাগরিক সেবার অসম বণ্টন

ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যানজটও নগরজীবনের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান ও অন্যান্য প্রয়োজনে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করেন। অপরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান ও আবাসিক এলাকার মধ্যে ভারসাম্যের অভাব যানজট বাড়িয়ে তুলছে।

অন্যদিকে পানি, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বিনোদনের সুযোগও সব এলাকায় সমান নয়। নগরের একটি অংশে আধুনিক নাগরিক সুবিধা থাকলেও অন্য অংশে মৌলিক সেবার ঘাটতি রয়েছে।

টেকসই নগরায়ণের জন্য তাই শুধু নতুন রাস্তা বা ভবন নির্মাণ নয়, বরং নগরের সামগ্রিক অবকাঠামো ও সেবাব্যবস্থাকে জনসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ফলে ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। অতিবৃষ্টি, বন্যা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনা না করে নগর সম্প্রসারণ করলে ভবিষ্যতে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, পর্যাপ্ত সবুজ এলাকা, জলাধার সংরক্ষণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছাড়া টেকসই নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা

নগরবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের নগরায়ণকে এখনই দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। একটি শহরের আবাসন, পরিবহন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, পানি, পয়োনিষ্কাশন ও নাগরিক সেবা—সবকিছুকে একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে শুধু রাজধানী নয়, দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরগুলোকেও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রয়োজন। জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকেন্দ্রীকরণ করা গেলে রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমবে এবং দেশের ভারসাম্যপূর্ণ নগরায়ণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমি ব্যবহারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ, জলাশয় ও কৃষিজমি সংরক্ষণ, সাশ্রয়ী আবাসন, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং নগর প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

‘সবার জন্য নগর’ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার

Manual5 Ad Code

বিশ্ব বসতি দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি নগরবাসীর অধিকার ও ভবিষ্যৎ নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। দ্রুত নগরায়ণের বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কীভাবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও বাসযোগ্য নগর নিশ্চিত করা যায়।

ঢাকার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার চাপ সেই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। নগরবিদদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আবাসন, যানজট, পরিবেশ ও নাগরিক সেবার সংকট আরও গভীর হবে।

তাই টেকসই নগরায়ণের স্বার্থে ঢাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধা ছড়িয়ে দেওয়া, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা, কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে নগর সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।

বিশ্ব বসতি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য তাই বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ শুধু একটি প্রতিপাদ্য নয়—দ্রুত পরিবর্তনশীল বাংলাদেশের নগর ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি জরুরি নীতিগত অঙ্গীকার।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ